ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?

    রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

    ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিতো। কিন্তু ইরান তা করেনি। তারা সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে।

    এরপর আসে ইসরায়েলের কথা—যাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা। কিন্তু ইরান অনবরত তাদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, চাপ সহ্য করছে এবং পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এটি কেবল লোকদেখানো প্রতিরোধ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম অশান্ত একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় লড়াই।

    সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইরানের পেছনে শক্ত কোনো ‘নিরাপত্তা ঢাল’ নেই। এই মুহূর্তে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা বা গ্যারান্টি ছাড়াই তারা এগিয়েছে। এটি কেবল একটি সুচিন্তিত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি নেওয়ার অসীম সাহস মাত্র।

    হামলা, ক্ষয়ক্ষতি বা শীর্ষ নেতাদের হারানো—এসব ইরানের জন্য কোনো কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। ইরান বড় বড় ধাক্কা খেয়েছে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশটির প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিবার নিজেকে সামলে নিয়েছে এবং লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সহজে আসে না।

    রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি একটু দূর থেকে নিরপেক্ষভাবে দেখে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে। ফলে, ইরান এখনই পরাশক্তি—এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, এ বিষয়ে অনেকেই একমত।

  • পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

  • হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক’ হামলার কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কিছুদিন আগে ‘আরও আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী এবং বিজয় খুব সন্নিকটের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এসব নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সবই এখন ভয়াবহভাবে হেরে গেছে। একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ৩৯ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
  • যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার (৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও দেশটি সংবেদনশীল। একইসাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসলামাবাদ। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনে আরো ভালো খবর দিতে পারব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর, দেশটির সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননও। এর জবাবে ইসরাইল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ও দেশটির দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে। শরিফ বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘সব জায়গায়’ প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরে ইসরাইল জানায়, লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং সেখানে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তারা ট্রাম্পের ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ঠেকাতে কাজ করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে তুরস্ক ও মিসরও। আর চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় এবং ওয়াশিংটনের সাথে কখনো টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দুই পক্ষের সাথেই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও বেইজিংয়ের মতো প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল পাকিস্তান। ইরানের সাথে তাদের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনো দূতাবাস না থাকায়, সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে ইসলামাবাদ।

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে চলা সঙ্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে- এই দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যেতে পারে।
  • কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    প্রবাসের যে শহরগুলো একদিন ছিল রুটি-রুজির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কুয়েত, কাতার কিংবা লেবানন—মানচিত্রভেদে নাম বদলালেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশার চিত্র সবখানে একই। মাথার ওপর যুদ্ধের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন, পায়ের নিচে অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মাটিÑদুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

    ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে কাতার ও কুয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার লেলিহান শিখা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন প্রবাসীদের। আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া আর পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফেরার পথও আজ রুদ্ধ তাদের। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশছাড়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?

    কাতার : নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধস

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান কাতারে। প্রতিদিন আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন প্রতিরোধের ঘটনা এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় জাহাজে হামলার খবর সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। রাজধানীর মুশরিব ভিআইপি এলাকা, যেখানে একাধিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে কাতার কর্তৃপক্ষ ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

    কাতার প্রবাসী রিফাত আলম হিরো  জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় এসে কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা এখন কাজ ও আয় হারিয়ে দিশাহারা।

    তিনি বলেন, অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। ঘর ভাড়া আর খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। দেশে ফিরতেও পারছেন না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয় শূন্যের কোঠায়।

    সংকট আরো বেড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বর্তমানে শুধু কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু থাকায় টিকিটের দাম সাধারণ প্রবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পাসপোর্ট জটিলতা। প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দিয়েও তারা তা সময়মতো ফেরত পাচ্ছেন না; ফলে জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংকটকালে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    অন্যদিকে দোহার পুরোনো সমুদ্রবন্দরে একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি।

    কুয়েত ও লেবানন : আতঙ্কের জনপদ

    কুয়েত থেকে জাহিদ হাসান অভি নামের এক বাংলাদেশি  জানান, সেখানে যুদ্ধ আতঙ্কে জনজীবন থমকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পর্যটক কুয়েতে এসে আটকা পড়েছেন; কারণ কোনো বিমান চলাচল করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সর্বত্র।

    অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে; ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বর্ডার এরিয়া, দাহিয়ে ও বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে তীব্র হামলা চলছে।

    লেবানন প্রবাসী আলমগীর  জানান, বর্তমানে ৫০০-৬০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ৭০ শতাংশই অবৈধ হওয়ায় সেখান থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার খুবই কম। বর্তমানে হুন্ডি বা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকটে নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে ভারী বোঝাটি বইতে হচ্ছে প্রবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে। নিজ ভূমিতে ফেরার আকুতি আর প্রবাসে টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই একা।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ২০২৬-এর ডেটামতে, কাতারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, কাতারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রবাহে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। নির্মাণ, সেবা ও ড্রাইভিং খাতে কর্মরত এসব বাংলাদেশি কাতারের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    কুয়েতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি ছিল মোট অভিবাসনের প্রায় চার শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২০ হাজার ৬৪৪ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। এখানকার সরকারি ক্লিনিং সেক্টর, ড্রাইভিং ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, যা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের এক বড় অংশ নারী গৃহকর্মী এবং পুরুষ কৃষি ও গ্যারেজ মেকানিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকেই দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে লেবানন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

    ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।

    পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।

  • হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

    প্রস্তাবে ইরান তাদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছে তেহরান।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে ইরান, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, তবে যথেষ্ট নয়।’

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে বলে সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

    হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টার পর নতুন হামলা চালানো হতে পারে, যা ইরানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার একটি প্রোটোকলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এর আগে গত ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ওই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা “নিউট্রালাইজড” হয়।

    তুর্কি চ্যানেল ‘হ্যাবারতুর্ক’-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • দেশের জন্য জীবন দিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি প্রস্তুত: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    দেশের জন্য জীবন দিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি প্রস্তুত: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সুরক্ষায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান।

    নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ক্ষমতাধর সচিব আলী লারিজানি।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।