ক্যাটাগরি রংপুর বিভাগ

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। 

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার  রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই গ্রামে যুবদলের কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নেকমরদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে দুই দলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা মো. আরিফুল, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আহতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি এজাহার পাওয়া গেছে, সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

    এম কে

  • মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    ডেস্ক নিউজঃ

    দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক দখল ও অনিয়মিত পরিবহন স্টপেজের ভোগান্তি দূর করতে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব কোচের জন্য চালুর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই যুগ আগে বিএনপির তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ভবনটির উদ্বোধন করলেও বাস্তবে এটি কখনই ব্যবহার হয়নি। টার্মিনালটি নিয়মিত ব্যবহৃত হলে শহরের যানজট কমবে এবং ঠাকুরগাঁওবাসী প্রকৃত সুফল পাবে। শহরের ভেতরে বাস-ট্রাক প্রবেশের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই মালিক ও শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব গাড়িগুলো টার্মিনালে রাখুন, শহর আরও সুশৃঙ্খল হবে।

    তবে উদ্বোধনের পর কয়েক দিন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মাঝে তেমন সাড়া দেখা যায়নি। আগের মতোই শহরের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে চলতে থাকে যাত্রী ওঠানামা। ফলে যানজট আবারও তীব্র আকার ধারণ করে।


    প্রশাসনের তৎপরতায় শহরের প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা হয় এবং দূরপাল্লার সব বাসকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং টার্মিনালে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেন।

    একাধিক পথচারী বলেন, আগে প্রধান সড়কে হাটারই উপায় ছিল না। যানজট, হর্ন, ধুলো আর ভিড়ে প্রতিদিনই কষ্ট পোহাতে হতো। বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাড়ালে আমরা ভুগতাম সবচেয়ে বেশি। এখন বাসগুলো টার্মিনালে চলে যাওয়ায় অনেক স্বস্তি লাগছে। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক খালি, চলাচলও সহজ হয়েছে। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ তার উদ্যোগে বিষয়টি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে টার্মিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমেছে এবং সবার জন্যই সুবিধা তৈরি হয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারী, যাত্রী ও শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের উদ্যোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। প্রশাসন ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা নিশ্চিত করব যে টার্মিনাল ব্যবহারে যাত্রী সেবা সুবিধাজনক হবে এবং শহরের রাস্তাগুলো শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকবে। সবাই মিলে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বস্তি এবং সুবিধা দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব।

    এম কে

  • লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারদের গুদামে খুঁজে পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে তা মিলছে দ্বিগুণ দামে। একদিকে সারের কৃত্রিম সংকট, অন্যদিকে ভেজাল সারের রমরমা কারবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

    সরেজমিনে আদিতমারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রবি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মাঝে হাহাকার। আলু ও অন্যান্য ফসল রোপণের জন্য টিএসপি সারের তীব্র প্রয়োজন থাকলেও বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলাররা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন ‘সার নেই’। অথচ পাশের খুচরা দোকানেই সেই সার ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

    চরিতাবাড়ী এলাকার কৃষক সুজন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলু রোপণের সময় টিএসপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩২০০ টাকা দরে কিনেছি। ডিলাররা সার বাইরে বিক্রি করে দেয়, আর আমাদের বলে বরাদ্দ নেই।’

    কৃষকদের প্রধান অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তাদের দেখা মেলা ভার। অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল ডিলারদের রেজিস্টার খাতায় সই করেই দায়িত্ব শেষ করেন। এই সুযোগে ডিলাররা অবৈধভাবে সারের মজুদ সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    অনিয়মের বিষয়ে কোনো কৃষক অভিযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তারা দায় চাপান প্রশাসনের ওপর। তাদের দাবি, ‘এসিল্যান্ড স্যার ছাড়া অভিযান সম্ভব নয়।’

    প্রশাসনের এমন রশি টানাটানির সুযোগে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগ থেকে দুয়েকটি নামমাত্র অভিযান চালানো হলেও তাতে মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাকে সামান্য জরিমানা করেই দায় সারছে প্রশাসন। কৃষকদের মতে, এসব অভিযান কেবল লোক দেখানোর জন্য।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সংকট নেই।’

    এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সংকট না থাকে, তবে কৃষক কেন দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে?

    সার সংকটের আড়ালে ভেজাল সারের কারবারও এখন তুঙ্গে। নকল সার ব্যবহারে ফসলি জমি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লালমনিরহাটের কৃষককূলের একটাই দাবি এই ‘শক্ত সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় ব্যাহত হবে খাদ্য উৎপাদন, পথে বসবে উত্তরের জনপদের হাজারো কৃষক।

    এম কে

     

  • ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫০০০ টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে

    ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫০০০ টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে সরাসরি পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব তেল পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    আহসান হাবিব বলেন, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে ডিজেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬০ ঘণ্টা।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষিনির্ভর উত্তরের আট জেলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ নিতে ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবর ১৫ বছর মেয়াদি ভারতের সঙ্গে চুক্তি সই হয়।

    রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রেলপথ এবং যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে ভারতের আসামের শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পাবর্তীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

    চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। সেই চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ডিজেল আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংক ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

    আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশটি ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।

    এম কে

  • দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার বাসের ধাক্কা, নিহত ২

    দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার বাসের ধাক্কা, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর চন্ডিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে বাসের যাত্রী মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবুর পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

    বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে বেশ কিছু যাত্রী নিয়ে হেরিটেজ স্লিপার কোচ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে চন্ডিপুর এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

    জানতে চাইলে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এম কে

  • ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ডেস্ক নিউজঃ

    উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

    শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

    মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

    তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

    ২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

    এম কে

  • ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাবিকে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর অভিযুক্ত দেবর কমল চন্দ্র অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের পশ্চিম দলিরাম শ্রী ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনকষা গ্রামের বাসিন্দা রতনের সঙ্গে বিয়ে হয় কৃষ্ণা রানীর। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী রতনের সঙ্গে দেবর কমলের দ্বন্দ্ব দেখা যায়। চলতি বছরের মার্চের দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষ্ণার স্বামী রতন মারা যায়। এরপর তমার সঙ্গে দেবর কমলের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

    স্বামীর মৃত্যুর পর তার অংশের ৪০ শতক জমি কৃষ্ণা রানীর নামে রেজিস্ট্রি দলিল করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তার আগেরদিন গত জুলাই সন্ধ্যায় কৃষ্ণার শরীরে বিষ জাতীয় দ্রব্য স্যালাইন/ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে হত্যা করে। পরেরদিন নিহত কৃষ্ণার বাবা দীজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে সাতজনকে আসামি করা হয়।

    র‍্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার আসামি কমলকে গঙ্গাচড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গণভোট উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকবে না : আখতার

    গণভোট উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারের সঙ্গে থাকবে না : আখতার

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণ কোনো সরকারের সঙ্গেই থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    তিনি বলেন, গণভোটকে যদি উপেক্ষা করা হয়, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি সরকারের সঙ্গেও থাকবে না।

    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের কাউনিয়ায় মোফাজ্জল হোসেন মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলের আয়োজনে গণসংবর্ধনা ও গণ-ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আখতার হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থান, গণভোট এবং জুলাই আদেশের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। জুলাই সনদের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

    তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যা ও বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি এখনো স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে পারেনি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে পরিমাণ ভোটে সরকার গঠিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের সমর্থন গণভোটের পক্ষে ছিল। সেই রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলতে পারে না।

    তার ভাষ্য, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ ও সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। অন্যথায় জনগণ রাজপথে নামবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২৪-এর আগে পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্রের আন্দোলন করা হলেও পরবর্তী সময়ে তারা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাউনিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম সরকার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম, নায়েবে আমির শেখ নজরুল ইসলাম, এনসিপি, জেলা ও উপজেলা নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা।

  • রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    রাজারহাটে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রদলের নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রাজারহাট বাজারের তিস্তা রোড রেলগেট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এনসিপির জাতীয় যুবশক্তি রাজারহাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক চৌধুরী রিংকু র‍্যাবেনকে নিয়ে সাইলেন্ট আশরাফুল নামের ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এ নিয়ে প্রথমে এনসিপি ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

    এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

    আহত ব্যক্তির নাম আশরাফুল ইসলাম। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং টহল জোরদার করেন।

    এ বিষয়ে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে সমাহিত করার দাবি

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রতিবছর ডিসেম্বরের ৯ তারিখ থেকে তিনদিনব্যাপী বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয় পায়রাবন্দে।

    ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে যে নারী অবদান রেখেছেন, সেই নারীর জন্মভিটে এখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত। এবার পায়রাবন্দবাসীর প্রধান দাবি—ভারতের কলকাতার সোদপুর থেকে বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার। অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্মৃতিকেন্দ্র চালু, দখলদারদের হাত থেকে ৫১ একর জমি উদ্ধার।

    একসময় কঠোর পর্দা প্রথা, নানা কুসংস্কার এবং কূপমণ্ডূকতায় ভরা ছিল পায়রাবন্দ। মেয়েরা বন্দিজীবন কাটাতো। ধীরে ধীরে সেই অবস্থা কেটে যাচ্ছে। এখন মেয়েদের বন্দি জীবনযাপন করতে হয় না। এখানকার মেয়েরা দলবেঁধে স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বাল্যবিয়েও কমে গেছে। নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

    ক্ষণজন্মা নারী বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার সোদপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ তার দেহাবশেষ সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছিলেন। কিন্তু উপেক্ষিতই থেকেছে সেই দাবি। তবে এবার এই দাবি জোরালো হয়েছে। পায়রাবন্দবাসী বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।