ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, প্রথম দফার ভোট কাল

    নিউজ ডেস্ক:

     

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এই দফার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।

    প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যের মোট ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    তবে প্রচারণার শেষ দিনে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তার গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনায় তৃণমূল-সমর্থিত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

    এদিকে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এক নেতা হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নন্দীগ্রামের মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান।

    প্রথম দফায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন।

    এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন লড়াইয়ে রয়েছে, তেমনি বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম), ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)সহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে অধিকাংশ আসনেই মূল লড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

    প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদায়ন গুহ (দিনহাটা), সেচমন্ত্রী মানষ ভূঁইয়া (সবং), শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ) এবং সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।

    বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা (ময়না) এবং ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।

    কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) এবং আলী ইমরান রামজ (চাকুলিয়া)। এছাড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৩৭৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভেতরে ও বাইরে অন্তত দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে কর্মকর্তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

    এছাড়া ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮৮টি কিউআরটি মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।

  • যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

    যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম

     

    যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের প্রায় ১,৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই এর অর্ধেকেরও বেশি স্কুল মেরামত করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মধ্যে ৭৭৫টির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও হরমোজগান প্রদেশে।’

    কাজেমি আরও জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর সংস্কার কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। যুদ্ধকালীন সময়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে অথবা অন্যান্য মাধ্যমে, এমনকি ‘ইরানিয়ান টেলিভিশন স্কুলের’ মাধ্যমেও পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিহত হন। নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোকানুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।

  • একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

    একাধিক শহরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

     

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের একাধিক শহরে বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি প্রধান চত্বরে ‘ঘদর’ নামক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সমাবেশে উপস্থিত জনতা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেয়। পাশাপাশি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন কমান্ডার মজিদ মৌসাভিকে তেলআবিবে হামলার আহ্বান জানায়।

    একই সময়ে তেহরানের আরেকটি বড় চত্বরে সমাবেশে ‘খোররামশাহর-৪’ নামের আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির সঙ্গে লক্ষ্য হিসেবে কাতারের একটি গ্যাস কোম্পানির ছবি লাগানো ছিল।

    শুধু তেহরানেই নয় ইরানের দক্ষিণের সিরাজ, উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ এবং মধ্যাঞ্চলের যানযান শহরেও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই ইরানের বিভিন্ন চত্বরে এসব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে ইরানের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করেন। দেশটির সরকারি ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাধারণ মানুষকে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

     

     

    নানা নাটকীয়তা ও হুঙ্কারের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে নতুন করে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
    অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধকে যুদ্ধের শামিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারাও হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিচ্ছে না।

    এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
    এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়ে জানান, ইরান চুক্তি না করলে যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলা হবে। সিএনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ফের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের সেনারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

    অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান ফের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরানি বাহিনী নতুন অনেকগুলো চমকের আয়োজন করেছে। তবে ইরানি বাহিনী নতুন সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য তাদের চমকে কী রেখেছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো নতুন যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকান ও ইসরাইলিদের জীবন আবার নারকীয় করতে ইরান প্রস্তুত।

    তথ্যের বরাতে তাসনিম নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানের নতুন করে আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ফের যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
    এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া দুইটি জাহাজকে জব্দ করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বুধবার হরমুজে জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    ইউকেএমটিও বলেছে, প্রথম হামলাটি ওমানের ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। প্রথমে আইআরজিসির গান বোট জাহাজটির কাছে আসে এবং গুলি ছুড়ে। এতে জাহাজটির কমান্ড ডেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজের সকল ক্রু নিরাপদে আছেন।

    আরেক জাহাজে হামলা হয়েছে ইরানের ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। সেখানে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ছোড়া হয়। জাহাজটি এখন জলসীমায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
    ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় এই জাহাজে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরাও নিরাপদে আছেন।
    বিবিসির বিশ্লেষণী রিপোর্ট বলছে, হরমুজ প্রণালিতে একই দিনে তিন জাহাজে হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    এসব হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
    সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের অনুরোধ বিবেচনা করছে তেহরান। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া পোটে তিনি লিখেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান সঠিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

  • বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    নিউজ ডেস্ক:

    বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় কেবল অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়; বরং কোন রাষ্ট্র নিজেকে কতটা “অপরিহার্য” করে তুলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করে তার প্রকৃত কৌশলগত অবস্থান। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে আসছে—যেখানে সীমাবদ্ধতাকেই সম্পদে রূপান্তর করা হয়। বিপরীতে ভারত, বৃহৎ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্যতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু দশকের নীরব সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও নিশ্চিত করে। এই অঞ্চলে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ—প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, জ্বালানি নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক—থাকা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভারত প্রান্তিকই থেকে গেছে।

    এই কৌশলগত অবস্থানের সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় চলমান পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন ভূমিকা সাধারণত সেই রাষ্ট্রগুলিই পায়, যাদের ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিকল্প কম থাকে। পাকিস্তান সেই অবস্থান তৈরি করেছে তার সামরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুমুখী সম্পর্কের মাধ্যমে—যেখানে একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে এই ধারা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জার-এর গোপন চীন সফরের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই ছিল মূল চালিকা শক্তি, যার মাধ্যমে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন চীন-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ পায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমর্থন আফগান মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এমনকি ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান একসঙ্গে সহযোগী ও চ্যালেঞ্জ—দুই ভূমিকাতেই থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, পাকিস্তানের কৌশল কোনো একক সরকারের নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি।

    পাকিস্তানের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে তার পারমাণবিক সক্ষমতা। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যায়। ভারতের প্রচলিত সামরিক আধিপত্য কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ভারতের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়, যেখানে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েও সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে পারমাণবিক প্রতিরোধ শুধু নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক দরকষাকষিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

    সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্ভাব্য “পারমাণবিক ছাতা”। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রথমে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করেন। তবে এই ঘটনাই দেখায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছে—যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না দিয়েও সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত রাখা হয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, বিশেষত এমন সময়ে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ অনিশ্চিত।

    ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের এই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীন-এর সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এটি একটি প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত হয়েছে। চীনের জন্য এটি অর্থনৈতিক করিডোরের শেষ প্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক নিরাপত্তা অংশীদার, আর সৌদি আরবের জন্য নির্ভরযোগ্য সামরিক সহযোগী। ফলে বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলে যায়—আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাকিস্তান।

    অন্যদিকে ভারতের শক্তিই অনেক ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বৃহৎ অর্থনীতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এর নীতি ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা ভূমিকায় যেতে নিরুৎসাহিত করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক বিস্তার করলেও, সেই সম্পর্কগুলোকে নিরাপত্তা নির্ভরতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে ভারত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কিন্তু অপরিহার্য নয়।

    সবশেষে দেখা যায়, পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, নিরাপত্তা নির্ভরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভারত তার শক্তির কারণে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত, শক্তির প্রতিযোগিতা এবং জোট রাজনীতি নতুনভাবে গড়ে উঠছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থানগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা যায় না—এবং সেখানেই কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

  • বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনের শুরু থেকে তেলের দামে যে পতন লক্ষ্য করা গেছে, সময় বাড়ার সাথে সাথে সেই ধারা বজায় রয়েছে।

    মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে—এমন আশাবাদই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেল প্রতি ৬৯ সেন্ট কমে ৯৪.৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ১.৩ শতাংশ।এর আগে গত সপ্তাহান্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে সোমবার (২০ এপ্রিল)  তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি পুনরায় স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে এবং তেলের দাম সেই বর্ধিত অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে।

  • ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    নিউজ ডেস্ক:

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে জারি করা ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে আরও এক মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ভারতীয় নিবন্ধিত, লিজ নেওয়া, বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ ২০২৬ সালের ২৪ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

    ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে।

    কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। ভারত এ হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়।

    পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬–৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ‘উসকানিবিহীন’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।

    পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।

    এ সময় ভারতের বিমান খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পাকিস্তানের বিমান খাতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। ওই দুই ক্ষেত্রেও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।

  • মার্কিন অবরোধ ভেঙে বন্দরে নোঙর ইরানি জাহাজের

    মার্কিন অবরোধ ভেঙে বন্দরে নোঙর ইরানি জাহাজের

    নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি ইরানি তেল বহনকারী জাহাজ মার্কিন অবরোধ ভেঙে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে প্রবেশ করেছে।সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সন্ত্রাসী সেনাদের বারংবার সতর্কবার্তা ও হুমকির পরেও ইরানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সহায়তায় তেল বহনকারী জাহাজ সিলিকা সিটি আরব সাগর থেকে গতকাল রাতে ইরানের পানিসীমায় প্রবেশ করেছে এবং কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণের একটি বন্দরে নোঙর করেছে।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করেনি।অন্যদিকে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম গতকাল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরুর পর থেকে ‘মার্কিন বাহিনী ২৭টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে’

  • কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছে।

    কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কিউসিএএ) আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    কিউসিএএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল জাতীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির একটি ব্যাপক মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক সংকটের কারণে কাতারের আকাশপথ বিদেশি বাহনগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকার পর এই প্রথম তা পুনরায় উন্মুক্ত হলো।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, সকল ফ্লাইট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে পরিচালিত হবে। যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত বাছাইকৃত কিছু বিদেশি এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফ্লাইটগুলো নিয়মিত করা হবে।

    আকাশপথ পুনরায় সচল হওয়াকে কাতারের বিমান চলাচল খাতের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানা গেছে।

  • চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

     

    নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।

    বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলাগুলোর পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘TEE-01B’ স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই স্যাটেলাইটটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

    এই প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানি কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, যেমন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির রিয়েল-টাইম তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারছে। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কোনো হামলার আগে যেমন লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতে পারছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত যাচাই করতে পারছে।

    এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শামিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    এই স্যাটেলাইট কূটনীতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন নজির স্থাপন করছে।