ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • কারিমার মেডিকেল জয়

    কারিমার মেডিকেল জয়

    হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী কারিমা খাতুন। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (এমবিবিএস) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। হতদরিদ্র বাবার একমাত্র মেয়ে কারিমার এমন সাফল্যে খুশির জোয়ারে ভাসছে এলাকাবাসী।

    কারিমা রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুল করিম মন্ডলের মেয়ে। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর নিয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে দুর্গাপুর উপজেলার বেলঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২৩ সালে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ- ৫ পান তিনি।

    কারিমার বাবা আব্দুল করিম মন্ডল বলেন, আমার দুটি সন্তান এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। ছেলেটিও এইচএসসি পাস করেছে। আমি একজন দরিদ্র মানুষ, দিন এনে দিন খাই। পরের জমিতে কামলা দিই। খুব কষ্ট করে আমার সংসার চালাতে হয়। তারপরও আমার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে কমতি রাখিনি।

    করিম মন্ডল আরও বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি এবং আমার সন্তানদের শিক্ষকদের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মেয়ে যেন বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

    কারিমা খাতুন বলেন, বাবা পেশায় দিনমজুর হলেও কখনো লজ্জাবোধ করি না। নিজেকে ছোট ভাবি না। কারণ বাবা সৎভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করে। আমরা দুই ভাই-বোন। আমি ছোট ভাই বড়। ভাই ডিএমডি রোগে আক্রান্ত, হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। এই রোগের চিকিৎসা এখনো আসেনি। তারপরও ভাই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কারিমা বলেন, আমি একজন ভালো ডাক্তার হতে চাই। সবার পাশে থাকতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। প্রতিবন্ধী ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে চাই।

    নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ রেজাইল করিম বলেন, কারিমা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার কারণে আমরা অনেক খুশি। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা একজন দিনমজুর। মানুষের কাজ করে তার বাবা সংসার চালান এবং ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করান। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে দোয়া করি কারিমা যেন বড় ডাক্তার হতে পারে এবং এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর সেবা করতে পারে।

    বি/এ

  • অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার দায়ে প্রশাসনের অভিযানে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটার দায়ে প্রশাসনের অভিযানে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজঃ

    পরিবেশ সংরক্ষণ ও পাহাড় ধস প্রতিরোধে আলীকদম উপজেলায় অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনাজোন ও উপজেলা প্রশাসন। এ অভিযানে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে আলীকদম সেনা জোনের আওতাধীন জোন সদর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়তলী পাড়া এলাকায় ক্যাপ্টেন মো. হিরবল উম্মা হামিমের নেতৃত্বে রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মমনজুর আলম নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

    এই সময় স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(ঙ) ধারায় দুইজনকে মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত তিনটি ছোট ট্রাক ও একটি স্কেভেটরের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে প্রতিটি যানবাহনের জন্য ১ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ও আটক যানবাহনগুলো আলীকদম থানা পুলিশের সহায়তায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে যানবাহনগুলো জব্দ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

    আলীকদম জোন কমান্ডার জানান, পাহাড়ের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। সেনা জোন ও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে।

    এম কে

  • বান্দরবানে ৯৫ শতাংশ হোটেল আগাম বুকড

    বান্দরবানে ৯৫ শতাংশ হোটেল আগাম বুকড

    ডেস্ক নিউজঃ

    বান্দরবানের প্রায় ৯৫ শতাংশ হোটেলের আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ১৬-২৫ ডিসেম্বর জেলায় ব্যাপক পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জেলা সদরের হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

    পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত এ অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে তা বাড়ে কয়েকগুণ। অদ্ভুত কারণে গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে ১৬-২৫ ডিসেম্বরের জন্য ৯৫ শতাংশ আগাম হোটেল বুকড করে নিয়েছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার আক্কাছ উদ্দিন বলেন, ‘হোটেলে ৪৫টি কক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে আগামী ১৬-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্ষগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।’হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার তপন বড়ুয়া বলেন, ‘তাদের হোটেলেও ওই দিনগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।’হিলভিউ হোটেলের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘বর্তমানেও তাদের হোটেলের ৪০ শতাংশ কক্ষে পর্যটক রয়েছে। তবে ১৬-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।’হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. জাফর বলেন, চলতি মাসজুড়ে তাদের হোটেলে ভাল পর্যটকের সাড়া পেয়েছিলেন। মাসের আগামী দিনগুলোতেও গড়ে ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশীরা।বান্দরবান হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, চলতি ডিসেম্বরে পর্যটন খাত নতুন করে গতি পেয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগাম বুকিংয়ের এ প্রবণতা স্থানীয় পর্যটন ও আবাসন খাতের পূর্বের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এম কে

  • রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    ‘বাজারে মুলা তোলার আগেই সব শেষ হইয়া গেল—এই যে জমি, এখন শুধু পানি আর পানি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে জমির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মন্ডল। রাব্বানীর চোখের কোণে পানি, পায়ের নিচেও হাঁটুসমান পানি। একসময় যে জমি ভরে উঠেছিল মুলার গাছে, এখন সে জমি ডুবে রয়েছে বৃষ্টির পানিতে।

    নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে এখনো এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার হাজারো কৃষক এখন বড় ক্ষতির মুখে। শাক থেকে শুরু করে ঢ্যাঁড়স, মুলা, পেঁয়াজ; এমনকি আমন ধান—সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪ হাজার ২০০ জন। দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই সময়ে এমন বৃষ্টি আর কখনো দেখেননি তাঁরা। গতকাল সকালে পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক রাব্বানী মন্ডলের সঙ্গে। মুখে বিষণ্ণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না, যে বৃষ্টি এবার হইছে। এখনো পানি নামেনি। ৫ বিঘা জমি পানির নিচে। চারপাশে পুকুর, পানি নামারও পথ নাই।’

    রাব্বানী আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে কঠিন হবে।’

    পবা উপজেলার শিয়ালবেড়, পাইকপাড়া, দাদপুর ও মুরারীপুর গ্রামের মাঠজুড়ে একই চিত্র। যেদিকে চোখ যায়, এখনো চোখে পড়ে কেবল পানি। কোথাও ধান হেলে পড়েছে, কোথাও শাকসবজি ডুবে রয়েছে পানির নিচে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১২ কাঠা জমিতে শাকসবজি করেছিলাম, বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় তো বৃষ্টি হয় না।’

    একই এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ১ বিঘা জমিতে বি৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান কাটার আগেই নভেম্বরে অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠেছে, বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। মাঠে দেখা গেল, কৃষকেরা কাদামাটি মাড়িয়ে হেলে পড়া ধান কেটে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁর ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। মনে হচ্ছে খরচের টাকাও উঠবে না। তিন দিন পর বৃষ্টি হইলে এই সর্বনাশ হতো না।’

    পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, নভেম্বরের শুরুতেই যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটি মূলত নিম্নচাপের কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন জমি শুকিয়ে দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।

    বি/এ

  • সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন, সর্বস্ব হারাল শতাধিক গ্রাহক

    সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন, সর্বস্ব হারাল শতাধিক গ্রাহক

    ডেস্ক নিউজ

    ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত শতাধিক মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঋণ বিতরণের কথা থাকলেও দুপুর গড়াতেই এনজিওটির কর্মীদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’। তবে এ ধরনের কোনো সংস্থার বৈধ অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি সাধারণ মানুষের হাতে যে সঞ্চয় বইগুলো দিয়েছেন তাতে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা রয়েছে প্রধান কার্যালয় ঢাকার ডি-ব্লক মিরপুর-২, ১২১৬ ।

    ভুক্তভোগীরা জানান, গত দুই দিন ধরে একদল লোক এনজিও পরিচয়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে সদস্য সংগ্রহ করছিল। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে, পাশাপাশি ১১ হাজার টাকা জমা দিলে ১ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। শর্ত ছিল এই ঋণ দুই বছরের মধ্যে সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

    ভুক্তভোগী পৌরসভার বাঁশপাড়া গ্রামের রত্না বেগম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে বলে ৫৩ হাজার টাকা নিয়ে যায় আমার কাছ থেকে। রাধানগর ইউনিয়নের মো. টিপু বলেন, আমার কাছ থেকে ২২ হাজার, জেসমিন জাহানের থেকে ২২ হাজার, হিছাছরার আনজুম আরার ৬০ হাজার টাকাসহ আরও শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে থানা পাড়া সামছুল হক ম্যানশনে তাদের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৪টার সময় শতাধিক জনকে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ, কেউ নেই।

    একই এলাকার সুমন বলেন, এ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে আমি এখন দিশাহারা। এদিকে গ্রাহকরা এনজিওটির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার ফোন দিলেও সব নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আনজুম আরা বেগম বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, ভুয়া এনজিও খুলে অনেক মানুষ থেকে টাকা হাতে নিয়েছে বলে এক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।

  • রাউজানে ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

    রাউজানে ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের রাউজানে আবু সাঈদ ওরফে রিপন (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি, মাদক ও নগদ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রিপনের বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন এসব কথা জানান।

    গ্রেপ্তার রিপন রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জানালীহাট এলাকার শওকত আকবর চৌধুরী প্রকাশ জুনুর ছেলে।

    বেলায়েত হোসেন জানান, গতকাল শনিবার সুলতানপুর সরকারপাড়া এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিতে তাঁর হেফাজত থেকে পাঁচটি পিস্তলের গুলি, ২০টি ইয়াবা এবং নগদ এক হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে আসামির দেখিয়ে দেওয়া একই এলাকার খাজা গরিবে নেওয়াজ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের পেছনে কালুর গরুর ফার্ম থেকে কাঠের বাঁটযুক্ত একটি দেশীয় তৈরি এলজি এবং চারটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘রাউজানে কোনো সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • চট্টগ্রামে সড়ক থেকে নৌবাহিনী সদস্যের লাশ উদ্ধার

    চট্টগ্রামে সড়ক থেকে নৌবাহিনী সদস্যের লাশ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সড়কের ওপর থেকে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের চিকনদন্ডী ইউনিয়নের বড়দিঘির পাড় এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন।

    নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (২৯)। তিনি ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের মতিননগর চিকনছড়া এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার ছেলে। নিহত দেলোয়ার বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সকালে হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় মোটরসাইকেলসহ দেলোয়ার অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে পথচারীরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    রাউজান হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাফর আহমদ বলেন, নিহত ব্যক্তির মাথা, বুক ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলানো ছিল। তাঁর একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেইলর পদে কর্মরত ছিলেন।

    রাউজান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় ওই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা নিশ্চিত নয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

  • রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    রাজস্থলী বন্যহাতির মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ

    রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বাচ্চা প্রসবের সময় একটি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মারা গেছে শাবকটিও।

    মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের কাইতংপাড়া এলাকা থেকে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিমং মারমা বলেন, সকালে বনের মধ্যে মৃত অবস্থায় মা হাতি ও শাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি ও শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করে।

    রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান  বলেন, প্রসবকালে শাবকটির দেহের অর্ধেক আটকে যায়। এ সময় মা হাতি ও শাবকের মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ডেস্ক নিউজ

    রাঙামাটির পার্বত্য জুরাছড়ির দুর্গম লেবারপাড়া গ্রামের এক কোণে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন বিধবা লুংঘাছড়ি চাকমা (৬৫)। স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবন থেকে যেন সব আলোই কেড়ে নিয়েছিল। টিন আর বাঁশে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি নড়বড়ে কুঁড়েঘরে ঝড়-বৃষ্টির রাতগুলো তাঁর জন্য হয়ে উঠত নিদারুণ কষ্টের। নিজের অসহায় জীবনের বোঝা বহন করতে করতে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন একটি বসতঘর পেয়ে লুংঘাছড়ির জীবনে ফিরেছে আশার আলো।

    মুহূর্তটি লুংঘাছড়ির জীবনে যেন নতুন জন্মের মতো। ঘরের চাবি হাতে নিয়ে তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি, আনন্দে চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা।

    লুংঘাছড়ি চাকমা বলেন, ‘আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ চেয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

    ঘর হস্তান্তরের সময় পাশে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সবার চোখেমুখে তখন ছিল সন্তুষ্টির হাসি।

  • ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি পরিযায়ী হিমালয়ান শকুনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকা থেকে পাখিটি উদ্ধার করা হয়।

    পাখিটির ডান পায়ের থাবার অংশ নেই এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘ উড়ানের ক্লান্তিতে নিচে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর কাঞ্চনা এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে শকুনটি হঠাৎ আকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা বন বিভাগকে খবর দিলে কর্মকর্তারা রাতে গিয়ে শকুনটিকে উদ্ধার করে।

    বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশে শকুন বিলুপ্তপ্রায়। উদ্ধার হওয়া শকুনটি পরিযায়ী প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ নামে পরিচিত। এটি শীত এলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দক্ষিণে নেমে আসে। দীর্ঘ পরিযায়নের ক্লান্তিতে শীতকালে এ প্রজাতির শকুন প্রায়ই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বল অবস্থায় আটকা পড়ে।

    আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের গবেষক সীমান্ত দীপু জানান, প্রতি বছর শীতকালে হিমালয়ান গৃধিনী শকুন বাংলাদেশে আসে এবং উড়তে না পেরে অনেক সময় আটকা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বন বিভাগ বা আইইউসিএনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, প্রায় সাত কেজি ওজনের উদ্ধার হওয়া শকুনটির ডান পা ছিল না। দীর্ঘ পথ উড়ার পর খাবার না পেয়ে শকুনটি ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। আমরা শকুনটিকে খাবার দিয়েছি, এখন মোটামুটি সুস্থ। তবে উড়তে পারার মতো শক্তি নেই। শকুনটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালে পাঠানো হ

    য়েছে। সেখানেই পরিচর্যার পর পাখিটিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    উদ্ধার হওয়া হিমালয়ান গ্রিফন শকুন প্রজাতিটির আইইউসিএনের লাল তালিকায় রাখা হয়েছে ‘প্রায়-বিপদগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে। এর মানে হলো, এই প্রাণীর প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।