ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    সোমবার আমেরিকান প্রতিনিধি দল আলোচনান জন্য পাকিস্তান যাচ্ছে : ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং তারা সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদ-এ পৌঁছে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি “ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত” চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ এটি গ্রহণ করবে। তবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, কিছু লক্ষ্যবস্তু খুব দ্রুত ও সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আর আই খান

  • হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, সেটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং সেটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী।

    এটি সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া যার অবস্থান সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপস চ্যানেল এলাকায়।

    মালাক্কা প্রণালী আবারো আলোচনায় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বৈশ্বিক গুরুত্ব

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা সবচেয়ে ছোট ও কার্যকর সমুদ্রপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এটি অপরিহার্য।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে নেয়া হয়েছে- যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২৯ শতাংশ। এই একই সময়ে প্রতিদিন ২৬ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও পরিবহন হয়েছে এই পথ দিয়ে।

    যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ গোকি বালসি বলেন, এই পথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, ইলেকট্রনিকস, ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি ও গাড়িও পরিবহন হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ গাড়ির বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। এছাড়া শস্য ও সয়াবিনের মতো শুকনো পণ্যও পরিবহন হয় এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে।’বালসি আরো বলেন, ভৌগলিক, জ্বালানি পরিবহন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহনের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালাক্কার ভূমিকা আরো বিস্তৃত।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ মূলত জ্বালানি রুট। কিন্তু মালাক্কা প্রণালী শুধু জ্বালানি নয় বরং বহুবিধ পণ্যের ট্রান্স-শিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ আস্ত্রিনা বলেন, ‘এটা বলা যেতেই পারে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথগুলোর একটি হলো মালাক্কা প্রণালী।’

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক রিক্যাপ তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের মতে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীতে ২০২৫ সালে ১০৮টি জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। তাই এই প্রণালীতে জলদস্যুতা একটি চিরস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।এছাড়াও, এই এলাকাটি সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে এর দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

    কেন এখন উদ্বেগ?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কার গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।বালসি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে সমুদ্র আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে এই পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

    আস্ত্রিনা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।তার গবেষণা মতে, মালাক্কা প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী দেশগুলোর মাঝের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেয়ার জন্য তৈরি নয়। এটি মূলত জলদস্যুতা, চোরাচালান ও সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বড় শক্তি যখন এই অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম ও উপস্থিতি বাড়ায়, তখন এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দেয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাটি তৈরি নয়।’তবে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, ‘এখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে না, কারণ বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থ শক্তিশালী হওয়ায় সবাই সেটি বজায় রাখতে চায়।’তার মতে, বড় ঝুঁকিটি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে।

    তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি চীন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধির অবস্থান হিসেবে দেখে, তাহলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে সেটি সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে নয় বরং এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তা করতে পারে। ঝুঁকিটা সেখানেই। ধীরে ধীরে এমন এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যেখানে সহযোগিতামূলক ও আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে গিয়ে তা রূপ নিতে পারে আরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে।’তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি সংঘাত না হলেও এমন পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব থাকতে পারে।

    তিনি যুক্ত করেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরোক্ষ হলেও শক্তিশালী হবে যেমন বীমা খরচ বাড়বে, ঝুঁকির ধারণা বাড়বে এবং এমন একটি সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হবে যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা সরলভাবে দেখাকে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যেন ইন্দোনেশিয়া কোনো এক পক্ষের সাথে জোট বাঁধছে। ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে। বাস্তবতা হলো মহাজোটগুলোর প্রতিযোগিতা এখন এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য যৌথ ও কার্যকর করিডর হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।’

    ‘মালাক্কা দ্বিধা’

    ২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ‘’মালাক্কা ডিলেমা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝাতে।যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চায়না পাওয়ার প্রোজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তেল আমদানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মোট মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    বালসি বলেন, ‘শুধু চীনই নয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি এটির মধ্য দিয়ে আসে।’তিনি আরো বলেন, এই নৌপথ সিঙ্গাপুরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর এবং এটি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র।চীনের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আস্ত্রিনা। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে চীনের পক্ষে বাস্তব অর্থে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কোনো কার্যকর উপায় নেই। পাইপলাইন বা অন্য কোনো করিডরের মতো বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও তা বৃহৎ পরিসরে মালাক্কার বিকল্প হতে পারবে না।’

    বালসিও এতে একমত। তিনি বলেন, সুন্দা প্রণালী ও লম্বক প্রণালী যে দু’টিই ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসীমায় অবস্থিত তারাই সবচেয়ে কার্যকর দু’টি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।পাপুয়া নিউগিনির নিকটে টরেস প্রণালী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অগভীর ও সংবেদনশীল নৌপথ যেখানে প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে না।আর যদি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ঘুরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে অত্যধিক সময় ও ব্যয় লাগবে বলে তিনি জানান।আস্ত্রিনা মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে চীন এই দুর্বলতা দূর করার চেয়ে বরং তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

    তিনি বলেন, ‘এই দ্বিধার মূল বিষয় নির্ভরতা কমানো নয় বরং চীন কিভাবে সেই নির্ভরতা পরিচালনা করে। এ কারণেই চীন শুধু বিকল্প পথ খোঁজার দিকে নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।’

  • ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে থেকে স্বর্ণের দুল উপহার পেয়েছিলেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা মাসরাত মুখতার (৫৫)। গত মাসে ঈদুল ফিতরের দিনে তিনি সেটি ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। উদ্দেশ্য- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    মাসরাতের মতো কাশ্মীরের অনেক বাসিন্দাই তাদের নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছেন হাজার মাইল দূরের একটি দেশে বসবাসকারীদের জন্য। অনেক পরিবার তাদের তামার বাসনপত্র, গবাদি পশু, বাইসাইকেল এবং সঞ্চিত অর্থের বড় একটি অংশ দান করেছে। এমনকি শিশুরাও তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে জমানো অর্থ দান করছে। দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। তারা দান করেছেন উপার্জনের একটি অংশ।

    কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার বাসিন্দা মাসরাত মুখতার বলেন, ‘আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তাই দান করি। এটি আমাদেরকে তাদের (ইরানিদের) কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের ‘লিটল ইরান’ পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মাসরাত বলেন, ‘এই পরিচিতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যা করার তাই করা হচ্ছে। এই বন্ধন সময় আর সংঘাতের ঊর্ধ্বে।’

    ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন বর্তমান যুদ্ধের সময় আরও বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে এটি ইরানি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহের কিছু পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    কয়েক কোটির অনুদান
    কাশ্মীরে ওঠা এই অনুদানের পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদি পশু এবং যানবাহন মিলিয়ে সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বা ৬৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    শ্রীনগর, বুদগাম, বারামুল্লা এবং কাশ্মীরের উত্তরের জেলাগুলোতে তহবিল সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত কাজ করছেন। অনুদানের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান। যেমন- খুচরা পয়সা, শিশুদের মাটির ব্যাংক এবং সাধারণ থালাবাসন। শ্রীনগরের একটি সংগ্রহ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দ আসিফি জানান, অতি সাধারণ আয়ের মানুষও সাধ্যমতো যা পেরেছেন তাই দান করেছেন।

    নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কাশ্মীরিদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। লিখেছে, ‘এই মহানুভবতা চিরকাল মনে রাখা হবে।’

    তবে অনুদানের ব্যাপকতা নিয়ে ভিন্ন এক আশঙ্কায় আছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) জানিয়েছে, কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব অর্থ সংগ্রহ করছে তার একটি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে যেতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সংগৃহীত তহবিল যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে না পারলে তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

  • যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত তিন বছরের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে ইসরাইল এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইসরাইলের অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাজেট মূলত ইরানের সাথে সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি এবং বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করা হবে।

     ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত এই আগ্রাসীযুদ্ধ অভিযানে শুধু সামরিক খাতই নয়, বরং দেশটির বেসামরিক অর্থনীতিও পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    ইসরাইলের কর প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবিনামা জমা পড়েছে। এসব দাবিনামার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

    ইহুদিবাদী ইসরাইলের অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ক্যালক্লিস্ট’ বলছে, সব বেসামরিক খরচ মেলালে এই অঙ্ক ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা তেল আবিবের বর্তমান বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

    ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তেল আবিবের অর্থনীতিকে অসহনীয় দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ঋণের বোঝা জিডিপির ৭২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, ধারণা করছে সংবাদ ইহুদিবাদী মাধ্যম ‘মাআরিভ’।

    তেল আবিকের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের সামরিক ও বেসামরিক খরচ অন্তত ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরেও ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইসরাইলের দৈনিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

    এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তেও সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত ৪৮০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলেছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভাকে হয় সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে হবে, নয়তো মেট্রোরেল ও নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থগিত করতে হবে।

    ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ করের পরিমাণ ব্যাপকভাবে না বাড়ালে এই বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলিদের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সেবা খাতের বাজেট কমানোর মতো ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
  • ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

     

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই পত্র পাঠানো হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

    চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ওই পাঁচটি দেশ আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের নিতে হবে।

    একইসঙ্গে এই ধরনের অন্যায় তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বানও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

  • আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

     

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন আশা দেখা যাচ্ছে। আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আর সেটি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।

    সূত্র বলছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিকল্প স্থান নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। নয়তো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই ফের বৈঠক হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপ হবে কি না, তা এখন পুরোপুরি তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে।’

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি চায়।

    তিনি বলেন, ইরান যদি এ বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে দুই দেশের জন্যই একটি ভালো চুক্তি সম্ভব।

  • ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই একটি ব্রেকিং নিউজ জানাচ্ছে ইতালির সংবাদ মাধ্যমগুলো।

    সেখানে বলা হয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইলের সাথে দেশটির প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো উচিত।

    ইসরাইলের সাথে ইতালির চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইতালির রাজনৈতিক সরকারগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করে আসছিল

  • নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন:  ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

     

     

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছর পর্যন্ত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে, ৫ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে ইসলামাবাদের আলোচনার একপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্য বিনিময়ও চলে বলে জানা গেছে।

    ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে একে অপরের কাছে প্রস্তাব বিনিময় করেছে, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।

    তবে আলোচনার ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একটি শান্তি চুক্তির পথ এখনো খোলা থাকতে পারে এবং সম্ভবত দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের একটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়।

    এ বিষয়ে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে—যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মূল বাধাই ছিল তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ।

    ওয়াশিংটন তাদের প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর ২০ বছরের স্থগিতাদেশের কথা বললেও, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী—তেহরান জানিয়েছিল, তারা কেবল ৫ বছরের জন্য এটি করতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ বৈঠকে দুই দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে প্রস্তাব বিনিময় করলেও চুক্তির মেয়াদের ব্যাপারে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছে।

    দুজন ইরানি ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের জন্য জেদ ধরে ছিল।

    এই প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এর আগে তারা দাবি করে আসছিল, তেহরানকে স্থায়ীভাবে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, মতবিরোধের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

    গত দশকের মধ্যে এটিই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

    তবে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক শেষ হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপ এখনো চলমান রয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা সত্ত্বেও একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনার ভেতরের চিত্র

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের দুটি আলাদা কক্ষ এবং একটি কমনরুমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মূল কক্ষে ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ফলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বিরতির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজ দেশে বার্তা পাঠাতে দেখা যায়।

    পাকিস্তানি সরকারের একটি সূত্র জানায়, ‘আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় অগ্রগতির জোরালো আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।’

    প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় যখন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গ আসে—বিশেষ করে হামলা না চালানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়—তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করতে পারি যখন গত জেনেভা বৈঠকেও আপনারা বলেছিলেন— কূটনীতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না?’

    উল্লেখ্য, জেনেভা আলোচনার দুই দিন পরেই ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। ওয়াশিংটন শুধু পারমাণবিক ফাইল ও হরমুজ প্রণালির ওপর গুরুত্ব দিলেও তেহরান আরও বিস্তৃত একটি সমঝোতা চেয়েছিল।

    একপর্যায়ে আলোচনা কক্ষে উচ্চকণ্ঠ শোনা গেলে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তারা টি-ব্রেকের কথা বলে দুই পক্ষকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা প্রায় ‘৮০ শতাংশ’ সফল হয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় এমন কিছু বিষয়ে আটকে গিয়ে তা থমকে দাঁড়ায়।

    এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সকালে ফোন করেছিল এবং ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, এবং ট্রাম্পের দল এই ‘রেড লাইনের’ ব্যাপারে অনড় রয়েছে। তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না সামরিক জোট ন্যাটো।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোটভুক্ত দেশগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়।

    ন্যাটো সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চায় না সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তারা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ন্যাটোর এমন অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের উদ্যোগে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না। যত চাপই আসুক, আমরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াব না।”

    জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড ও গ্রিসসহ ন্যাটোর আরো কয়েকটি দেশও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করেছে।

    অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ন্যাটোর এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

     

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

    একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি) ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

    ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে- তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।

    প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে