ক্যাটাগরি যশোর

Jashore district

  • চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে মাদক!

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় কাঁঠালের মধ্যে ৪০ বোতল ভারতীয় উইনসেরেক্স সিরাপ (একজাতীয় মাদক দ্রব্য) পাচার করার সময় পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) কে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ। বুধবার সকালে চৌগাছা সরকারি কলেজ এলাকার চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটকৃত আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের মৃত ওমর আলী খাঁর ছেলে।

    থানাসুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানার এস.আই ইমরান হোসেন রাজুর নেতেৃত্বে পুলিশের একটি দল চৌগাছা ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান করছিল। এসময় কাঁঠালের খোসার ভিতরে অভিনব কায়দায় পলিথিনে জড়ানো অবস্থায় মাদক যশোরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এস সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ ভারতীয়  মাদক ৪০ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধার করে। এবং পাচারকারী আব্দুর রাজ্জাককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মাদক পাচার আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    বি / এ

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজ

    জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধ ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার সাড়াতলা বাজারের একটি মুদি দোকানে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত তেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এজেন্টকে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও স্বচ্ছ ডিজেল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।’

    এ/ আর

  • চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় ৭ আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    চৌগাছায় বিশেষ অভিযানে ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের আটক করা হয়।

    আটককৃতরা হলেন, উপজেলার দিঘড়ী গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন (২৫), পুড়াপাড়ার খালপাড়া গ্রামের লুনু মিয়ার ছেলে আক্তার হোসেন (৪৪), মাসিলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৩), বল্লভপুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে আমিন তরফদার (২৩), মাধবপুর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে মিল্টন হোসেন (৩০), লষ্করপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে ইকবাল রহমান (২৮), ঝিনাইকুন্ড গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ছাব্বির হোসেন সজিব (২০)।

    চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে বিধি মোতাবেক পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

    বি/ এ

     

  • এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

    এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রায় দুই মাস এসিল্যান্ড নেই। দীর্ঘ সময় এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতিতে দেখা দিয়েছে দাপ্তরিক জটিলতা। নামপত্তন (মিউটেশন) থেকে শুরু করে আটকে গেছে ভূমিসংক্রান্ত সকল কাজ। একই সাথে স্থবির হয়ে পড়েছে পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রম । ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে জনদুর্ভোগ, তেমনি কমেছে সরকারি রাজস্ব আয়। কবে যোগদান করবেন নতুন এসিল্যান্ড সে বিষয়টি জানে না কেউ।

    এসিল্যান্ড না থাকায় চলতি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উপজেলা প্রশাসনের কাজ শেষ করে এসিল্যান্ডের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এসিল্যান্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের বদলি হয়। প্রায় দুই মাস পরে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রæয়ারি তারিখে যোগ দান করেন রেশমা খাতুন। তিনি যোগদান করে ৯ মার্চ তারিখে ছুটিতে যান। এরপর থেকে অদ্যাবধি কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় সমস্যা বেড়েই চলেছে।

    গত ৪২ দিনে নতুন কোনো এসিল্যান্ড না আসায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনও হিসেবে অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভূমি অফিস ও পৌরসভার দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের ১১টি ভূমি অফিসের অধীন জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে প্রতিদিন উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

    এব্যাপারে ১১ নং সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুড়াপুড়া গ্রামের শওকত আলীর মেয়ে বিথি খাতুন, নগরবর্ণী গ্রামের ইলাহি বকসের ছেলে আক্তারুজ্জামান, আব্দুর রশিদের ছেলে মনিরুজ্জামান জানান, তারা প্রত্যেকেই এক দেড়মাস আগে নাম জারির আবেদন করেছেন। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে কোনো খবর পাইনি তারা।

    জগদিসপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ এক দেড় মাস ধরে একটা নামজারি করতে দিয়েছি কিন্তু আজ পর্যন্ত পেলাম না। নামজারি না হলে জমি রেজিস্ট্রি করতে পারছি না। এজন্য আমি খুবই সমস্যায় পড়েছি’।

    অপরদিকে এই বিষয়ে চৌগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন- মিউটেশন বন্ধ থাকার কারণে রেজিস্ট্রি কমে গেছে। এতে করে কমে গেছে সরকারি রাজস্ব আদায়।

    চৌগাছা পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানান, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসেছিলেন। এসিল্যান্ড প্রায় দুই মাস ছুটিতে আছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও পৌরসভার দায়িত্ব নিতে চাননি। বর্তমানে পৌর প্রশাসক না থাকায় পৌরসভার সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফানজানা ইসলাম বলেন, বর্তমানে চৌগাছায় কোনো এসিল্যান্ড না থাকায়, আমি সহকারী কমিশনার (ভূমির) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ভূমি অফিসের সমস্ত কাজ চলছে। তবে এসিল্যান্ড না থাকায় আমার একার পক্ষে উভয় দপ্তর সামলানো কষ্ট কর হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুটি দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌরসভার দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    বি/ এ

     

     

     

     

  • চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছায় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ

    চৌগাছা (যশোর) প্রিতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় অবৈধভাবে পাচারের সময় ২০০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডিজেল পাচারের অপরাধে বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌর শহরের চানপুর মোড় থেকে এ তেল জব্দ করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি ভ্যান চৌগাছা থেকে শার্শা উপজেলার দিকে অবৈধভাবে ২০০ লিটার ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বুঝতে পেরে পৌর শহরের চানপুর মোড়ে ভ্যানটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও ফারজানা ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি এজেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত ডিজেল চৌগাছার বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

    এসময় চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোশাব্বির হুসাইন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    বি/ এ

  • সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

    ডেস্ক নিউজ

    যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে গ্রেপ্তারে পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ১। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

    সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    এ মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। আনিসুর ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন-চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। সকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

    এদিন শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগ পড়ে শোনায় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ট্রাইব্যুনাল বলে, আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবদেন খারিজ করা হলো।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে প্রথমে শুনানি করেন কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরল হকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।

    তিনি আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ওয়াইড স্প্রেড, সিস্টেমেটিক ও টার্গেটেট অ্যাটাকের বিষয় রয়েছে এখানে এমন কিছু হয়নি। এটি পৃথক একটি ঘটনা। এজন্য আলাদা আইন রয়েছে। এখানে এ মামলা চলতে পারে না। এসআই আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও একই গ্রাউন্ডে তার আসামির অব্যাহতির আবেদন জানান।

    এরপর পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত অধিকারের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময় টার্গেট করে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এমন অসংখ্য ঘটনা সারা দেশে ঘটেছে। যশোরের চৌগাছার ঘটনাটিও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক ও ওয়াইড স্প্রেডের একটি অংশ। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পরে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়।

    এরপর অধস্তন পুলিশদের দিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয় দুজনকে। ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে তাতে পচন ধরে। ফলে পরে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

    বি/ এ

  • সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন । এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষক পরিবারে এখন পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। মাঠে মাঠে আনন্দে মাতুয়ারা সোনালী ধানের শীষ। প্রতিটি শীষে যেন কৃষকের জীবনের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। অন্যদিকে সঠিক সময়ে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলার চাষীরা। প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তার পরেও মাঠে মাঠে ধান কাটার উৎসবের আমেজ। কৃষাণ-কৃষাণীরা মনে বইছে আনন্দের বন্যা।

    উপজেলা জুড়ে ধানের বাম্পার ফলনে বাধ-ভাঙ্গা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষকের মন। দিগন্তজুড়া সোনালী ফসলের মনোরম দৃশ্য এখন গোটা উপজেলা জুড়ে। কোনো এলাকায় দু’একজন চাষী ধান কাটলেও এক সপ্তাহ পরে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ফসল কাটার মহোৎসবে ব্যস্ততম সময় কাটাবেন এখানকার কৃষকরা।

    প্রচন্ড তাপদাহে খুব সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে সোনালী স্বপ্ন ঘরে তোলা সংগ্রাম। উপজেলার পাশাপোল গ্রামের মমিনুর রহমান, রাকৃষ্ণপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, কয়ারপাড়া গ্রামের আবু কালাম জানান , তারা তিন বিঘা করে বোরো ধান চাষ করেছেন। যে খরচ হয়েছে তাতে কম পক্ষে ১৭’শ টাক মন দরে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের জন্য ভালো হবে।
    কৃষকরা জানান, এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শ্রমিক সংকটের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ২০০ টন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, এবছরে ধানের আবহাওয়া ভালো। তাপে ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে দু’একজন কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। উপজেলা অধিদফতরের পক্ষ থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে রোবধান কাটা শুরু করা হবে। এতে শ্রমিক সংকট অনেকটা কমে আসবে। তা ছাড়া যেসব ক্ষেতে ধান নুয়ে পড়েছে সেসব ক্ষেতের ধান দ্রæত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

  • চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

    চৌগাছা মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পরেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি

     

    চৌগাছা  প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাস পার হলেও এখনো নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। গত বছরের ১১ জুলাই তৎকালীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়,চৌগাছা শহরে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ৩১ আগষ্ট দরপত্র আহবান করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। নির্মাণের জন্য ডিপিপি মুল্য দেওয়া হয় ১৪ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। যশোর উপশহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসআই একেজে পিসি ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণরুপে শেষ করে দিবে। কিন্তু চৌগাছা উপজেলা প্রশাশন ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন দীর্ঘদিনেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মসজিদ নির্মাণের জায়গা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণে শুরু থেকেই নানা জটিলতায় পড়ে উপজেলা প্রশাসন। পরে এলাকাবাসীর জোর দাবির মুখে চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে (বর্তমান কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে) মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৮ হাজার ৬’শ ৮৫ বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মসজিদের জায়গা নির্ধারণের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদসহ উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সকল পর্যায়ের গন্যমাণ্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জাঁকজমকপূর্ন ভাবে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ৮ মাস পার হলে গেলেও অদৃশ্য কারনে এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
    নির্ধারিত স্থানের দক্ষিণ ও পশ্চিম সাইডের রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা খালি রেখেই মসজিদ নির্মান কাজের স্কেচ তৈরি করা হয়। স্কুলের অব্যবহারিত বিশাল ফাকা জায়গা পড়ে থাকায় ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্ততার বিয়টি আমলে নিয়ে রাস্তার পাশে জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাঁকা থাকলে নামাজের সময় শহরে যানজটও হবেনা ।
    নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য স্কুলে প্রবেশ মুখের সড়কের পাশের কিছু দোকান উচ্ছেদের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন মহেশপুর সড়ক ও স্কুলের প্রবেশ পথসংলগ্ন দোকানগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
    স্কুলটির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন স্কুলের জায়গার অভাব নেই। ক্ষমতার পালাবদলে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্কুলের সিংহভাগ জায়গা ভোগ দখল করছে। তারা বলেন, মসজিদটি দক্ষিণ-পশ্চিম রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে নির্মাণ করলে ভালো হবে। তাতে স্কুলেরও কোনো সমস্যা হবেনা। বরং স্কুলে প্রবেশের রাস্তাটি প্রশস্ত হওয়া খুবই জরুরী। কারণ পরীক্ষার সময় এই রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। রাস্তাটি প্রশস্ত হলে শিক্ষার্থীরা নির্বিগ্নে যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তাদের দখলীকৃত জায়গা না ছেড়ে নানা টালবাহানা করার কারণে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। অনেকে বলছে একজন রাজনৈতিক নেতা ঐসকল ব্যবসায়িদেরকে জায়গা না ছাড়তে ইন্ধন দিচ্ছেন।
    প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি আবু জাফরসহ বেশকয়েকজন জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে দোকানঘর রেখে নির্মান কাজ মোটেও উচিৎ হবেনা। দোকানগুলো উঠিয়ে রাস্তার পাশে কিছুটা জায়গা ফাকা রেখে নির্মাণ কাজ শুরু করলে খুবই ভালো হবে।

    তবে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার অপতৎপরতার কারণে দোকান উচ্ছেদ কার্যক্রম থেমে আছে। ওই নেতা মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দোকানগুলো না সরিয়েই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয়দের মতে, দোকানগুলো অপসারণ না করে নির্মাণ কাজ শুরু করলে মসজিদের সৌন্দর্য ও পরিকল্পনা ব্যহত হবে। তারা নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের রাস্তার পাশ ঘেঁষে নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

    এদিকে, সকল জটিলতা দ্রুত নিরসন করে মসজিদের নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু করার জন্য উপজেলাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

    বি/ এ

  • চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় আনিচুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল হাদিকে (৪৫)গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় ।

    হাদি জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আনিচুর রহমানকে হাদি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২১ তারিখ ৩০/১০/২০২৪ ।

    দীর্ঘ তদন্ত শেষে চৌগাছা থানার এসআই সলিমুল হক আদালতে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন এবং ৫ জনকে খালাস দেওয়ার আবেদন করেন । চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল হাদি , ওহিদুল ইসলাম,লেন্টু মিয়া,আমিন উদ্দিন ,কুরবান আলী ও হুজাইফা ইসলাম। আসামিদের মধ্যে সবাই আদালত থেকে জামিন নিলেও হাদি পলাতক থেকে যায় । শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করে ।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সলিমুল হক হাদিকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ,আসামিকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

    বি/ এ

  • হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজ

    টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

    হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

    একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

    উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।