ক্যাটাগরি Uncategorized

  • আচরণবিধি লঙ্ঘনে টাঙ্গাইল-২ আসনের হাতপাখার প্রার্থীকে দণ্ড

    আচরণবিধি লঙ্ঘনে টাঙ্গাইল-২ আসনের হাতপাখার প্রার্থীকে দণ্ড

    বিডিনিউজ ডেক্স : টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন সাগরকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনি সমাবেশ চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন।

    এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিব হোসেন বলেন- নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি স্থাপনায় হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনি প্রচারণার কার্যালয় স্থাপন করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কার্যালয়টিতে নির্বাচনি প্রচারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    M

  • বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

    বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

    বিডিনিউজ ডেক্স : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের এই ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায় বলে তার জামাতা ডা. হিমেল কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।

    মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকরাজান ইউনিয়নে। তিনি পরিবার সদস্যদের নিয়ে ঘাটাইল পৌরর কলেজ রোড এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ইসলামী শিক্ষায় সুদক্ষ এই আলেম একাধারে একজন মুহাদ্দিস ও বিজ্ঞ ইসলামিক চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    ডা. হিমেল জানান, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতের কোনো এক সময়ে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত তার ব্যবহৃত মোবাইলে কল করলেও সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।

    কাকরাজান এলাকার স্থানীয়রা জানান, তার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব একটি ফসলি ক্ষেতে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে তড়িতায়িত হয়ে বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের আকস্মিক এই মৃত্যুতে ঘাটাইলের আলেম সমাজ ও সচেতন মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনপিসহ বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সমবেদনা প্রকাশ করেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর কাকরাজান এলাকায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সংগঠনটির প্রার্থী ছিলেন মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। পরবর্তী সময় সংগঠনটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সম্প্রতি এক সভায় আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরকে সমর্থন করেন।

    M

  • প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    প্রতীক পাওয়ার ২ দিন পর মাঠ ছাড়লেন প্রার্থী, হতাশ কর্মী-সমর্থক

    বিডিনিউজ ডেক্স : (মধুপুর-ধনবাড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলাকালেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। তার এই সিদ্ধান্তে এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও চরম হতাশা বিরাজ করছে।

    জানা গেছে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোহাম্মদ আলী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়া পরিষদের ডিরেক্টর পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বিগত সময় দুইবার নির্বাচন করা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠকের পরই মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে আনোয়ার হোসেনের বাসায় চুড়ান্ত আলোচনা হয়।

    গত দেড় বছর ধরে ঘর-সংসার, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে নিজের অর্থ ব্যয় করে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন বলে জানান মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের লাল মিয়া। তিনি জানান, ‘স্থানীয় সন্তান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ায় ভেবেছিলাম তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার খবরে আমরা শকড হই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতীক পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন দুপুর পর্যন্ত প্রচার করেছি। হঠাৎ খবর এলো, নেতা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন। মাথায় যেন বাজ পড়লো।’ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    মধুপুরের আলোকদিয়ার গাংগাইর এলাকার তোতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নেতা হয়ে এমন বেঈমানি করলেন কেন? কোথায় যাবো আমরা? টাকা দরকার হলে বলতেন। নির্বাচন শুরু না করেই মাঠ ছেড়ে দিলেন। আপনার নাম ইতিহাসে মীরজাফরের পাশে লেখা থাকবে।’

    ধনবাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ও যদুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হাই জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই লিফলেট বিতরণ ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। নামাজের পর মধুপুরে এসে খবরটি শুনে হতবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘যদুনাথপুরসহ ধনবাড়ীতে মোহাম্মদ আলীর বড় অবস্থান তৈরি হয়েছিল। তার সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা হঠাৎ থেমে গেল। নিজের রাজনীতি নিয়েও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

    এদিকে মধুপুর আদালত পাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের বাসায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। সেখানে অবস্থান করা অনেকে জানান, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে অনেক নেতা যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু আদর্শের রাজনীতি করি বলে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই ছিলাম। এখন কোনো দিকনির্দেশনা নেই—কি করবো বুঝতে পারছি না।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপন ফকির চলে যাওযার পর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবেগে উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাইরে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে কর্মীরা মোহাম্মদ আলীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিরাপত্তার জন্য কর্মীদের বেষ্টনীতে মোহাম্মদ আলীকে সেখান থেকে নামিয়ে গাড়িতে তুলে বাসায় পাঠানো হয়।

    এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলু কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে পূর্বে কোনো পরামর্শ না করেই নির্বাচন থেকে সরে গেলেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে।’

    M

  • টাঙ্গাইলে ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার

    বিডিনিউজ ডেক্স : টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ ঘর থেকে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন- বাসাইলের গোসাখালি গ্রামের ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)।নিহতদের স্বজনরা জানান, দুই দিন আগে বোরো ধান আবাদে কাজ করার জন্য কয়েকজন দিনমজুর আনা হয়। তারা নিহত দম্পতির বাড়ির পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে দিনমজুরদের অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে নিহতদের নাতি শাকিল সিকদারের সন্দেহ হয়। পরদিন সকালে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে ঠান্ডু মিয়া ও রেজিয়া বেগমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এসময় ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, সোমবার রাতে তার বাড়িতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসেছিল। রাতে ঠান্ডু পেটে ব্যথা অনুভব করলে ওই শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। পরে মঙ্গলবার সকালে তারা ঘুম থেকে না ওঠায় আশপাশের লোক ডাকাডাকির এক পর্যায়ে ঘরে গিয়ে দেখে তারা পড়ে আছেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

    M

  • সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    সখীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর

    বিডিনিউজ ডেক্স :  (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের (হরিণ) প্রতীকের ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও দুটি অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু।
    হরিণ প্রতীকের এজেন্ট ফজলুল হক বাচ্চু অভিযোগ করেন, এ আসনের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের হরিণ প্রতীকের তিনটি নির্বাচনী অফিস বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ভাঙচুর করে। ভাঙচুর চালানো নির্বাচনী অফিসগুলো হচ্ছে- রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের সলঙ্গা অফিস, ইলিমজান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সোনাতলা মোড় অফিস ও দেওয়ানপুর কেন্দ্রের দেওয়ানপুর অফিস। এছাড়া বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বহেড়াতৈল ও কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা অফিস দুটিতে তালা ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খানের কর্মী-সমর্থকরা শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ৩টি নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে দুটি নির্বাচনী অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করে। একই আসনের শোলাপ্রতিমা ও কালিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর হরিণ প্রতীকের দুটি বিলবোর্ডও ভাঙচুর করা হয়।

    হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও তালা ঝুঁলানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা পরাজয়ের ভয়ে এসব অপকর্ম করছে। হিংসা-প্রতিহিংসা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। নির্বাচনের পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেটি নিশ্চিত করা সবারই দায়িত্ব। নিজের কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।বিষয়ে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আহমেদ আযম খান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর নির্বাচনে ভোটের দেউলিয়াত্বে ভুগছেন। তাই নানা ধরণের কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। বাসাইল-সখীপুরের মানুষ এগুলো বুঝে এবং তারা বুঝে-শুনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশে গঠিত ইলেকশন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া ওই অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারের আওতায় এনে দোষীদের সাজার ব্যবস্থা করতে পারে।

    M

  • টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

    বিডিনিউজ ডেক্স : আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কালিহাতী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিমকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে ইঞ্জি. আব্দুল হালিমকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দেয়। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত প্রচারনা চালাচ্ছেন। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পরেছেন।

    M

  • মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    মির্জাপুরের তরফপুরে পাহাড়ের মাটি বিক্রির মহোৎসব

    বিডিনিউজ ডেক্স :টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলছে পাহাড়ের টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির মহোৎসব। পাহাড় ধ্বংস করে মাটি বিক্রি করায় একদিকে হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ও ফলজবৃক্ষসহ উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। এই লাল মাটি বিক্রির উৎসব মাসব্যাপি ধরে চললেও প্রশাসন শক্ত হাতে দমনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। লালমাটি বহনকারি ড্রাম্প ট্রাকের চাকার দাপটে খানাখন্দক হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা।
    জানা গেছে, ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, লতিফপুর ও গোড়াই ইউনিয়ন হলো পাহাড়বেষ্টিত। এই পাহাড়ের বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে ছিল শত শত উঁচু টিলা। পাহাড়বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর বনে এক সময় বাঘসহ নানা জাতের পশু-পাখির বসবাস ছিল। এছাড়া এই বনাঞ্চল শাল ও গজারিসহ নানান জাতের ফলজ এবং ওষুধি গাছে ভরপুর ছিল।

    প্রতিবছর এই অঞ্চলে মাটি ব্যবসায়িরা অবৈধভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্য বছরের মতো টিলা কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব এবারও থেমে নেই। প্রতিবছর টিলা কেটে মাটি বিক্রি করায় পাহাড়ি অঞ্চলটির টিলার সংখ্যা দিনকে দিন কমে আসেছে। সরেজমিনে তরফপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে এই এলাকায় পাহাড়ের কমপক্ষে ১০টি বড় বড় টিলা কেটে মাটি বিক্রি করেছে। ইউনিয়নটির রাখেরচালায় গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি বড় বড় টিলার মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। পাশের অন্য আরও একটি টিলার মাটি কাটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। টিলাটির ওপরের আকাশমনি, কাঠাল ও আমসহ সকল গাছ-গাছালি কেটে ফেলছেন কয়েকজন শ্রমিক।

    তরফপুর গ্রামের হযরত আলী, মাসুম ও শহিদ জানান বাঁশতৈল এলাকার রোকন নামে এক ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে টাকিয়া কদমা গ্রামের রাধারচালায় দুইটি টিলার মাটি একইভাবে কেটে নিচ্ছে অবৈধ এই লাল মাটিখেকোর দল। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বাঁশতৈল এলাকার শহিদুল নামে এক মাটি ব্যবসায়ি এই টিলার মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
    এদিকে টিলার লালমাটি বহনকারি বড় বড় ড্রাম্প ট্রাক অনবরত চলাচল করায় ওই এলাকার গ্রামীণ রাস্তা খানাখন্দক হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন। মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ টু শব্দ করতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাটি ব্যবসায়ি রোকনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাটি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। এখন অন্যরা করছে বলে তিনি জানান।এ বিষয়ে তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাহাড়ের টিলা কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।
    এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি থামাতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা রাতেও অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু ওরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে আমাদের অভিযান থেমে থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    M

  • শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তিনজনের নামে মামলাটি করেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

    ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেছেন। এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে আরও একজনের নাম উঠে এসেছে। ওই তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ডামুড্যার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ দুজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের বাবাদের আটক করে থানায় আনলেও পরে ছেড়ে দেয়।

    ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় এখন তাঁকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে আহত খোকন হামলাকারী হিসেবে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যার নাম বলেছেন। ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা অভিযুক্ত দুজনকে আটকের দাবি জানালে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের না পেয়ে তাঁদের বাবাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় অংশ নেওয়া পলাশ সরদার নামের আরেকজনের নাম জানতে পেরেছে। গতকাল গভীর রাতে থানায় তাঁদের তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। এরপর সোহাগ ও রাব্বির বাবাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

    খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা তার (খোকন) কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে। জানি না কত দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনু

  • গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ আটক প্রকৌশলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন মামলাটি করেন। তবে বিষয়টি আজ মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

    মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।

    গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ সড়ক বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ তিনজনকে আটকের ১৮ দিন পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন মামলাটি করেন। তবে বিষয়টি আজ মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

    মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন (৬০) ও চালক মনির হোসেন বেপারী (৪০) এবং গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৩)।

  • শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কাছে জিম্মি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। গত বছরের আগস্টে অ্যাম্বুলেন্স ‘আটকে’ রাখায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলেও রোগী জিম্মি করার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

    নবজাতক মৃত্যুর ওই ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় গত মঙ্গলবার সদর হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

    গত বছরের ১৪ আগস্ট ওই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের ও শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এবার একই চক্রের সদস্য ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুমন খানের নেতৃত্বে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনা ঘটল

    তৎপর অ্যাম্বুলেন্স চক্র

    শরীয়তপুরে ৫০ শয্যার ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২০ শয্যার ১টি থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০০ শয্যার ১টি জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। জেলায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ৭টি।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি রোগী জেলার বাইরে বহন করা হয় না। অন্য রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    রোগীর স্বজন, চালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকার ও হাসপাতালের রোগীদের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়ার কাজ করছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্র। এ চক্রের ২৭টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই মোল্যা ও সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের দেওয়ান। আবু তাহেরের ছেলে রহিম দেওয়ান বাবার হয়ে কাজ করেন। এই তিনজনই নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

    চার হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আর ওই চক্রের অ্যাম্বুলেন্স নিলে ভাড়া দিতে হচ্ছে সাত–আট হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একজন চালক প্রথম আলোকে বলেন, আগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মী ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এক সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের হাতে। ২০২৫ সালের পর সেটি চলে যায় স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক গাড়িচালকের হাতে।

    ওই চালক আরও বলেন, শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক কল্যাণ সমিতির নামে ওই চক্র অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই ঠিক করে দেয় কোন গাড়ি কখন রোগী তুলবে, কত ভাড়া নেওয়া হবে। এটার অন্যথা হলেই বিপত্তি।

    অভিযোগপত্রে পাঁচজনের নাম

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক তাহেরের একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সেটি চালান তাঁর ছেলে রহিম।

    ঘটনায় তাহের, রহিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নবজাতকের বাবা নূর হোসেন সরদার। অন্য দুই আসামি হলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই ও অ্যাম্বুলেন্সচালক বিল্লাল মুন্সি। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এতে ওই চার আসামি ছাড়াও চক্রের সদস্য সুমন খানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    নূর হোসেন সরদার ঢাকায় থাকেন। তিনি  বলেন, ‘আমি ছোটখাটো কাজ করি। মামলা পরিচালনা করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই। যদি সরকার মামলাটি চালায়, তাহলে হয়তো অপরাধীরা শাস্তি পাবে। আমিও চাই আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি হোক।’

    নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা পায়নি কমিটি।

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের বলেন, ‘গত বছর যে মামলা হয়েছিল, তাতে আমরা জামিনে আছি। আর ওই ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই, তা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটির কাছে জানিয়েছিলাম।’ তিনি কোনো অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।