ক্যাটাগরি ছবি

  • বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    বরগুনার দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তারা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুল্যাহ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।
    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা বরগুনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মো. মহিব্বুল্যাহ বলেন, ‘১০ দলীয় জোট হওয়ায় এ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ কারণে দল আমাকে প্রত্যাহার করে তাকে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আগামীর ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’
    বরগুনা-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে বরগুনা-১ আসন দেয়া হয়েছে। এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই ১০ দলীয় জেটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরগুনা-২ আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা ১ ও ২ আসন থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। বরগুনার এ দুটি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর বরগুনা-১ আস থেকে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’
  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ডেস্ক নিউজ

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের 
    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।
    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।

    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।

    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।

    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • ভোলায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ভোলায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

    ডেস্ক নিউজ

    ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করছে।

    সোমবার  দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে জিন্নাগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির একদল নেতাকর্মীর সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আহত জামায়াত কর্মীদের অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা কাজী হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কর্মী জামাল উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রথমে জামাল উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে খবর পেয়ে আমাদের অন্যান্য কর্মীরা পুলিশকে জানিয়ে আহতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা আবারও হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার ঘটনায় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

    চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মালতিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

     

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।

  • চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    ডেস্ক নিউজ

    সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে নৃশংভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তার রিকশাটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল হোতাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি অটোরিকশাটি।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হতাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার চরকলমি ইউনিয়নের মো. ইব্রাহীম (৩৬), তার সহযোগী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেক ৩৫)।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।

    এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর ‘চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা পোস্টে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, হত্যাকারী সাতজন গত ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বোরহানউদ্দিন যাওয়ার কথা বলে আবু বকর ছিদ্দিকের অটোরিকশায় ওঠেন। সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালী এলাকায় এসে অটোরিকশাচালক আবু বকর ছিদ্দিকের বুকের ডান পাশে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। পরে নিহতের ছেলে সুলতান ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) মূল আসামি ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে ইব্রাহীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. রাজা ও কাজী তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহীম ও রাজার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছে ২৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় পৌর এলাকার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গলাচিপা পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গলাচিপা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মসজিদভিত্তিক এ নামাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    আয়োজকরা জানায়, মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট ৪৬ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। ৪১ দিন ধরে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ২৮ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।বিজয়ীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

    এম কে

     

     

  • মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।

    স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

    মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’

    মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এম কে

  • নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনি কাজ না করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে এ বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। তবে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ দলীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। বরং তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনি কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি।’পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটির বিলুপ্তির কাগজ পেয়েছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।

    এম কে

  • প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে পায়রা সেতু (লেবুখালী ব্রিজ) থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক কলেজছাত্রী।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।‌ তবে স্থানীয় জেলে ও সেনাসদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া তানজিলা বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষাবর্ষের বিবিএ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানজিলার সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সেনাসদস্য সজিবের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্ষোভ ও অভিমানে তানজিলা পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে লেবুখালী সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক নজরে আনেন। পরে জেলেদের নৌকার সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তানজিলাকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে লেবুখালী ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অনেক উচ্চতা থেকে নদীতে পড়ে তিনি কিছুটা আঘাত পেয়েছেন, তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    এম কে

  • পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার মৃধা। এসব সভায় তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

    এম কে