ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল ইরান

    ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল ইরান

    ডেস্ক নিউজ:

    মানব পাচার ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনে ভারতীয়দের ইরানে পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা স্থগিত করেছে। আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরানে প্রবেশ করতে বা ট্রানজিট নিতেও ভারতীয়দের আগেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানব পাচারকারী চক্রের কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই ইরানের এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালালচক্র বহু ভারতীয়কে ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে ইরানে পাঠাচ্ছিল।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেককে বলা হয়েছিল ইরানে গেলে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ রয়েছে, কিংবা সেখান থেকেই সহজে উপসাগরীয় দেশ বা ইউরোপের পথে যাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানে পৌঁছানোর পর অনেককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছে মানব পাচারকারীরা।

    ক্রমাগত কয়েকটি অপহরণ-ও-পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয়দের ইরানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার ঘটনা বাড়ছে।

    এর আগে গত মাসেও ভারত সরকার সতর্ক করে বলেছিল, কিছু দালাল ভুয়া চাকরির অফার দেখিয়ে মানুষকে ইরানে পাঠাচ্ছে এবং ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা কেবল পর্যটনের জন্য—কাজের উদ্দেশ্যে নয়।

    গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান কয়েকটি দেশের নাগরিকদের স্বল্প সময়ের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে। এর ফলে ভারতীয় সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ছয় মাসে একবার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই ইরানে ভ্রমণ করতে পারতেন। তবে মানব পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় সেই সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

    খান

  • আয়ারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনায় দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ

    আয়ারল্যান্ড ও আর্জেন্টিনায় দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ

    এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

    আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন ও আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে দুটি নতুন দূতাবাস খুলছে বাংলাদেশ।

    এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৮তম বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবনাটি অনুমোদন দেয়া হয়।

    এ/ আর ১৩ নভেম্বর

  • পাকিস্তানে আদালতের সামনে বিষ্ফোরণ, নিহত ১২

    পাকিস্তানে আদালতের সামনে বিষ্ফোরণ, নিহত ১২

    ডেস্ক নিউজ :

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আদালত ভবনের বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় কমপক্ষে ১২ নিহত এবং আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদের পুলিশ।

    মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, এটি কী ধরণের বিস্ফোরণ ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা তদন্ত করছি। ফরেনসিক দলের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

    ইসলামাবাদ জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে এই বিস্ফোরণটি ঘটে, যেখানে সাধারণত প্রচুর মানুষের ভিড় থাকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ঘটনাস্থলের বেশ কিছু রক্তাক্ত ছবি দিয়েছে, যেখানে পুলিশ ভ্যানের কাছে রক্তাক্ত মানুষ পড়ে আছেন।

    বি/এ

  • দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮

    ডেস্ক নিউজ :

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে, নগর পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে ফুটেজে, দিল্লির একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে যানজটপূর্ণ রাস্তায় একাধিক গাড়ি থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

    লাল কেল্লার কাছে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি এবং তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় ত্যাগী ।

    দিল্লির ডেপুটি ফায়ার চিফ জানিয়েছেন, কমপক্ষে ছয়টি গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশায় আগুন লেগেছে, তিনি আরো জানিয়েছেন, দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছেন।

    স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিষ্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, আমরা একটি বড় শব্দ শুনেছি, আমাদের জানালা কেঁপে উঠেছে।

    এদিকে, বিস্ফোরণের পর দিল্লিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
    বি/ এ

  • ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ডেস্ক নিউজ:

    সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সয়াবিন রপ্তানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করবে।

    ঢাকা-ওয়াশিংটনের এই বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ভারতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের তেল ও সয়ামিল রপ্তানি এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল। এর ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভারতের সয়ামিল রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

    ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সয়ামিল আমদানিকারক বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারতের সয়ামিল রপ্তানি ১.৬৩ লাখ টনে নেমে আসে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম।

    ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডি.এন. পাঠক এ বিষয়ে বলেন,

    “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বল্পমূল্যে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ তেলবছরে আমাদের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ মাত্রই এক বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে, যা আমাদের জন্য স্পষ্ট সংকেত—বাংলাদেশ আর ভারত থেকে এ পণ্য কিনবে না। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

    এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করবে।

    এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
    সুত্র আমার দেশ
    বি/এ

  • বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

    বসনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি নার্সিংহোমে লাগা আগুনে পুড়ে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) পুলিশ জানায়, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সারাজেভো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে আগুন লাগার পর সারাজেভো থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তুজলার ওই নার্সিংহোমের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এখনো ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

    আহতদের মধ্যে দমকল বাহিনীর পাঁচজন কর্মী এবং তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

    মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তুজলা শহরের নার্সিংহোম ভবনের সপ্তম তলায় আগুন লাগে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের অনেকে শয্যাশায়ী এবং অসুস্থ ছিলেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নার্সিংহোম ভবনের উপরের তলার জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে।

    সুত্র: এএফপি

    বি/এ

     

  • কে এই জোহরান মামদানি

    কে এই জোহরান মামদানি

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

     

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। অনেক দিক থেকেই নিউইয়র্কের নির্বাচনে ‘প্রথমবারের’ ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি। গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেয়া মেয়রও।

    গত বছরের শেষ দিনে যখন তিনি এই দৌড়ে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন, তখন খুব কম মানুষই তাকে চিনত। তার তেমন অর্থ ছিল না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমর্থনও ছিল না।

    তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের বড় সমর্থন এবং সাহসী বামপন্থী ধারার মধ্য দিয়ে জোহরান মামদানির এই সাফল্য এসেছে।

    সাবেক গভর্নর কুমোর মতো একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপরীতে তার জয় প্রগতিশীলদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এটি শহরের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে একরকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে মামদানি বলেছেন, নিউ ইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

    উগান্ডা থেকে কুইন্সে

    মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউইয়র্কে আসেন। সেখানে তিনি ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং পরে বোওডেন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে তিনি ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’-এর ক্যাম্পাস শাখার একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

    মিলেনিয়াল প্রজন্মের এই প্রগতিশীল নেতা তার শেকড়ের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে তার ভিত্তিতে এগিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণার একটি ভিডিও পুরোপুরি উর্দু ভাষায় করেছেন এবং তাতে বলিউডের সিনেমার দৃশ্য

    যুক্ত করেছেন। আরেকটি ভিডিওতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেছেন।

    মামদানির স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী ব্রুকলিনের সিরিয়ান শিল্পী রামা দুয়াজি। তার মা মীরা নায়ার একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এবং বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক। তার বাবা-মা দুজনেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

    মামদানি নিজেকে গণমানুষের প্রতিনিধি ও সংগঠক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রোফাইলে লেখা হয়েছে, ‘জীবন যখন অনিবার্য দিকে মোড় নিচ্ছিল- সিনেমা, র‍্যাপ আর লেখালেখির বাঁকবদলে, যাই হোক না কেন, সবসময়ই সংগঠন করা তার মাঝে এক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যে কারণে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তাকে হতাশা নয়, বরং কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

    রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আবাসন খাতের একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কুইন্সে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতেন।

    মামদানি তার মুসলিম পরিচয়কে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং শহরের উচ্চ জীবনযাত্রার খরচের সঙ্কট নিয়ে উর্দু ভাষায় একটি প্রচারণা ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

    এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি যে একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিতে হয়।’

    সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ড্রামের রাজনৈতিক পরিচালক জাগপ্রীত সিং বলেন, ‘মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কারো মধ্যে জোহরানের মতো কাউকে দেখিনি, যিনি সামগ্রিকভাবে আমাদের চিন্তার বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটান।’

    মামদানির সাশ্রয়ী যুদ্ধ

    মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের ভোটাররা চায় ডেমোক্রেটরা সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিক। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যেখানে চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যের সাথে বসবাস করছে। এটি এমন একটি শহর যেখানে প্রতিরাতে পাঁচ লাখ শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায়।’

    বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ-ও বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যা নিজের সেসব বৈশিষ্ট্য হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেগুলো একসময় এটিকে বিশেষ করে তুলেছিল।’

    তার প্রস্তাবনাগুলো হলো- শহরজুড়ে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বাড়িভাড়া স্থির রাখা এবং বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করা, সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর জোর দিয়ে শহরের নিজস্ব মুদি দোকানের চেইন সৃষ্টি করা, ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সারা শহরে বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা তিন গুণ বাড়ানো, যা ইউনিয়নের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে।

    তার পরিকল্পনায় মেয়রের অফিসের ‘পুনর্বিন্যাস’ বা সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাতে করে সম্পত্তির মালিকরা দায়বদ্ধ থাকে এবং চিরস্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

    মামদানি তার প্রচারণায় এই নীতিগুলোকে চোখে পড়ার মতো এবং ভাইরাল, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে এনেছিলেন। তিনি বাসা ভাড়ার বিষয়টি তুলে ধরতে আটলান্টিক সাগরে ডুব দিয়েছেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরার জন্য একটি বুরিতো (মেক্সিক্যান খাবার) দিয়ে একটি পাতাল রেল সাবওয়েতে রমজানের ইফতার করে রোজা ভাঙেন। এছাড়া, তিনি ভোটের আগের দিন পুরো ম্যানহাটন হেঁটে গেছেন এবং ভোটারদের সাথে সেলফি তুলেছেন।

    যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শহরকে আরো সাশ্রয়ী করা সম্ভব, তবুও সমালোচকরা মনে করছেন, এই অতি উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস মেয়র নির্বাচনে কাউকে সমর্থন না দিয়ে সাধারণভাবে প্রার্থীদের সমালোচনা করে থাকে।

    তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, মামদানির পরিকল্পনা ‘শহরের চ্যালেঞ্জের সাথে খাপ খায় না’ এবং এটি ‘শাসনের অতি জরুরি সমঝোতাগুলোকে অগ্রাহ্য করে’। তার প্রতিশ্রুত বাসা ভাড়ায় কড়াকড়ি করা হলে আবাসন সঙ্কট বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।

    সমালোচকরা তুলছেন অভিজ্ঞতার প্রশ্ন

    কুমো ও তার সমর্থকরা মনে করছেন, মামদানি এমন পদের জন্য খুবই অদক্ষ এবং কট্টরপন্থী। যেখানে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট এবং তিন লাখের বেশি পৌর কর্মী রয়েছে।

    বিল ক্লিনটনসহ বড় দাতা ও মধ্যপন্থীদের সমর্থন পাওয়া কুমো অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কাজ কিভাবে করতে হয় তা জানা প্রয়োজন। ট্রাম্পের সাথে কিভাবে কাজ করতে হয় এবং ওয়াশিংটনে কিভাবে কাজ করতে হয়, সেগুলোও জানতে হবে। এছাড়া রাজ্যের আইনসভার সাথে কিভাবে কাজ করতে হয়, এসব মৌলিক বিষয়েও জানা প্রয়োজন।

    এদিকে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ ট্রিপ ইয়াং মনে করেন, এই সময়ে কেবল ‘অভিজ্ঞতা’ দিয়ে আর কাজ হয় না এবং মামদানি না জিতলেও তার প্রচার এমন কাজ করেছে, যা অনেকের কল্পনার বাইরেও ছিল।

    ‘জোহরানকে সমর্থন দিয়েছেন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও লাখ লাখ ডোনার। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে স্থানীয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এমন তৃণমূল পর্যায়ের আগ্রহ খুব কমই দেখা যায়,’ তিনি বলেন।

    মামদানির সমর্থক লোকমণি রায় বলেন, ‘তিনি আমাদের বুঝতে পারেন, তিনি আমাদের অংশ, তিনি আমাদের এই অভিবাসী সম্প্রদায়েরই অংশ।’

    ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু

    জ্যাকসন হাইটসের এক পার্কে সম্প্রতি মামদানির প্রচারের সময় শিশুদের খেলা, লাতিন খাবারের দোকান ও আইসক্রিম বিক্রেতারা যে দৃশ্য তৈরি করেছিলেন, তা অনেক ডেমোক্রেটের চোখে নিউইয়র্কের বৈচিত্র্য আর শক্তির প্রতীক। তবে এই শহরটি জাতিগত ও রাজনৈতিকভাবে তিক্ততার উর্ধ্বে নয়।

    মামদানি বলেন, তিনি প্রতিদিন ইসলামবিদ্বেষের মুখে পড়েছেন, এমনকি তার পরিবারকেও এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। পুলিশের মতে, এই হুমকিগুলো ‘হেট-ক্রাইম’ বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভোটারদের মনে সম্ভবত ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থানের দিকটিও কাজ করেছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং ইসরাইলের সমালোচনা করার কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশিভাগ নেতার সাথে তার মতবিরোধ হয়েছে।

    এই অ্যাসেম্বলি সদস্য এমন বিলেরও প্রস্তাব করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অমান্য করে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের সাথে সম্পৃক্ত চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্কে করমুক্ত সুবিধা বাতিল করবে।

    তিনি আরো বলেছিলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা উচিত। অনেকবারই তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি ইসরাইলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে অস্তিত্বের অধিকারকে সমর্থন করেন কি না।

    তিনি বলেছিলেন, ‘ধর্ম বা অন্য কিছুর ভিত্তিতে নাগরিকত্বের শ্রেণিবিন্যাস আছে, এমন কোনো রাষ্ট্রকে সমর্থন করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। আমি মনে করি, এই দেশে আমাদের আধিকার যেভাবে আছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এটাই আমার বিশ্বাস।’

    মামদানি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদি-বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই, এবং তিনি নির্বাচিত হলে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে তহবিল বাড়াবেন।

    সূত্র : বিবিসি

    বি/এ

  • মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং ‘গাজায় নীরবতার উপর সত্যের বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইসরাইলি নীতির সমালোচনা করায় তাকে ইহুদি-বিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ভোটাররা বুঝেছেন, গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের আহ্বান। মামদানি বলেছেন, “ন্যায়বিচার কখনো নির্বাচনী হতে পারে না।”

    এর বিপরীতে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো ইসরাইলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বিচার করা হয়, তবে তিনি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। তার এই অবস্থান যে নৈতিক অন্ধত্বকে প্রকাশ করছে, নাগরিকরা তা বুঝতে পেরেছেন।

    হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জিয়াদ মোতালা আল জাজিরায় এক মন্তব্যে বলেন, “মামদানিকে বেছে নিয়ে ভোটাররা, দাতাদের আনুগত্যের উপর জনস্বার্থ এবং গাজায় নীরবতার উপর সত্যকে সমর্থন করেছেন।”

    মামদানি তার প্রচারণায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রচলিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। তিনি শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে চেয়েছেন। কে এই শহরে টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে তার নীতিনিষ্ঠ স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার, সর্বজনীন শিশু যত্ন ও বিনামূল্যে গণপরিবহন পাশাপাশি, ধনীদের ন্যায্য কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বার্থে মুদি দোকানের সরকারি মালিকানা প্রস্তাব করেছেন।

    মামদানির বিরোধীরা তাকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করলেও, ভোটাররা এই পুরনো ভয় দেখানোর কৌশল প্রত্যাখ্যান করেছেন। মামদানি ট্রাম্পের মতো বিভাজনের রাজনীতির নয়, বরং জনসাধারণের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    নিউইয়র্কের তরুণ ভোটাররা এবার একটু অন্যরকম ছিলেন। তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গাজার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। আর তাই ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ এই তত্ত্বকে তারা গ্রহণ করেননি। এমনকি অনেকেই প্রকাশ্যে ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলতেও ভয় পাননি।

    অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতাও ভোটারদেরকে চরম হতাশ করেছে। সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ ‍ছিল দাতা শ্রেণীর প্রতি নির্ভরতার প্রতিফলন।

    জোহরান মামদানির বিজয় আজ এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশার প্রতীক। তরুণরা আর ‘ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ হলেও মেনে নিতে হবে’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তারা এমন রাজনীতি চায় যা সত্য বলে এবং তার ওপর কাজ করে।

    সূত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    সুদানে রাস্তায় শত শত লাশ, দাফন করার কেউ নেই

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

     

    সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশের শহরে ভয়াবহ সহিংসতার পর রাস্তায় পড়ে আছে শত শত লাশ। কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই।

    শহরটি গত সপ্তাহে দখল করে নেয় আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এ সময় তারা কমপক্ষে ১,৫০০ মানুষকে হত্যা করে। শুধু একটি হাসপাতালে নিহত হয় প্রায় ৪৬০ জন।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, শহরটিতে আটকে থাকা সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপদের মধ্যে আছে। অনেকেই নিহত হয়েছেন, আহতরা খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছেন। শহর থেকে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ ৭০ কিলোমিটার দূরের তাভিলা শহরে পালিয়ে গেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

    হায়াত নামে এক নারী জানান, সাতজন আরএসএফ সদস্য তাদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং তার ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় অসংখ্য লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি, আহতদের কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।’

    আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হুসেইন বলেন, এল-ফাশেরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে আছে, তাদের কবর দেওয়ার মতো কেউ নেই। অন্যদিকে, তাভিলা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানায়, পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তারা আশঙ্কা করছেন, যারা রওনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই পথেই মারা গেছে।

    জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, দারফুরে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাদের মধ্যে রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

    সুদান বিশেষজ্ঞ শায়না লুইস বলেন, দারফুরে এ হত্যাযজ্ঞ অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

    লুইস আরও জানান, মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রেও রক্তাক্ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে—বিশাল এলাকায় লালচে রঙে ঢেকে আছে মাটি এবং মৃতদেহের মতো ছায়া ফুটে উঠছে।

    সহিংসতায় জর্জরিত এল-ফাশের শহরে এখনো খাদ্য, পানি ও ওষুধের চরম সংকট। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

    তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ঐতিহাসিক নির্বাচনে জিতে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ৬৪ বছর বয়সী এই রক্ষণশীল নেত্রী জাপানের আয়রন লেডি নামে পরিচিত। তৃতীয়বারের চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন তিনি।