ট্যাগ কৃষি

  • অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    অসময়ে তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরমুজ চাষি বেল্লাল।

    বছর ছয়েক আগেও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের এই চাষি অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারে বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তার টানাটানির সংসার। একার আয়ে সংসার চালানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু অসময়ে তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি। ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি অসময়ে তরমুজ চাষ করে তার ভাগ্য বদলেছে।


    শুরুতে নিজের দুই বিঘা জমিতে তিনি তরমুজের চাষ শুরু করেন। লাভের মুখ দেখায় পরের বছর আরও কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষের ব্যপ্তি বাড়ান। দিন দিন আয় বাড়তে থাকে তার। তারপর অন্যেদের দেখাদেখি অফসিজনে তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। আরও কিছু জমি যুক্ত করে মাছের ঘের তৈরি করে চার পাড়ে মাচা করে শুরু করেন তরমুজ চাষ।

    দেখা যায়, ঘেরের পাড়ে পানির ওপর বাঁশের খুঁটির ওপর নেট দিয়ে মাচা তৈরি করা। মাচায় ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। প্রত্যেকটি তরমুজ নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুকুরে রয়েছে নানান জাতের দেশি মাছ। পথের পাশে লাগিয়েছেন করলা, পুঁইশাক, লাউসহ নানান জাতের সবজি।

    বেল্লাল বলেন, অফসিজন তরমুজ চাষে পরিশ্রম তুলনামূলক কম। সিজনের তরমুজ বিলের ভিতর চাষ করায় পানি সেচ করতে হয়, যেটা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। কিন্তু ঘেরের পাড়ে তরমুজে এই পানি সেচের কাজটা করা লাগে না।

    তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এ সিজনে অন্তত ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার প্রত্যাশা তার। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।

    তরমুজ চাষি বিল্লাল  বলেন, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ চাষ করতাম। এখন অফসিজন তরমুজ চাষ শুরু করেছি। প্রতিটা তরমুজ ৩.৫ কেজি থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। সিজনের তরমুজ থেকে এখনকার তরমুজের স্বাদ অনেক বেশি। শহর থেকে পাইকাররা ক্ষেতে এসে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণ দরে কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

    বেল্লাল এখন সচ্ছল। তার ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা তার। ছেলে মেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে ভাবতে হবে না তাকে। বেল্লালের স্বপ্ন আগামী বছর তার ক্ষেতের পরিসর আরও বাড়াবে। বাড়বে আয়ও।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, খুলনার আবহাওয়া ও মাটি অফসিজন তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। জেলার সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয় বটিয়াঘাটায়। এ বছর অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষি অফিস থেকে সার, বীজসহ বালাই নাশক সরবারহ করা হয়েছে। বেল্লালের মত তরমুজ চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। কৃষি অফিস কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

  • বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও আড়ংঘাটার বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।

    আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বিল ডাকাতিয়ায়। এতে পানিবন্দি হয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছেন এলাকাবাসী। উপরন্তু বিভিন্ন চর্ম ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।স্থানীয়রা জানান, একজন মানুষ মারা গেলে তাকে যে মাটি দেবে, তার কোনো জায়গা নেই এ অঞ্চলের মানুষের।বিল ডাকাতিয়ার বিস্তৃতি খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, আড়ংঘাটা এবং যশোর জেলার অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা এলাকায়।

    ৩০ হাজার একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে এই এলাকায়। প্রবল বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে তলিয়ে আছে বিলের জমি। মাছ চাষিদেরও বিপাকে পড়তে হয়েছে।

    নদীতে পলি জমাট এবং অতিবৃষ্টিই এর মূল কারণ। এজন্য ফসল নষ্ট, আয়ের পথ বন্ধের পাশাপাশি চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এ এলাকায়। পরিস্থিতি এমন যে, বিল ডাকাতিয়া এখন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে স্থায়ী সমাধানের দাবি এখানকার পানিবন্দি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের।

    ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, “এ বছর বিল ডাকাতিয়ার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহের জন্য সম্ভবত ১-২ সপ্তাহ সময় নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

    পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান বলেন,  ঘবে দ্রুত সমাধান খুঁজতে আগ্রহী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছি।”

  • স্লুইসগেটের বেহাল দশা

    স্লুইসগেটের বেহাল দশা

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে খুলনার তেরখাদার স্লুইস গেটগুলো। খালগুলোরও মৃতপ্রায় অবস্থা। এতে পানির প্রবাহ না থাকায় ও বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায়  বিভিন্ন ফসল চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

    জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার মোট আয়তন ১৮ হাজার ৭৬৯ হেক্টর। উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করেন। অঞ্চলটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজ করেন। অঞ্চলটি মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত গঙ্গা পললভূমি, গঙ্গা কটাল পললভূমি ও গোপালগঞ্জ-খুলনা জৈব মাটির বিলাঞ্চল নিয়ে গঠিত। চাষাবাদ প্রধানত বৃষ্টি নির্ভর হলেও বর্তমানে সেচের মাধ্যমে আধুনিক জাতের বোরো ধানের আবাদ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

    উপজেলার পানির প্রধান উৎস নদী ও খাল। বছরের তিন-চার মাস লবণাক্ত থাকে এসব নদী-খালের পানি। এসময় লবনাক্ত পানির প্রবাহ আটকাতে স্লুইস গেটগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করে। খালগুলো নদীর সঙ্গে যুক্ত স্লুইস গেটর মাধ্যমে। কিন্তু খাল ও স্লুইস গেটের সংস্কার না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষাবাদ।

    কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তেরখাদায় বোরোর আবাদ বেশি হয়। গত বছর ৮ হাজার ৪৬৫ হেক্টর ধান উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৪৯ হেক্টর। উপজেলায় ৩৭টি খাল ও ২১টি স্লুইস গেইট রয়েছে। এসব খাল ও স্লুইস গেটের ওপর নির্ভর করে কৃষকরা চাষাবাদ করেন। এর মধ্যে ১৪টি খাল প্রায় মৃত ও ৯টি স্লুইস গেট সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। এতে চাষাবাদের জন্য কৃষকরা সঠিকভাবে পানি পাচ্ছেন না।

  • ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে পেয়ারার ভাসমান হাট

    ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে পেয়ারার ভাসমান হাট

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    বরিশালের ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলি খালে বসে ভাসমান পেয়ারার হাট। ভাসমান এ হাট দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন। এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও পেয়ারা বাগান ও ভাসমান হাট দেখে মুগ্ধ হন।

    সম্প্রতি ভাসমান পেয়ারার বাজার দেখতে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সায়দানি। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজার দেখে তিনি মুগ্ধ। আলজেরিয়ায় পেয়ারা উৎপাদিত হয় না। এখান থেকে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    প্রতিদিন সকালে ছোট ছোট নৌকায় করে পেয়ারা বিক্রির জন্য এ হাটে আসেন চাষিরা। শ্রাবণ মাসের প্রথম থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পেয়ারার মৌসুম। এ সময় প্রতিদিনই এখানে পেয়ারা বিক্রি হয়। তবে অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার কেনাবেচা বেশি হয়। বর্তমানে মণপ্রতি পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা। এখানে পেয়ারার পাশাপাশি আমড়া, লেবুসহ অন্যান্য ফল ও শাকসবজিও বিক্রি হয়। পর্যটককে বিনোদন দিতে বেসরকারি উদ্যোগে এখানের পেয়ারা বাগানের মধ্যে পার্ক গড়ে উঠেছে। শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

    পেয়ারা চাষি পরিমল হালদার, বস্রজিৎসহ কয়েকজন জানান, এ বছর পেয়ারার ফলন তেমন ভালো হয়নি। দাম মোটামুটি ভালো পাওয়া যচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর চাষিরা বেশি লাভবান হবেন।  আমাদের প্রধান আয়ের মাধ্যম হলো পেয়ারা চাষ। এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালো হয়নি। বিগত বছরগুলোতে প্রতিদিন ৪-৫ মণ পেয়ারা বিক্রি করেছি আর এ বছর ১০ থেকে ৬০ কেজি পেয়ারা বিক্রি করি।

    পেয়ারা আড়তদার সঞ্চয় হালদার  বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এখানে পাইকাররা পেয়ারা ক্রয় করার জন্য আসেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার দাম দ্বিগুণ কারণ পেয়ারার ফলন কম। এতে পাইকারদের তেমন লাভ হয় না।