ক্যাটাগরি রাজশাহী বিভাগ

  • গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ:

    রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় নারিকেল গাছ থেকে পড়ে  কাজল (২৭) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ঝলমলিয়া পুরাতন ডাকবাংলো এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কাজল উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকার মো. কামালের ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত কাজল সব সময় নেশা করেন। নেশার টাকার জন্য মানুষের গাছ থেকে বিভিন্ন ফল চুরি করে বিক্রি করে তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় রাতে বা ভোরের কোনো এক সময় ডাকবাংলোর ডাব গাছে উঠেন তিনি। এ সময় হঠাৎ ডাব গাছ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ডাব গাছ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • পদ্মার চরে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৭, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    পদ্মার চরে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৭, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজ:

    চারঘাটসহ পদ্মা নদীর চারটি চরে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ চালিয়ে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজশাহী জেলার পদ্মার চর থেকে ১৪ জন, নাটোর থেকে ২০ জন, পাবনা থেকে ২৪ জন এবং কুষ্টিয়া থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এই গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) রাত থেকে রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত পুলিশ, র‍্যাব ও এপিবিএনের প্রায় ১ হাজার ২০০ জন সদস্য কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী পদ্মার চরে অভিযান পরিচালনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অভিযানে মোট ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি অস্ত্র, চার রাউন্ড গুলি, দুইটি গুলির খোসা, ২৪টি হাসুয়া, ৬টি ডেসার, ২টি ছোরা, ৪টি চাকু, ৩টি রামদা, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ২০ বোতল ফেসনিডিল, ৫০ পিস ইয়াবা, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫টি মোটরসাইকেল ও একটি লোহার পাইপ।

    রাজশাহী জেলার পদ্মার চর থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে চারজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ছয়জন মাদক কারবারি, দুইজন ডেভিল হান্ট এবং দুইজন সর্বহারা। এ সময় উদ্ধার হয় তিনটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি, একটি খোসা, ২০ বোতল ফেসনিডিল, ৫০ পিস ইয়াবা, ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৫টি মোটরসাইকেল, একটি হাসুয়া ও একটি ছোরা।নাটোর জেলার পদ্মার চর থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে চারজন হ্যাকার, ছয়জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, একজন সাজাপ্রাপ্ত, একজন হত্যা মামলার আসামি, দুইজন মাদক কারবারি এবং ছয়জন সন্দিগ্ধ। উদ্ধার হয় দুটি শুটারগান, একটি রিভলবার, ২২টি হাসুয়া, ৬টি ডেগার, চারটি চাকু, চারটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি পাইপ।

    পাবনা জেলার পদ্মার চর থেকে ২৪ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে একজন সর্বহারা, দুইজন মামলার আসামি, সাতজন ওয়ারেন্টভুক্ত, দুইজন ডেভিল হান্ট, চারজন মাদক এবং ৮ জন নিয়মিত মামলার আসামি। এসময় উদ্ধার করা হয় দুটি শুটারগান, তিনটি গুলি, একটি খোসা, দুটি পাইপগান, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি রামদা, একটি হাসুয়া ও একটি ছোরা।

    কুষ্টিয়ার পদ্মার চর থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে আটজন ওয়ারেন্টভুক্ত এবং একজন নিয়মিত মামলার আসামি। এই অভিযানে বাঘা থানার ডাবল মার্ডার ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, একটি স্পিডবোড, অস্ত্র রাখার একটি সিলিন্ডার, দুটি তাবু এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে কাঁকন বাহিনীসহ ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। রোকনুজ্জামান কাঁকন ইঞ্জিনিয়ার কাঁকন নামে পরিচিত। তার বাহিনীর নৃশংসতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন উদ্বিগ্ন। অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বা

    বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ বাহিনী ও নাহারুল বাহিনী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসব বাহিনীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হবিরচরে কাঁকন বাহিনীর গোলাগুলিতে বাঘা উপজেলার নিচখানপুরের আমান মন্ডল ও নাজমুল মন্ডলের মৃত্যু হয়। পরের দিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, নিহত লিটন কাঁকন বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

  • মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    ডেস্ক নিউজ:

    শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকের পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ছাড়াও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পানের বরজগুলোতে। 

    জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এবছর পান চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থকরী এই ফসলটি কেনাবেচায় স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে হাট-বাজার। ফলে চাষিদের পান কেনাবেচায় দূরের কোথাও যেতে হয় না।

    মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে পানপাতায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কোনো কোনো পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিতে গোড়া পচন রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ধারণ করছে। আবার কিছু কিছু পানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।

    চাষিরা জানান, প্রথম পান লালচে ও হলুদবর্ণের হয়ে যাচ্ছে। এরপরে পাতার নিচের অংশে শুকাতে শুরু করছে। একপর্যায়ে পুরো পানপাতা শুকিয়ে ঝড়ে যাচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তারা বলছেন, বছরের এই সময়ে তুলনামূলক পানের দাম বেশি থাকে। তাই তাদের লোকসানটাও বেশি হচ্ছে।

    কেশরহাটের কীটনাশক দোকানি কোবাদ আলী বলেন, ঠান্ডায় পান ঝরেপড়া বন্ধের জন্য সঠিকভাবে কোনো কীটনাশক কাজে আসে না। তবে কৃষকরা রিপকর্ড কনফিডর, সালকক্স, চিলেটেড জিংক ও রুট শক্তি এই জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন।

    এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষার জন্য চাষিদের পলিথিন ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    বি/এ

  • ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    ডেস্ক নিউজ:

    মাত্র আধাঘণ্টায় ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খোদাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ জন পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    ফায়ার সার্ভিস বলছে, ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি বা সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে কৃষকের ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোদাপুর সরদারপাড়া বিলের পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় পানের বরজে কোনো লোকজন ছিল না। ওই বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন জ্বলতে দেখে পান বরজের কয়েকজন কৃষক। তারা চিৎকার শুরু করলে গ্রামের আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে  ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। অবশেষে দুটি ইউনিটের দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    খোদাপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমান আলী জানান, তখন জুমার নামাজের সময়। হঠাৎ বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তেই বড় আকার ধারণ করে ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় কৃষক ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তার আগেই আমাদের ২০ বিঘা জমির পান বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৬০ জন পানচাষির ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

    তবে বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মিজানুর রহমান বলেন,  ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি  মর্মান্তিক। কৃষি অফিসারের মাধ্যমে ভিজিট করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

    বি/এ

  • জেলের জালে ৭৬ কেজির বাঘাইড়!

    জেলের জালে ৭৬ কেজির বাঘাইড়!

    ডেস্ক নিউজ

    রাজশাহীর পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়েছে ৭৬ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার হরিশংকরপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলে মো. মাসুমের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

    শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলে মো. মাসুম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মাছ ধরতে পদ্মা নদীতে যাই। আমরা ৪ জন ছিলাম। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর গভীর রাতে মাছটি আমাদের জালে উঠে।

    পরে ওজন দিয়ে দেখি মাছটি ৭৬ কেজি। আমি ১৮ বছর ধরে মাছ ধরছি। কিন্তু আগে কখনো এতবড় মাছ পাইনি। এবারই প্রথম এতবড় মাছ আমার জালে উঠেছে। মাছটি ৮০০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে কেটে বিক্রি করেছি। মাছটি বিক্রি করে মোট ৮০ হাজার টাকা পেয়েছি।

    জেলে মো. মাসুম বলেন, বিশাল মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। শনিবার দুপুরে মাছটি বিক্রি শেষ হয়। বড় পাটি না পাওয়ায় কেটে বিক্রি করতে হয়েছে। দামও পেয়েছি তুলনামূলক কম। অন্য সময়ে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দাম হত, কিন্তু এখন মাত্র ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হলো। তবুও আমি অনেক খুশি।

    এদিকে, বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছটি দেখতে হরিশংকরপুর বাজার এলাকায় ভীড় জমান আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ। উৎসুক জনতার অনেকে মাছটির সাথে সেলফিও তোলেন।

     

  • কারিমার মেডিকেল জয়

    কারিমার মেডিকেল জয়

    হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী কারিমা খাতুন। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (এমবিবিএস) বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। হতদরিদ্র বাবার একমাত্র মেয়ে কারিমার এমন সাফল্যে খুশির জোয়ারে ভাসছে এলাকাবাসী।

    কারিমা রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের আব্দুল করিম মন্ডলের মেয়ে। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর নিয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে দুর্গাপুর উপজেলার বেলঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০২৩ সালে রাজশাহী শাহ মখদুম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ- ৫ পান তিনি।

    কারিমার বাবা আব্দুল করিম মন্ডল বলেন, আমার দুটি সন্তান এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। ছেলেটিও এইচএসসি পাস করেছে। আমি একজন দরিদ্র মানুষ, দিন এনে দিন খাই। পরের জমিতে কামলা দিই। খুব কষ্ট করে আমার সংসার চালাতে হয়। তারপরও আমার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে কমতি রাখিনি।

    করিম মন্ডল আরও বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি এবং আমার সন্তানদের শিক্ষকদের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার মেয়েটা অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত এসেছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মেয়ে যেন বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

    কারিমা খাতুন বলেন, বাবা পেশায় দিনমজুর হলেও কখনো লজ্জাবোধ করি না। নিজেকে ছোট ভাবি না। কারণ বাবা সৎভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করে। আমরা দুই ভাই-বোন। আমি ছোট ভাই বড়। ভাই ডিএমডি রোগে আক্রান্ত, হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারে না। এই রোগের চিকিৎসা এখনো আসেনি। তারপরও ভাই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কারিমা বলেন, আমি একজন ভালো ডাক্তার হতে চাই। সবার পাশে থাকতে চাই। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। প্রতিবন্ধী ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে চাই।

    নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ রেজাইল করিম বলেন, কারিমা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার কারণে আমরা অনেক খুশি। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার বাবা একজন দিনমজুর। মানুষের কাজ করে তার বাবা সংসার চালান এবং ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করান। আমরা এলাকাবাসী হিসেবে দোয়া করি কারিমা যেন বড় ডাক্তার হতে পারে এবং এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর সেবা করতে পারে।

    বি/এ

  • রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    ‘বাজারে মুলা তোলার আগেই সব শেষ হইয়া গেল—এই যে জমি, এখন শুধু পানি আর পানি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে জমির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মন্ডল। রাব্বানীর চোখের কোণে পানি, পায়ের নিচেও হাঁটুসমান পানি। একসময় যে জমি ভরে উঠেছিল মুলার গাছে, এখন সে জমি ডুবে রয়েছে বৃষ্টির পানিতে।

    নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে এখনো এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার হাজারো কৃষক এখন বড় ক্ষতির মুখে। শাক থেকে শুরু করে ঢ্যাঁড়স, মুলা, পেঁয়াজ; এমনকি আমন ধান—সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪ হাজার ২০০ জন। দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই সময়ে এমন বৃষ্টি আর কখনো দেখেননি তাঁরা। গতকাল সকালে পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক রাব্বানী মন্ডলের সঙ্গে। মুখে বিষণ্ণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না, যে বৃষ্টি এবার হইছে। এখনো পানি নামেনি। ৫ বিঘা জমি পানির নিচে। চারপাশে পুকুর, পানি নামারও পথ নাই।’

    রাব্বানী আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে কঠিন হবে।’

    পবা উপজেলার শিয়ালবেড়, পাইকপাড়া, দাদপুর ও মুরারীপুর গ্রামের মাঠজুড়ে একই চিত্র। যেদিকে চোখ যায়, এখনো চোখে পড়ে কেবল পানি। কোথাও ধান হেলে পড়েছে, কোথাও শাকসবজি ডুবে রয়েছে পানির নিচে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১২ কাঠা জমিতে শাকসবজি করেছিলাম, বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় তো বৃষ্টি হয় না।’

    একই এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ১ বিঘা জমিতে বি৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান কাটার আগেই নভেম্বরে অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠেছে, বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। মাঠে দেখা গেল, কৃষকেরা কাদামাটি মাড়িয়ে হেলে পড়া ধান কেটে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁর ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। মনে হচ্ছে খরচের টাকাও উঠবে না। তিন দিন পর বৃষ্টি হইলে এই সর্বনাশ হতো না।’

    পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, নভেম্বরের শুরুতেই যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটি মূলত নিম্নচাপের কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন জমি শুকিয়ে দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।

    বি/এ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশিকে হত্যা করল বিএসএফ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশিকে হত্যা করল বিএসএফ

    ডেস্ক নিউজ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী সীমান্তে তসির আলী (২৮) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে হত্যা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    বুধবার ভোররাতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাখেরআলী সীমান্তের ওপারে বাহুড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালিয়ে ওই যুবককে হত্যা করে বলে জানা গেছে।

    জানা যায়, ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। পরে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ভারতের জঙ্গিপুর থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

    নিহত তসির আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখেরআলী পশ্চিমপাড়ার ইব্রাহিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তসির আলী গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, তসির আলী তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। ওপারে নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি নিশ্চিত নই। ঘটনাটি বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

    বি/এ

  • ১২৫ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এনসিপি

    ১২৫ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল এনসিপি

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে দলের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    তিনি বলেন, আমরা মনোনয়ন পত্র বিতরণের কাজ শেষ করেছি। আজকে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করব। আজ যাদের নাম প্রকাশ করবো তাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে, সেটা তদন্ত করে প্রার্থিতা বাতিল করব।

    কোন আসনে এনসিপি প্রার্থী কে-

    পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে, মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুর-৩ আসনে আ হ ম শামসুল মুকতাদির, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আব্দুল আহাদ, নীলফামারী-২ আসনে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. আবু সায়েদ লিয়ন, লালমনিরহাট-২ আসনে রাসেল আহমেদ ও লালমনিরহাট-৩ আসনে মো. রকিবুল হাসান জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    রংপুর-১ আসনে মো. আল মামুন, রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনি, গাইবান্ধা-৩ আসনে মো. নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ডা. আ. খ. ম. আসাদুজ্জামান, জয়পুরহাট-১ আসনে গোলাম কিবরিয়া, জয়পুরহাট-২ আসনে আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল, বগুড়া-৬ আসনে আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান) এনসিপির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এছাড়া নওগাঁ-১ আসনে কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নওগাঁ-২ আসনে মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী, নওগাঁ-৩ আসনে পরিমল চন্দ্র (উরাও), নওগাঁ-৪ আসনে মো. আব্দুল হামিদ, নওগাঁ-৫ আসনে মনিরা শারমিন, নাটোর-২ আসনে আব্দুল মান্নাফ, নাটোর-৩ আসনে অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

     

    এআর/এনই

  • দুই মাদক কারবারিকে গাঁজাসহ পুলিশে দিলো স্কুল শিক্ষার্থীরা

    দুই মাদক কারবারিকে গাঁজাসহ পুলিশে দিলো স্কুল শিক্ষার্থীরা

    ডেস্ক নিউজঃ

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার দুপুরে একটি লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় সন্দেহে হলে ওই দুই মাদক কারবারিকে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ধরে গাঁজাসহ রেলওয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে একটি লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় যাত্রীবেশে ওই দুই মাদক কারবারির মধ্যে একজন দৌঁড়ে যাওয়া সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতা সন্দেহে হলে তাদের দুইজনকে আটক করে এবং তাদের নিকট থাকা স্কুলে ব্যাগে মধ্যে কসটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় একটি বান্ডেলে ৪ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। পরে ছাত্র জনতা সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।আটককৃতরা হলেন, লালমনিরহাট জেলার দুরাকুটি গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩৫) ও একই জেলার শ্বাশান কলোনীর গ্রামের মৃত-আনিছ আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৩)।নবম শ্রেণির ছাত্র আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্টেশনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পায় দুইজনের মধ্যে একজন লোক ট্রেন থেকে নেমে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছে তখন আমাদের সন্দেহে হলে বন্ধুরা মিলে তাকে ধরে ফেলি এবং তাদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব ছাত্র-জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রেন যোগে বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে বিকেলে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

    এম কে