ট্যাগ কৃষি

  • প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে এবারে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু চাষির সেই আশায় গুঁড়েবালি অবস্থা। মুকুল আসার সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক গাছের মুকুল ঝড়ে পড়েছে। যেগুলো আটকিয়েছিল তীব্র গরমের প্রভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে অপরিণত লিচুর গুটি। এতে করে লিচু বাগান মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। চাষিদের এ থেকে পরিত্রাণে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দাবি স্থানীয় কৃষি বিভাগের।

    লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা দিনাজপুর জেলা শহরসহ পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে লিচু উৎপাদিত হয় যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। বছরের শুরুতে হিলির বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছে প্রচুর লিচুর মুকুল এসেছিল। এতে করে আশায় বুক বাঁধছিলেন লিচুচাষিরা। কিন্তু এ বছর লিচুর গাছে মুকুল আসার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টির ফলে অনেক মুকুল ঝড়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ফলে বিভিন্ন লিচু বাগানে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝড়ে পড়ছে। চাষিরা সাধ্যমতো পানি সেচ ও ওষুধ স্প্রে করেও এই ঝরে পড়া রোধ করতে পারছেন না। আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ বজায় থাকলে লিচুর কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন লিচুচাষিরা। ফলে এবারে লিচু চাষে লোকশান গুনতে হবে দাবি তাদের।

    জালালপুর গ্রামের লিচুচাষি আসলাম হোসেন বলেন, বাগানে এবারে লিচু গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল আসছিল। কিন্তু আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মুকুল যেসময়ে গাছে আসছে ঠিক সেসময়ে হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে আমাদের গাছে বেশীরভাগ মুকুল ঝরে যায়। আর যেটুকু গাছে মুকুল টিকেছিল বর্তমানে গুটি পর্যায়ে আসছিল কিন্তু গত কয়েকদিনের গরমে গাছ থেকে সেসব লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। কীটনাশক পানি স্প্রে করেও কোনোভাবেই লিচুর গুটি রোধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে আমাদের যে খরচ সেই টাকাই উঠবে না।

    শ্রমিক ইয়াকুব বলেন, আমি এই লিচু বাগান দেখাশুনা করি কীটনাশক স্প্রে পানি ছিটানো থেকে সবকিছু আমি করে থাকি। অন্যান্যবার যেভাবে গাছে লিচু ধরে সেই হিসেবে এবারে গাছে তেমন লিচু নেই। যার কারণে এবারে মহাজনের লিচু চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। যখন মুকুল বের হবে সেসময়ে বৃষ্টির কারণে মুকুল কম হয়েছে। আবার এখন গাছে যেগুলো লিচুর গুটি হয়েছে কিন্তু কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের কারণে সেই গুটি ছড়ে পড়ছে।

    এম কে

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

    এম কে

  • সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন দুই আমন জাত উদ্ভাবন

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় কৃষিবিজ্ঞানে যুক্ত হলো নতুন এক পালক। উচ্চফলন, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে আমন ধানের দুটি নতুন জাত— ‘বিনা ধান ২৭’ ও ‘বিনা ধান ২৮’। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারাদেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮টি। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষক দল এই দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উদ্ভিদ প্রজননবিদরা এতে পিআই নাইন  ও পিশ নামক দুটি কার্যকর প্রতিরোধী জিন সংযোজন করেছেন, যা ব্লাস্ট রোগের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বিনা ধান ২৭ সম্পর্কে জানান, ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।’

    ওই বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান বিনা ধান ২৮ সম্পর্কে জানান, বিনা ধান ২৮ উন্নত সংকরায়ন ও মার্কার এসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল, সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালবিশিষ্ট আমন ধানের জাত। আমরা বিশ্বাস করি, এটি কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও বলেন, এই ধানের জীবনকাল ১২০-১২৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ৫ টন। চালের অ্যামাইলোজ ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হওয়ায় ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয়। সুগন্ধি হলেও এই জাত চাষে বাড়তি কোনো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন নেই, যা উৎপাদন খরচ কমাবে। বাজারে এই জাতের চাল ‘গরিবের পোলাও’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান ২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ—সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এম কে

  • পরিত্যক্ত জলাশয়ে কোটি টাকার পানিফল চাষ

    পরিত্যক্ত জলাশয়ে কোটি টাকার পানিফল চাষ

    বিডিনিউজ ডেক্স :

    জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পানিফল চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। চলতি বছর পরিত্যক্ত জলাশয়ে কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। এ ফল থেকে গ্লুকোজ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারও তৈরি করা হচ্ছে।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় পরিত্যক্ত জলাবদ্ধ পানিতে চলতি বছর পাঁচ কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। এ ফল কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে বলে কৃষিবিদরা আশা করছেন। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় অসময়ে পানিফল বিক্রি করে যে নগদ অর্থ হাতে পায় কৃষক তাতেই তারা খুশি। পানিফল এখন অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। পানিতে ভাসমান গাছে জন্মায় বলে নাম হয়েছে পানিফল। স্থানীয়ভাবে এটি ‘শিঙাড়া’ নামে পরিচিত। দেখতে দোকানে ভাজা শিঙাড়ার মতো, তাই শিঙাড়া নামে ফলটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রংয়ের এ ফলটি খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভেতরের শাঁস দুধের মতো সাদা, খেতে খুবই সুস্বাদু এবং কোমল ও ঠান্ডা। এলাকার সাধারণ মানুষ ‘শিঙাড়া’ সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে খায়। পাকা ‘শিঙাড়া’ সবজি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। রোদে শুকিয়ে মেশিনে অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের আটা তৈরি করে রুটি হিসাবেও খাওয়া হয়।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান. পানিফলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা গ্লুকোজ রয়েছে। এ ফল দেশে প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কৃষি অফিস সূত্র জানায়. ফসল জন্মায় না এমন পরিত্যক্ত ৪০ হেক্টর জমিতে পানিফল উৎপাদন হয়েছে ৩২০ টন। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৮ টন। ১২শ টাকা মনদরে প্রতি টনের মূল্য ৩৩ হাজার টাকা হিসাবে ১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার পানিফলের চাষ হয়েছে এবার। বর্তমানে কাঁচা পানিফল ৮-৯শ টাকা, পাকা পানিফল ১১-১২শ টাকা মনদরে বিক্রি হচ্ছে।

    পানিফল চাষি করিম মিয়া জানান, তিনি এ ফল চাষ করে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকার চাষিদের বেশির ভাগই পানিফল চাষ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পানিফল চাষিরা জানান. দেওয়ানগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় হিমাগার না থাকায় এ ফল সংরক্ষণ করা যায় না। ২-৩ দিনের বেশি থাকলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চৈত্র মাসে কাদাপানিতে পানিফলের চারা রোপণ করতে হয়। আর বর্ষায় জলাশয়গুলো যখন পানিতে ভরে যায় তখন রোপণ করা গাছগুলো বেরে ওঠে। কার্তিক মাস থেকে ফল তোলা শুরু হয়ে শেষ হয় পৌষ মাসে। তবে চলতি বছর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কার্তিক মাসেই পানিফল চাষ শেষ হয়ে যাবে। প্রতিবছর দেওয়ানগঞ্জ স্টেশনের পেছনে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কেনাবেচা হয় পানিফল। ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী ও পুরুষ ব্যবসায়ীরা এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পানিফল নিয়ে যাচ্ছে।

    তবে অভিযোগও রয়েছে। চাষি ফরহাদ জানান. রেলের লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় পানিফলের পাইকাররা আসতে পারছেন না। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাধ্য হয়ে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পানিফল নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

    m

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    ডেস্ক নিউজ:

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

  • কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে সির্জন খলিফা নামে এক কৃষকের ৩০ শতাংশ আলুগাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় সিংজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটুয়াবাড়ি চকে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম সির্জন খলিফা।

    সরেজমিন দেখা যায়, সির্জন খলিফার ৩০ শতাংশ জমির আলুগাছ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলো। গাছে সবেমাত্র আলুর গুঁটি বাঁধতে শুরু করেছিল। সকালে ক্ষেতের এই অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    সির্জন খলিফা বলেন, সকালে মেয়ের জামাইয়ের ফোন পেয়ে আলুক্ষেত দেখতে আসি। এসে দেখি সব শেষ। শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী দোষ। এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও ধারদেনা করে এই আলু চাষ করেছিলাম। দুর্বৃত্তরা আমার প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে এই অমানবিক কাজের সুষ্ঠু বিচার চাই।

    উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, খবর শুনেছি বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাকে সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

    ঘিওর থানার ওসি মীর মাহাবুব  বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    বিডিনিউজ ডেক্স : জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসারা মহল্লার কৃষক হাসান আলী এবার চাল কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন।

    মাত্র ৮ শতাংশ পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন চাল কুমড়ার মাচা। এখন সেই মাচায় ঝুলছে সতেজ সবুজ চাল কুমড়া আর তার সঙ্গে দুলছে তাঁর স্বপ্নও।হাসান আলী জানান, জমিতে চাল কুমড়া চাষে তাঁর প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজারে। ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৫০টি চাল কুমড়া তুলেছেন তিনি।

    তাঁর আশা, আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি চাল কুমড়া তুলতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে চাল কুমড়ার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০টিতে।

    তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি চাল কুমড়া পাইকারিতে গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চাল কুমড়া থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকছে তাঁর। সে হিসাবে মৌসুম শেষে তাঁর সম্ভাব্য লাভ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন এবং রেজওয়ান বলেন, ‘ধান আর আলু ছাড়া আমরা আর কিছু চাষ করতাম না।

    হাসান আলীর চাল কুমড়া চাষ দেখে বুঝছি, এতে পরিশ্রম ও খরচ কম—কিন্তু লাভ বেশি। তাই আগামীতে আমরাও চাল কুমড়া চাষ শুরু করতে চাই।’

    কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল কুমড়া চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, লাভ দ্বিগুণ—কিন্তু এ এলাকার কৃষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। হাসান আলীর এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘উদ্যোমী কৃষক হাসান আলী খরিপ-২ মৌসুম শুরুর আগেই চাল কুমড়ার মতো ফসল বাজারজাত করতে পেরেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

    প্রতিটি উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চলছে। হাসান আলীর মতো উদ্যোগী চাষিদের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার জন্য আমরা কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

    M

  • নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    ডেস্ক নিউজ

    নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন ধানখেতে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকার আকৃতি। ধান গাছ দিয়ে সবুজ জমির মাঝে লাল বৃত্ত তৈরি করে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের পতাকার রূপ। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    ইমরান হোসাইন জানান, দেশপ্রেম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ শতক জমিতে দুই জাতের ধান রোপণ করে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য চিত্র। সবুজ অংশে ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী ধান, আর মাঝের লাল বৃত্তের স্থানে লাগিয়েছেন বেগুনি রঙের পারপোল রাইস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষে আঁকা পতাকাটি যেন বাতাসে দুলছে।

    ইমরান বলেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়। কাজের মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পেতে পারে। এই খেত আমার কাছে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক।

    তার এই ব্যতিক্রমী কাজ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন ইমরানের সৃজনশীল এই প্রচেষ্টা।

    জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ইমরানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এসেছি। জীবন্ত ধান গাছের পতাকা আগে কখনো দেখেনি। দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

    গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ইমরানের এই উদ্যোগ শুধু দেশপ্রেম নয়, কৃষিক্ষেত্রে সৃজনশীলতারও এক সুন্দর উদাহরণ। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি উৎসাহিত করবে।

  • নিম্নমানের আলুর বীজে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

    নিম্নমানের আলুর বীজে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

    ডেস্ক নিউজ:

    নিম্ন মানের আলুর বীজ বপন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মানিকছড়ি উপজেলার কয়েকজন কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরব হয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। কারণ চিহ্নিত করতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, মানিকছড়ি বাজারের বীজ ডিলার প্রকাশ বীজ ভাণ্ডার থেকে এসিআই কোম্পানির উন্নত জাতের আলুর বীজ কিনে জমিতে বপন করেছেন। বপন করা বীজের কিছু চারা গজালেও অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি বীজের ডিলার দুলাল চন্দ্র মজুমদারকে জানালে বিষয়টি সুরাহা না করে উলটো কৃষককে শাসাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

    আলু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ব চেঙ্গু ছড়া এলাকার কৃষক আব্দুল সোবহান জানান, প্রকাশ বীজ ভাণ্ডার থেকে ৬শ কেজি আলুর বীজ কিনে জমিতে লাগিয়েছেন তিনি। কিছু বীজ থেকে চারা গজালেও অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বীজ ডিলার দুলাল চন্দ্র মজুমদারকে অভিযোগ জানালে তিনি উলটো হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

    একই এলাকার আরেক চাষি মো. সুমন মিয়া জানান, তিনি এক কানি (৪০ শতক) জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রকাশ বীজ ভাণ্ডার থেকে তিন মন আলুর বীজ ক্রয় করেছিলেন। জমিতে রোপণের পর অনেক বীজ না গজানোয় এখন খরচের টাকা উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    একই উপজেলার এয়াতলং পাড়া এলাকার কৃষক আলী আহম্মদ জানান, তিনিও দুলালের কাছ থেকে আলুর বীজ নিয়ে রোপণ করেছেন। পাশাপাশি কুমিল্লা থেকেও কিছু বীজ এনে রোপণ করেছেন। দুলালের কাছ থেকে নেওয়া বীজগুলো তেমন না গজালেও কুমিল্লা থেকে এনে লাগানো অন্য জাতের আলুর সব বীজ গজিয়েছে।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তামিম আজিজ জানান, কৃষক সোবহানের অভিযোগের ভিত্তিতে জমি পরিদর্শন করতে আসেন। আলুর বীজ শতভাগ না গজানোর কারণেই প্রতিটি সারিতেই কমবেশি ফাঁকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জহির রায়হান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কৃষকের জমি পরিদর্শন করেছেন। প্রকাশ বীজ ভাণ্ডারের মালিক এবং সংশ্লিষ্টকোম্পানির প্রতিনিধিকে আগামী বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে ডেকেছেন। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া বলেন, নিম্ন মানের আলুর বীজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক—এমন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • এ কেমন শত্রুতা!

    এ কেমন শত্রুতা!

    ডেস্ক নিউজ:

    মতলব দিক্ষন উপজেলার  নলুয়া গ্রামে মোজাম্মেলের একবিঘা জমির কুমড়ার গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে কুমড়ার গাছ কেটে দিয়েছে দূবিত্তরা।

    এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ছেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই বাড়ির মৃত জমির হোসেন প্রধানের ছেলে বিপুল প্রধান এই কাজ করেছে।

    খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) কৃষক মোজাম্মেল প্রধানের ক্ষতিগ্রস্ত কুমড়ার ক্ষেতটি পরিদর্শন করেন।

    কৃষক মোজাম্মেল প্রধান বলেন, ধার দেনা করে ২৫ হাজার টাকার বিনিময় এক বছরের চুক্তিতে একই এলাকার মৃত জুনাব আলী প্রধানের ছেলে সোলায়মান প্রধানের কাছ থেকে ৩৬ শতাংশ জমি লিজ নেন। ওই জমিতে কুমড়ার আবাদ করা হয়। ইতিমধ্যে সকল গাছে ফুল এসেছে এবং কিছু কিছু গাছে ছোট ছোট কুমড়াও ধরেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। আগামী জানুয়ারিতে এই ফসল বাজারে বিক্রি করতে পারতেন।। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে শিকড়সহ কুমড়া গাছগুলো উঠিয়ে ফেলেছে।

    মোজাম্মেলের ছেলে রাকিব প্রধান বলেন, একই বাড়ীর মৃত জমির হোসেন প্রধানের ছেলে বিপুল প্রধানদের সাথে জমি জমা নিয়ে আমাদের বিরোধ চলছিল। গত বুধবার উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করে। শুক্রবার রাতে আমাদের জমির আশে পাশে তাকে ( বিপুল) ঘুরতে দেখা যায়। আমাদের ধারনা সেই আমার চাষকৃত মিষ্টি কোমড়া গাছগুলো উঠিয়ে ফেলেছে।

    মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান মানিক বলেন,‘এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’