ক্যাটাগরি খুলনা বিভাগ

  • মাগুরায় রাইস মিলে কেমিক্যাল দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ

    মাগুরায় রাইস মিলে কেমিক্যাল দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ

    বিডিনিউজডেক্স

    মাগুরায় সদরের আলোকদিয়া এলাকায় অটো রাইস মিলে কেমিক্যাল ঢালার সময়ে সেটি উথলে পড়ে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সদরের আলোকদিয়া এলাকায় আমেনা অটো রাইস মিলে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার মোহাম্মদ শিপন (৪৫), ফরিদপুর জেলার সবুজ (৩২), শাহিন হোসেন (২০), জয়পুরহাটের অনুকূল (২৪) ও মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের রেজওয়ান (৩৮)। তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার ইমরান আহমেদ জানান, আহতদের শরীরে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    আহতদের সহকর্মী শ্রমিক জুয়েল শেখ বলেন, মিলে ব্যবহৃত কেমিকেল মাঝেমধ্যেই পরিবর্তন করতে হয়। শনিবার দুপুরে কেমিক্যাল ঢালার সময় তা হঠাৎ উথলে গিয়ে তাদের গায়ে পড়ে যায়। তখন আমরা দ্রুত ছুটে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।

    মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

  • নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক করে গড়ে তুলব : গোলাম রসুল

    যশোর জেলা প্রতিনিধি :

    বাঘারপাড়ায় আল হেলাল ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধসেবা প্রদান করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণির মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন যশোর ৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, উপজেলা আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি আ. জব্বারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাস্টার নাসির হায়দার। ক্যাম্পে ৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিনব্যাপী রোগীদের সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেন। অধ্যাপক গোলাম রসুলের তত্ত্বাবধানে আগত রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সে বিশ্বাস করে। যেখানে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া হয়। আমি নির্বাচিত হলে বাঘারপাড়ার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও কার্যকর করে গড়ে তুলব। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটির যৌথ আয়োজন করে কাইন্ড ভিশন যশোর ও আল হেলাল ট্রাস্ট বাঘারপাড়া। স্থানীয় জনসাধারণ অধ্যাপক গোলাম রসুলের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
    বি/এ

  • চৌগাছায় রহস্যজনক আগুনে কৃষকের ৫ গরুর মৃত্যু

    চৌগাছায় রহস্যজনক আগুনে কৃষকের ৫ গরুর মৃত্যু

    চৌগাছা( যশোর) প্রতিনিধি:

    যশোরের চৌগাছায় কোহিনুর মল্লিক নামে এক কৃষকের ৫ টি গরু আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তিনি উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে। কোহিনুর মল্লিক জানান রবিবার (৯-১১-২৫) গভীর রাতে গরুর ডাক চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি আমার গোয়াল ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় প্রতিবেশীরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।গোয়াল ঘরে ৪ টি গাভী ৪ টি ষাঁড় ও দুটি বাছুর গরু ছিল। ১০ টি গরুই আগুনে দগ্ধ হয়ে যায়।তার মধ্যে ৫ টি গরু গোয়াল ঘরের মধ্যে মারা যায়। বাকি ৫ টি গরুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কোহিনুর মল্লিক এবং প্রত‍্যক্ষদর্শীরা বলেন, গোয়াল ঘরে আগুন লাগার কোন ক্লু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, কেউ শত্রুতাবশত আগুন দিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে জোর তৎপরতা চালানো হবে
    বি/এ

  • মেহেরপুরে পদ্ম ফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চার শিশুর মৃত্যু

    মেহেরপুরে পদ্ম ফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চার শিশুর মৃত্যু

    মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের মশুরিভাজা বিলে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৩ জনসহ চার ছাত্রীর মমান্তির্ক মৃত্যু হয়েছে।

    রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রথমে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একজন নিখোঁজ থাকায় পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গিয়ে অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলো, আব্দুস সামাদের মেয়ে ফাতেমা (১৪) ও আফিয়া (১০)। এদের মধ্যে ফাতেমা মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এবং আফিয়া বারাদি তৃণমূল মডেল একাডেমির চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। ইরাক প্রবাসী সাহারুল ইসলামের মেয়ে ও বারাদি তৃণমূল মডেল একাডেমির চুতর্থ শ্রেণীর ছাত্রী আলেয়া (১০), ইসাহাক আলীর মেয়ের আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী মিম (১৪)। নিহত সকলের বাড়ি রাজনগর গ্রামের মল্লিকপাড়ায়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে চারজনই একসঙ্গে মশুরিভাজা বিলে পদ্মফুল তুলতে মশুরিভাজা বিলে যায়। দীর্ঘক্ষণ তারা ফিরে না আসায় বিকালের দিকে পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজতে বের হয়। বিলপাড়ে তাদের স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে যে একজনের লাশ পানিতে ভাসছে। তারপর খোঁজাখুঁজির পর আরও দুটি মরদেহ দেখতে পায়। একজনের খোঁজ না পেয়ে মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সেখানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মমান্তিক এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ শোকে ভারী হয়ে উঠেছে।

    মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের টিম লিডার শামিম হোসেন জানান, পদ্মফুল তুলতে গিয়ে চারজন বিলে ডুবে যায়। স্থানীয়রা ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। একজনকে খুঁজে না পেলে আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে বিলের একটি গর্তের মধ্যে থেকে বাকি জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই রেজাউল ইসলাম বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে চারজন মশুরিভাজা বিলে পদ্মফুল তুলতে যায়। ফুল তুলতে গিয়ে তারা একটি গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ সুমাইয়া জাহান ঝুকার্সহ প্রশাসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত পরিবারের খোজ খবর নিয়েছেন।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতদের দাফনের জন্য মরদেহ প্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

    মেহেরপুর সদর থানার ওসি মেছবাহ উদ্দিন বলেন, নিহত চারজনের কেউ সাঁতার জানতো না। বিলে একেক যায়গায় একেক রকম গভিরতা। যেকারণে তারা বুঝতে না পেরে বিলে তলিয়ে গেছে। পরে তাদের খোঁজাখুজি করার পর স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

  • কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    কুষ্টিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা।

    বিডিনিউজ ডেক্স : কুষ্টিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সনাকের সভাপতি আসমা আনসারী মিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান সনাক সদস্য অশোক সাহা। বক্তব্য রাখেন টিআইবির সমন্বয়কারী কাজী শফিকুর রহমান, খুলনা ক্লাস্টারের সমন্বয়কারী ফিরোজ উদ্দিন, সনাকের সদস্য রফিকুল আলম টুকু, ড. সরোয়ার মোর্শেদ, নীলিমা বিশ্বাস, হালিমা খাতুন, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান লাকি, তারিকুল হক তারিক প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সনাকের সহ-সভাপতি শাহজাহান আলী। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রতিবন্ধকতা সমূহ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর রায়হানুল ইসলাম।  অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপের সদস্য সুমাইয়া খাতুন ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের সদস্য ইমাম মেহেদী। এতে সনাক, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা অংশ নেন। সভায বক্তারা বলেন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও দেশ গঠনে দুর্নীতি প্রধান অন্তরায়। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের বিকল্প নেই। বিকেলে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়

  • বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মেহেরপুর পথচারী নিহত

    বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় মেহেরপুর পথচারী নিহত

    বিডিনিউজ ডেক্স : মেহেরপুরে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাতটার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের শহরের ব্রাক অফিসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, সকালে শরিফুল ইসলাম মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক পার হওয়ার সময় মেহেরপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বিআরটিসি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এসময় সড়ক ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
    ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
    মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মেজবা উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতলের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করুন

    ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করুন

    অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা একটি দেশের জন্য চরম ক্ষতিকর। জমির মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন গভীর খাদ ও গর্তের সৃষ্টি করে, তেমনি অপরদিকে চাষযোগ্য জমিগুলোর হ্রাস ঘটে। দিনদিন চাষযোগ্য জমি হ্রাস পেতে থাকলে খাদ্যের সংকট বেড়ে যাবে। চাষাবাদের জন্য মাটির উপরিভাগ হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ‘টপ সয়েল’ নামে পরিচিত। এটা নষ্ট হয় কেবল মাটি খননের ফলে। এই স্তরটি পুনরায় গঠিত হতে প্রায় ২০-২৫ বছর সময় লাগে। সুতরাং মাটি খনন অত্যন্ত ক্ষতিকর। অপরদিকে মাটির স্তরের ভারসাম্যও দূর্বল হতে শুরু করে। এভাবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হতে থাকে। অবৈধ মাটি খননকারীরা দেশের গঠন-কাঠামোর ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাছাড়া এ কাজে বাধা দিতে আসলে স্থানীয়দের পড়তে হয় হুমকির মুখে। অতএব, অবৈধ মাটি কাটা সিন্ডিকেট প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

    এ/র

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে অবস্থিত কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’। এই সংগঠনটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ কাজ করে যাচ্ছে এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

    সংগঠনটির কার্যক্রমে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামের কৃষকদের কাছে, মাঠে গিয়ে তাদের বই পড়ে শুনিয়ে আসেন। জানান চাষের আধুনিকতা, জীবনমান উন্নয়নের গল্প, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপায়, সাহিত্য, ভ্রমণসহ নানাবিধ বিষয়ে। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন; যা জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করছে গ্রামের নিরক্ষর চাষি এবং সাধারণ মানুষদের।

    এছাড়া বর্তমানে তীব্র তাপদাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টি বা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কৃষিতে। আলাদা সেচের ফলে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত খরচ। এ নিয়ে ফসল চাষ করেও ক্ষতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। জলবায়ুর এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করে কৃষকদের উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছে এই সংগঠন। ফসলের মাঠ ঘুরে কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করেন এবং পরামর্শ দেন।

    কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মিরপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক ছামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা এসে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন। বই পড়ে শোনান কিভাবে ফসলের ভালো উৎপাদন করা যাবে। এটা আমাদের কৃষকদের জন্য অনেক বড় উপকার। আমরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। আর জমিতে পার্চিং করা সহ ক্ষেতের আইলে বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এখন ফসলের মাঠ দেখতেও আরও সুন্দর লাগে।

    এদিকে এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এই সংগঠনটি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, নেতৃত্ব শেখানো এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী এবং সদস্যদের। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

    এ বিষয়ে সংগঠনের সদস্য সাদিয়া খাতুন বলেন, আমরা যখন কৃষকদের বই পড়ে শোনায়, তার আগে নিজেরা সেই বইটি ভালো করে পড়ি; তা না হলে তো আমরা সেটি পড়ে কৃষকদের বোঝাতে পারবো না। এদিক থেকে আমাদের উন্নয়নটা অনেক বেশি। আমরা পাঠ্যক্রমের বাইরেও অনেক বিষয়ে জানতে পারছি। আর সব থেকে বড় ব্যাপার হলো এগুলো আমরা শুধু পড়িই না, বরং তা আত্মস্থ করি। কেননা সেগুলো আমাদের আবার কৃষককে বোঝাতে হয়। অনেক সময় একটা বই পড়ার পরেই আমরা তা ভুলে যায়, কিন্তু এভাবে চর্চার ফলে আমরা সহজে ভুলি না। ফলে বিভিন্ন বিষয় খুব ভালোভাবে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অন্যদের তুলনায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারছি। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

    কৃষকের বাতিঘরের স্বেচ্ছাসেবী মো. শোয়েব মল্লিক বলেন, আমি আগে কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি কৃষকের বাতিঘরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর এখানে থেকে আমাকে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমি এখন কম্পিউটারে দক্ষ। এখন নিজে একটা কম্পিউটার কিনে সংগঠনের কাজেও সহায়তা করি, অন্যদেরও কম্পিউটার শিখতে সাহায্য করি।

    কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কৃষি, ব্যবসা, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছে কর্মসংস্থান।

    সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে মিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, কৃষকের বাতিঘর সংগঠন আমাদের উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকশই কৃষিতে উদ্বুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের বাতিঘর সংগঠন এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই কৃষি সম্পর্কে সচেতন করছে। এছাড়াও সংগঠনটি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমি আশা করি, কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের এই উদ্যোগ আমাদের উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    সার্বিক বিষয়ে কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোক্তা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রম কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কৃষকদের ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামে বসবাসকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, এবং কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিশ্বাস করে যে দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। সূত্রঃ দৈনিক আমাদেরসময়

    বিডিটাইমস/এআর/এনই/

  • খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার খোকসায় ডলফিন হত্যা করে ফেসবুক-টিকটক করার অপরাধে এক যুবককে আটক করেছেন থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে খোকসা কলেজ রোড থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত যুবক খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আ. আওয়ালের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০)।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্দাম একটি ডলফিন পদ্মা নদী থেকে ধরে হত্যা করে সেটি কাঁধে নিয়ে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে।

    ঘটনাটি কুষ্টিয়া বনবিভাগের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বনবিভাগ কমকর্তা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সাদ্দামের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে খোকসা কলেজ রোড থেকে সাদ্দামকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মঈদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগ খোকসা থানায় অভিযোগ করে আমবাড়িয়ার সাদ্দাম নামে একটি ছেলে পদ্মা নদী থেকে ডলফিন ধরে এনে সেটি হত্যা করে টিকটক ভিডিও করেছিল। বন বিভাগ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে এটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আসামিকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। ডলফিনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আদালতে আসামির রিমান্ডের আবেদন করেছি। ডলফিন উদ্ধারের কাজে আমরা তৎপর থাকব।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বলেন, তাদের বাড়ির পাশ দিয়েই ডলফিনটি একজন ভ্যান চালক নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার কাছ থেকে নিয়ে ভিডিওটি করেছেন। ভ্যানচালককে তিনি মুখ দেখলে চিনবেন। তবে ভ্যানচালকের নাম জানেন না বলে জানিয়েছে আসামি।

    বিডি/ আর/এনই/
  • চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় শুটকি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫.৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমণ কাঁচা মাছ ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তাড়াশের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে প্রায় ১ কেজি শুটকি তৈরি হয়। উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। সকাল বা বিকেলে স্থানীয় আড়ত থেকে এসব মাছ কিনে এনে চাতালে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। চলতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে নারীরাই বেশি দক্ষ বলে জানা গেছে।

    চলনবিলে শুটকি তৈরির কাজ শুরু হলেও বাজারজাত হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। শুকনো মৌসুমে এসব শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, এখানকার উৎপাদিত শুটকির বেশিরভাগই সৈয়দপুর আড়তে যায়।

    তাড়াশ এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এবার শুটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলে যত্রতত্র পুকুর খনন এবং বন্যা কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, গত বছর ৩০ থেকে ৩২ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হলেও এবার ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়।

    চাতালের নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার। একজন নারী শ্রমিক দিনে ২৫০ টাকা পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু নারী শ্রমিকদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসীর হাছেন আলী বলেন, বর্ষাকালে মাছের আমদানি বেশি হয়। এলাকার হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে এনে তারা শুটকি তৈরি করেন। এখানকার শুটকি মাছ সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

    চাতালের নারী শ্রমিক হাফিজা ও শাহিনুর জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা মাছ বাছাইয়ের কাজ করেন। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে এখানে ৩০–৩৫টি চাতালে শুটকি উৎপাদন চলছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। এখানকার শুটকির চাহিদা দেশের বিভিন্ন মোকাম বাজারে রয়েছে। উৎপাদিত শুটকি ঢাকা ও নীলফামারীতেও পাঠানো হয়।

    সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। সিরাজগঞ্জের শুটকির চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। এখানকার শুটকি নীলফামারী আড়ত হয়ে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।