ক্যাটাগরি ছবি

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

     

     

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

    এ/আর

  • কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন শেল্টার ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৮টি প্রকল্প শুরু হলেও অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়মে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে গা-ঢাকা দেয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বর্তমানে উপজেলার জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপূর্ণ রাস্তা ও ভাঙা ব্রিজ। অনেক জায়গায় শুধু পাইলিং করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে; কোথাও বা রাস্তা খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে রেখেছে। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জিওবিএম, বিজেপি, আইবিআরপি, আইআরআইডিপি-৩, সিসিটিএফ, আইপিসিপি, পিডিআরআইডিপি ও ডিআরআরআইডব্লিউপি প্রকল্প। এর মধ্যে বিজেপি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক এবং পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেক কাজ করে বন্ধ রেখেছে।

    একইভাবে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় শিয়ালকাঠি ইউপির সামনে ৬ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজের কাজও পাইলিং পর্যায়ে আটকে আছে। এ ছাড়া পারসাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসা, সয়না রঘুনাথপুর, জয়কুল খেয়াঘাট, চিরাপাড়া সুবিদপুর, জোলাগাতি ফলইবুনায়া ও কেউন্দিয়া সড়কের গার্ডার ব্রিজগুলোতেও একই চিত্র।

    এসব কাজের অধিকাংশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে চিরাপাড়া জিএম স্কুল-ডুমজুড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে রেখেছে। অন্যদিকে ইফতি ইটিসিএল হোগলাবেতকা বাজার থেকে পুলেরহাট সড়কের কাজও শেষ করেনি।

    এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অসমাপ্ত রয়েছে। একইভাবে হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোড ও রঘুনাথপুর মেঘপাল সড়কেও অল্প কাজ করে বন্ধ রেখেছে ইফতি ইটিসিএল। এভাবে ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ২৮টি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, আর ঠিকাদাররা পলাতক।

    স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকারের বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে।’

    এ/ আর

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

     

     

  • শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎ফরিদা আখতার বলেন, ৭২-এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই ‘হাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেওয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসার পরীক্ষিৎ চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

    এ আর

  • অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

    অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

     

    ডেস্ক নিউজঃ

    নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমানকে দেখা গেছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বজলুর রহমান নামে বিএনপির ওই নেতা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে নির্বাচন সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে বজলুর কানে কানে বলতে শোনা যায় নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। তাদের এই কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বজলুর রহমান। আলাপচারিতায় উপস্থিতরা প্রত্যেকে এই প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে জানতে বজলু রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওতে সম্পর্কে আমরা অবগত। এটা নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমরা ভিডিও সম্পর্ক অবগত রয়েছি। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী  বলেছেন, আমি ভিডিও সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিচ্ছি।

    এম কে

  • পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র ১৭ বছর বয়সের কলেজপড়ুয়া ছাত্র কাজী হাসিব টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেছেন মিগ-২৯ মডেলের রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড্ডয়ন করা হয়। যুদ্ধবিমানের মতোই দ্রুত গতিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দৃষ্টিনন্দন ডিগবাজি খেতে খেতে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। বিমানের শব্দ শুনে মনে হয়, যেন এটা আসলেই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান।

    বিমানটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে জানান এই তরুণ উদ্ভাবক।

    কাজী হাসিব উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাজী ইলিয়াসের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সের (ডিপ্লোমা) প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। কাজী হাসিবের এমন কারিশমায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    ‎জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয় কাজী হাসিব। সে নবম শ্রেণি থেকেই শুরু করে এই বিমান তৈরির গবেষণা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর সে সফলতার মুখ দেখেন। দরিদ্র পরিবারের কাজী হাসিব তার স্বপ্ন পূরণ হয়।

    দীর্ঘদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেন এই যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। এ জন্য তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ এ বিমানটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন, ডিপরম শিট ও ককশিটের বডি, পাওয়ার ব্যাটারি, ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ইলেকট্রনিক স্পিড কন্ট্রোলার, সার্ভো, মোটর, প্রপেলার, ব্লগান, আঠা ও কসটেপ। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয় এই মিনি বিমান। বিমানটি যখন আকাশে ওপরের দিকে উঠে তখন তার শব্দে চারপাশ ভারি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয় এটি সত্যিকারের একটি যুদ্ধবিমান।

    ‎তরুণ উদ্ভাবক কাজী হাসিব বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। ক্লাস নাইন থেকেই এই বিমান তৈরির চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়; কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করায়। তাই এই কাজে বাবার কাছে হাত না পেতে আমার টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি এই মিনি বিমানটি তৈরি করি। তবে আগে আরও দুইটা বানাইছিলাম। সেগুলো ঠিক মতো হয়নি। পরে এটা তৈরি করি এবং আকাশে উড়াই। এটা আরও উন্নত করতে পারলে অটো পাইলটের এ বিমানটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব হবে।’

    ছবি সংগৃহিত

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন বলেন, ‘আমরা আসলে অবাক হয়েছি ওর মেধা দেখে। এত অল্প বয়সে কত সুদূর পরিকল্পনা করে এ বিমানটি সে তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে হাসিব আমাদের এলাকার গর্ব। ওর বাবা গরীব মানুষ। তাই সরকারিভাবে হাসিবকে দেখভাল করলে দেশের জন্য ভালো কিছু হতে পারে। আমি ওর বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

    প্রতিবেশী মো. ইমন শেখ বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই হাসিব যে বিমানটি বানিয়েছে নিঃসন্দেহে আমাদের এলাকার গর্বের বিষয়। আমরা এতে গর্ববোধ করি। সরকারিভাবে যদি ওকে দেখভাল করে তাহলে ভালো করতে পারবে। কারণ ওর মেধা আছে। আমরা চাই সরকারিভাবে হাসিবকে সহযোগিতা করা হোক।’

    ‎হাসিবের মা বলেন, আমার ছেলের বিমান তৈরির জন্য এলাকার সব মানুষ অবাক হয়েছে। আমরাও অবাক। আসলে আমরা তো ওর খরচ ঠিক মতো চালাইতে পারি না। নিজের টিফিনের টাকা জোগাড় করে আজ যে বিমান বানিয়েছে অবশ্যই এটা গর্বের। আমার অনুরোধ রইল, আপনারা যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ও ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    হাসিবের বাবা কাজী ইলিয়াস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে খাই। আমার ছেলে তার টিফিনের টাকা জমা করে আজ ২২ হাজার টাকা খরচ করে এ বিমানটি বানিয়েছে। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। যদি সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকারিভাবে আমার ছেলেকে সহায়তা করে তাহলে সে ভালো কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    ‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার  বলেন, ‘বিষয়টি আগে শুনিনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি  ওর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখি। তারপর দেখা যাবে আমরা ওর জন্য কিছু করতে পারি কি না।’

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

     

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    ডেস্ক নিউজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা। 

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)  রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)  সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার  আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার  থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় একটি বড় ফুলের তোড়া নিয়ে যাবেন। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারলে যেন তার বাড়িতেও ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই তিনি অভিনন্দন জানাবেন। বর্তমান বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পুরোনো পথেই হাঁটা হবে, এতে কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, আমি হেরে গেলেও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার আমি জিতলেও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।

    নির্বাচনে গালিগালাজ ও বকাবকির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিশির মনির বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তির জন্যও একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরি।

    এদিকে,  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সুনামগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচটি আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঈগল, হাতপাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় আচরণবিধি প্রতিপালন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ তুললেও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

    বি/এ