ক্যাটাগরি আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ইরান যুদ্ধ আর আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিপাকে হোয়াইট হাউস

    ইরান যুদ্ধ আর আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিপাকে হোয়াইট হাউস

    নিউজ ডেস্ক:

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার জনসমর্থন এবারই সবচেয়ে নিচে নেমেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের করা নতুন এক জরিপে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট, যা গত ১৫ থেকে ২০ এপ্রিলের জরিপে ছিল ৩৬ শতাংশ

    মূলত ইরানের সাথে জনপ্রিয়তাহীন যুদ্ধ এবং পরিণামে অসহনীয় হয়ে ওঠা জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন সাধারণ মানুষকে ট্রাম্পের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে। গত সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন মার্কিনবাসীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

    মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

    জরিপের বেশিভাগ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে গত শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ গোলাগুলির আগে। সেই রাতে ট্রাম্পের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এক বন্দুকধারী অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

    ফেডারেল প্রসিকিউটররা ওই বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান চিত্র বলছে, ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে যেখানে ৪৭ শতাংশ মানুষের সমর্থন তার সাথে ছিল, সেখান থেকে গ্রাফটা এখন শুধুই নিচের দিকে নামছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে এক তরফা যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামতে শুরু করে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের পকেটে, বিশেষ করে গ্যাসোলিন বা জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

    জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ ভরসা রাখতে পারছেন, যা আগের জরিপের তুলনায় আরো তিন শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের উত্তাপে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মার্কিনীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলার পর থেকে দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। বর্তমানে এক গ্যালন তেলের জন্য মানুষকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪.১৮ ডলার। ওই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পারস্য উপসাগরের তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। তেলের এই অগ্নিমূল্য মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর বিশাল চাপের সৃষ্টি করেছে।

    এই পরিস্থিতি কেবল সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে না, বরং ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে দলের ভেতরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে

  • মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    নিউজ ডেস্ক:

     

    ইরান তাদের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স।  এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও দেশটি তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তেলবাহী জাহাজের চলাচল এবং বন্দর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই তেল লোড করার প্রক্রিয়ার ফলে ইরান কয়েক দিনের অতিরিক্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা পাচ্ছে, যা তাদের রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

    এই প্রতিবেদন এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে এবং অঞ্চলে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল চীন

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল চীন

    চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে এর কড়া জবাব দিয়েছে বেইজিং। সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং নিজ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, চীন সব সময়ই তার বিরোধিতা করে। তিনি ওয়াশিংটনকে এই ধরনের ‘নিপীড়নমূলক’ আচরণ এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

    মূলত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান-সংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার কবলে পড়েছে চীনের অন্যতম বড় শোধনাগার ‘হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল’সহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের অবৈধ তেল বাণিজ্য রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশে অবস্থিত স্বতন্ত্র শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।

    এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় লিন জিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। চীন সরকার তাদের কোম্পানিগুলোর আইনি অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

  • বড় ধাক্কা খেলেন নেতানিয়াহু!

    বড় ধাক্কা খেলেন নেতানিয়াহু!

    নিউজ ডেস্ক:

    দখলদার ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবার হাত মেলালেন দেশটির দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদ। নিজেদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করে নতুন এক নির্বাচনী জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

    মূলত ২০২৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকারকে পরাজিত করাই এ নতুন ঐক্যের মূল লক্ষ্য।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানিয়েছেন, নতুন এই রাজনৈতিক দলের নাম হবে ‘টুগেদার’ (একত্রে)। বেনেট নিজেই এ জোটের নেতৃত্ব দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনকালের সমালোচনা করে বেনেট বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর পর এখন সময় এসেছে নেতানিয়াহুর থেকে আলাদা হওয়ার। ইসরাইলকে তার বর্তমান পথ পরিবর্তন করতে হবে’।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে এমনিতেই চাপে থাকা নেতানিয়াহুর জন্য বেনেট-লাপিদ জোট এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ নতুন জোট বিরোধী জনমতকে একীভূত করতে পারলে আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে।

  • ইরান ধারণার চেয়েও বেশি শক্তিশালী: জার্মান চ্যান্সেলর

    ইরান ধারণার চেয়েও বেশি শক্তিশালী: জার্মান চ্যান্সেলর

    নিউজ ডেস্ক:

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী দেশ ইরান সরকারের কাছে অপমানিত হচ্ছে।

    মার্জ মনে করেন, এই যুদ্ধে আমেরিকার আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নেই।

    জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ইরান সরকার বর্তমানে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে তাদের দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, ইরান যতটা দুর্বল হবে বলে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তারা তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্জের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান তাকে হতাশ করেছে এবং তিনি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো সহজ পথ দেখছেন না।

  • যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন স্টারমার

    যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন স্টারমার

    নিউজ ডেস্ক:

    স্টারমার উদাহরণ হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
    মঙ্গলবার তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া কমিটি ‘কোবরা’-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

    শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমার বলেন, ‘আগামীকাল আমি কোবরা বৈঠকের নেতৃত্ব দেব, যেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও থাকবেন, যাতে এই সংকটে আমরা কর্মজীবী মানুষদের পাশে থাকতে পারি।’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ‘আমি আপনাদের সত্যটা জানাতে চাই—এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব কিছু সময় ধরে থাকতে পারে, বলেন তিনি।

    স্টারমার উদাহরণ হিসেবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই জ্বালানির বাজারে মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

  • ইরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড আছে: গালিবাফ

    ইরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্ড আছে: গালিবাফ

    নিউজ ডেস্ক:

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দাবি খারিজ করে বলেছেন, দেশটি ইতোমধ্যেই তার শক্তির বড় একটি অংশ হারিয়েছে। বিপরীতে, তেহরানের হাতে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘কার্ড’ রয়েছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি।

    রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

    গালিবাফ একটি সমীকরণের কথা উল্লেখ করেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতা—হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেলের পাইপলাইন। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ—কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।

    তিনি বলেন, তেহরানের কাছে এখনো এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তার বেশ কয়েকটি হাতিয়ার প্রয়োগ করেছে বা আংশিকভাবে ব্যবহার করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘তারা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক—সরবরাহ কার্ড বনাম চাহিদা কার্ড।’

    তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির কার্ড আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও পাইপলাইন কার্ড এখনো ব্যবহৃত হয়নি।

    অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের কার্ড হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—মজুত থেকে তেল ছাড়া হয়েছে, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় হতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা’ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় দেশটিতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল, লেবাননে নিহত ১৪

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল, লেবাননে নিহত ১৪

    নিউজ ডেস্ক:

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। রোববার এতে ১৪ জন নিহত হন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল নতুন করে জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। তারা জোরপূর্বকভাবে সীমান্তবর্তী ৭ টি শহর থেকে মানুষদের সরে যেতে বলেছে। এই স্থানে বাফারজোন করার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল।

    দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর সময় সন্মুখ সমরে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হন। এছাড়াও আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তথ্য জানিয়েছে আইডিএফ। নিহত সেনা ইদান ফুকস ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ৭ম বিগ্রেডের ৭৭তম ব্যাটেলিয়ানের সদস্য ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন লেবানন ও ইসরাইল। তবে উভয় দেশ একে অপরকে দোষারোপ করছে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে।

  • গাজার উদ্দেশে ইতালি থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন যাত্রা শুরু

    গাজার উদ্দেশে ইতালি থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নতুন যাত্রা শুরু

    নিউজ ডেস্ক:

    ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে রোববার শুরু হয়েছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ২০২৬ সালের বসন্তকালীন মিশন। আবারো উত্তাল সমুদ্র চিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে এগোচ্ছে মানবিকতার এক বিশাল নৌবহর। ইসরাইল সরকারের দীর্ঘদিনের কঠোর অবরোধ ভেঙে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    গত ১২ এপ্রিল বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহরটি সিসিলিতে এসে সাথে আরো কিছু শক্তি যোগ করেছে। সিসিলির সিরাকিউজ এবং অগাস্টা শহর থেকে ইতালীয় সক্রিয়কর্মী এবং বেশ কিছু নৌকা এই বহরে যোগ দেয়।

    মাঝসমুদ্রে গ্রিনপিসের একটি জাহাজ এই নাগরিক উদ্যোগে সংহতি জানিয়ে বহরে যোগ দিলে সবার মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রার সময় ফিলিস্তিনের সমর্থনে স্লোগান আর মশাল জ্বালিয়ে বিদায় জানানো হয় কর্মীদের। চোখেমুখে অনিশ্চয়তা থাকলেও সবার কণ্ঠে ছিল গাজার উপকূলে পৌঁছানোর একরোখা সংকল্প।

    মিডলইস্ট মনিটরের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ আহমেদ বলেছেন, গাজা অবরোধের এই জটিল রাজনীতি বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। ‘ফ্লোটিলা’ বা এই নৌ-অভিযান মূলত বিশ্ববিবেকের এক প্রতিবাদী প্রতীক। ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইল যখন গাজাকে চারপাশ থেকে আটকে দেয়, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্টরা সমুদ্রপথে এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে আসছেন।

    এই ‘ফ্লোটিলা’ শব্দটির ইতিহাসও বেশ পুরনো। এটি স্প্যানিশ শব্দ ‘ফ্লোটা’ থেকে এসেছে, যার মানে ছোট নৌবহর। মূলত সামরিক বা বিশেষ প্রয়োজনে ছোট ছোট জাহাজের দলবদ্ধ যাত্রাকেই ফ্লোটিলা বলা হয়। বর্তমান সময়ে এটি কেবল ত্রাণবাহী জাহাজ নয়, বরং এটি ইসরাইল সরকারের অমানবিক অবরোধের বিরুদ্ধে এক বিশাল রাজনৈতিক ঢাল। যারা এই নৌকায় আছেন, তারা জানেন গাজার সমুদ্রসীমায় পৌঁছানো কতটা বিপজ্জনক, তবুও তারা যাচ্ছেন কেবল এই বার্তা দিতে যে গাজা একা নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিরোধ।

    এই মিশনটি ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র জন্য দ্বিতীয় দফার প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা একবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অক্টোবরে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় থাকাকালীন ইসরাইল বাহিনী সেই বহরের ওপর হামলা চালায় এবং শত শত কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। বন্দীদেরকে হেনস্তা করে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের অর্থকড়িও চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্র ও মানাধিকার কর্মী এবং ফ্লোটিলার অন্যতম সদস্য ড. শহিদুল আলম।

    তবুও থেমে থাকেনি এই মানবিক অভিযাত্রা। এবারের যাত্রায় মানুষের ঢল আর গ্রিনপিসের মতো বড় সংস্থার সমর্থন প্রমাণ করছে যে গাজার ওপর অব্যাহত এই অবিচারের বিরুদ্ধে দুনিয়াজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি, বরং বাড়ছে।

    ইসরাইল দাবি করে যে নিরাপত্তার সাথে আপস না করতেই তারা এই অবরোধ দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এ এক ‘খোলা জেলখানা’। এই জেলখানার দেয়াল ভাঙতে বড় কোনো কামানের দরকার নেই, মাঝেমধ্যে একঝাঁক সাদা পাল তোলা নৌকাই বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে দিতে যথেষ্ট।

    সমুদ্রের ঢেউ ডিঙিয়ে এই ৬৫টি নৌকা গাজার উপকূলে ভিড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই যাত্রা এরই মধ্যে বিশ্বরাজনীতির টেবিলে এক বড় ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলেছে।

  • সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

    সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪টি প্রকল্পের। তবে বড় অঙ্কের এই অনুমোদনের আড়ালে প্রকল্পে একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চলতি অর্থবছরের দশম এবং বিএনপি সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ওই সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। একনেক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনের জন্য তালিকায় ছিল মোট ১৭টি প্রকল্প। কিন্তু সভায় ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

    এছাড়া, একনেক সভায় বিভিন্ন খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠছে ব্যয় ও বাস্তবায়ন দক্ষতা নিয়ে। বিশেষ করে সড়ক খাতের কয়েকটি প্রকল্পে একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন এবং সেতু নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি প্রকল্পে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কেন এই দীর্ঘসূত্রতা— তা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, ‘নগর জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ’ প্রকল্প। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ০৪টি প্রকল্প, (১) ‘অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসে সহনশীল অবকাঠামো (রিভার) প্রকল্প (১ম সংশোধন)’, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আবাসন নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ , ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধন)’ ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্প।

    সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’, ‘বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুংচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধন)’, ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধন)’, এবং ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকি জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ এবং ‘মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।