ট্যাগ কৃষি

  • মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    মোহনপুর কোল্ড ইনজুরিতে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের পান

    ডেস্ক নিউজ:

    শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকের পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ছাড়াও শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পানের বরজগুলোতে। 

    জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এবছর পান চাষ হয়েছে ১ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থকরী এই ফসলটি কেনাবেচায় স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে হাট-বাজার। ফলে চাষিদের পান কেনাবেচায় দূরের কোথাও যেতে হয় না।

    মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে পানপাতায় কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কোনো কোনো পানের বরজে কোল্ড ইনজুরিতে গোড়া পচন রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে পানপাতা লালচে, হলুদবর্ণ ধারণ করছে। আবার কিছু কিছু পানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে।

    চাষিরা জানান, প্রথম পান লালচে ও হলুদবর্ণের হয়ে যাচ্ছে। এরপরে পাতার নিচের অংশে শুকাতে শুরু করছে। একপর্যায়ে পুরো পানপাতা শুকিয়ে ঝড়ে যাচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তারা বলছেন, বছরের এই সময়ে তুলনামূলক পানের দাম বেশি থাকে। তাই তাদের লোকসানটাও বেশি হচ্ছে।

    কেশরহাটের কীটনাশক দোকানি কোবাদ আলী বলেন, ঠান্ডায় পান ঝরেপড়া বন্ধের জন্য সঠিকভাবে কোনো কীটনাশক কাজে আসে না। তবে কৃষকরা রিপকর্ড কনফিডর, সালকক্স, চিলেটেড জিংক ও রুট শক্তি এই জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন।

    এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষার জন্য চাষিদের পলিথিন ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    বি/এ

  • ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    ৩৬ বিঘা পানের বরজ পুড়ে ছাই

    ডেস্ক নিউজ:

    মাত্র আধাঘণ্টায় ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খোদাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ জন পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    ফায়ার সার্ভিস বলছে, ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি বা সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে কৃষকের ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খোদাপুর সরদারপাড়া বিলের পান বরজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় পানের বরজে কোনো লোকজন ছিল না। ওই বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন জ্বলতে দেখে পান বরজের কয়েকজন কৃষক। তারা চিৎকার শুরু করলে গ্রামের আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে  ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। অবশেষে দুটি ইউনিটের দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    খোদাপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমান আলী জানান, তখন জুমার নামাজের সময়। হঠাৎ বিলের পান বরজের দক্ষিণ পাশে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তেই বড় আকার ধারণ করে ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় কৃষক ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তার আগেই আমাদের ২০ বিঘা জমির পান বরজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৬০ জন পানচাষির ৩৬ বিঘা জমির পানের বরজ পুড়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

    তবে বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মিজানুর রহমান বলেন,  ধারণা করা হচ্ছে- বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

    এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি  মর্মান্তিক। কৃষি অফিসারের মাধ্যমে ভিজিট করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

    বি/এ

  • রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    রাজশাহীতে অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি

    ‘বাজারে মুলা তোলার আগেই সব শেষ হইয়া গেল—এই যে জমি, এখন শুধু পানি আর পানি।’ গতকাল শুক্রবার সকালে জমির সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মন্ডল। রাব্বানীর চোখের কোণে পানি, পায়ের নিচেও হাঁটুসমান পানি। একসময় যে জমি ভরে উঠেছিল মুলার গাছে, এখন সে জমি ডুবে রয়েছে বৃষ্টির পানিতে।

    নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে এখনো এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, বাগমারা, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার ফসলের মাঠজুড়ে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার হাজারো কৃষক এখন বড় ক্ষতির মুখে। শাক থেকে শুরু করে ঢ্যাঁড়স, মুলা, পেঁয়াজ; এমনকি আমন ধান—সব ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪ হাজার ২০০ জন। দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তবে বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই সময়ে এমন বৃষ্টি আর কখনো দেখেননি তাঁরা। গতকাল সকালে পবা উপজেলার শিয়ালবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় কৃষক রাব্বানী মন্ডলের সঙ্গে। মুখে বিষণ্ণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না, যে বৃষ্টি এবার হইছে। এখনো পানি নামেনি। ৫ বিঘা জমি পানির নিচে। চারপাশে পুকুর, পানি নামারও পথ নাই।’

    রাব্বানী আরও বলেন, ‘সরকার যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তা না হলে কঠিন হবে।’

    পবা উপজেলার শিয়ালবেড়, পাইকপাড়া, দাদপুর ও মুরারীপুর গ্রামের মাঠজুড়ে একই চিত্র। যেদিকে চোখ যায়, এখনো চোখে পড়ে কেবল পানি। কোথাও ধান হেলে পড়েছে, কোথাও শাকসবজি ডুবে রয়েছে পানির নিচে। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১২ কাঠা জমিতে শাকসবজি করেছিলাম, বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় তো বৃষ্টি হয় না।’

    একই এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ১ বিঘা জমিতে বি৮৭ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ধান কাটার আগেই নভেম্বরে অসময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি উঠেছে, বাতাসে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। মাঠে দেখা গেল, কৃষকেরা কাদামাটি মাড়িয়ে হেলে পড়া ধান কেটে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁর ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক খরচও বেশি হবে। মনে হচ্ছে খরচের টাকাও উঠবে না। তিন দিন পর বৃষ্টি হইলে এই সর্বনাশ হতো না।’

    পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান বলেন, নভেম্বরের শুরুতেই যে বৃষ্টি হয়েছে, সেটি মূলত নিম্নচাপের কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন জমি শুকিয়ে দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে জেলার ২ হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রণোদনা এলে তা বিতরণ করা হবে।

    বি/এ

  • ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    কৃষি ডেস্ক

    কেউ খেতে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কোথাও তোলা হচ্ছে কাঁচা-পাকা টমেটো। চাষিরাও এসব টমেটো বাছাই করে খেতের পাশেই স্তূপ করছেন। সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আমেজ। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নের গ্রামগুলোর বর্তমান চিত্র এটি। এই এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

    অন্য বছর অক্টোবরে টমেটো চাষ শুরু হতো। কারণ, এ সময়টাতে সাধারণত বৃষ্টি হয় না। তবে এবার আগস্টেই শুরু হয়েছে টমেটো চাষ। বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি রোধে চাষিরা রেখেছেন বিশেষ ব্যবস্থাও। পানি জমে যেন টমেটোগাছের ক্ষতি না হয় এ জন্য খেতজুড়ে কেটেছেন সেচের নালা। আর এটিই সাফল্য এনে দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা। অন্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন আর বাজারদর বেশি থাকায় কৃষকের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

    খেত থেকে সংগ্রহ করা টমেটো বিক্রির জন্য বাছাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকায়ছবি: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সৌজন্যে

    গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।সরেজমিন দেখা যায়, সারি সারি লাগানো গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা টমেটো। প্রতিটি খেতের মধ্যেই নালা করেছেন চাষিরা। এ নালা যেমন বর্ষায় পানিনিষ্কাশনের কাজে আসে তেমনটি শুষ্ক মৌসুমে নালা থেকে গাছের গোড়ায় পানিও দেওয়া হয়। অনেকের খেতের টমেটো তোলা শেষ হয়েছে। তাঁরা নতুন করে আবার টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।সম্প্রতি গন্ডামারা ইউনিয়নের কেজি স্কুল এলাকায় কথা হয় চাষি আবদুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচ কানি (৪০ শতাংশে ১ কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় অন্তত চার লাখ টাকা লাভ হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ করতাম। তবে তেমন লাভ হতো না। ভবিষ্যতে এ এলাকায় টমেটো চাষ আরও বাড়বে।’

    ছবিতে একটি টমেটৌ ক্ষেত

    একই এলাকার আরেক চাষি আজগর আলী ৮ কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। চার মাস আগে এসব টমেটো চাষ করা হয়। এ এলাকার জমিতে লবণাক্ততা রয়েছে। এখানে এত টমেটো ফলন হবে ধারণা করতে পারিনি।’

    উপজেলার চরপাড়া এলাকায় গিয়ে কথা হয় দশম শ্রেণির ছাত্র সিফাতুল ইসলামের সঙ্গে। সে বাবার সঙ্গে টমেটো চাষ করেছে। জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমরা এক কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।’

    জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বাঁশখালী উপকূলে টমেটো চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চাষিরা। গ্রামের পর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষ হচ্ছে । প্রতিবছরই চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।’

  • কাপ্তাইয়ে ধরা পড়ল ২৩ কেজি ওজনের কাতল!

    কাপ্তাইয়ে ধরা পড়ল ২৩ কেজি ওজনের কাতল!

    ডেস্ক নিউজ

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২৩ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাপ্তাই উপজেলার ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কয়লার ডিপুঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় জেলে উজ্জ্বল মল্লিকের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

    রাতে হরি মন্দির এলাকায় স্থানীয়দের কাছে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা দরে মোট ২৩ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করেন তিনি।

    মঙ্গলবার ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে জেলে উজ্জ্বল মল্লিক বলেন, সোমবার বিকালে কাচকি জাল নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মাছ ধরতে যাই। সন্ধ্যার দিকে কয়লার ডিপুঘাট এলাকায় জালে একটি বড় কাতল মাছ ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ২৩ কেজি। এরপর স্থানীয়দের কাছে কেজি প্রতি এক হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি করেছি।

    তিনি আরও জানান, এর আগেও তার জালে ২৩ কেজি ওজনের আরেকটি বড় মাছ ধরা পড়েছিল।

     

  • হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের উপকূলীয় উপজেলা হাইমচরের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পান। প্রতিবছর এখানকার পান বিক্রি হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫২ কোটি টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান সরবরাহ করা হয় পাশের উপজেলা ও জেলার বাজারেও। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানচাষিরা সরকারের কাছ থেকে কখনো কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা পাননি—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

    ভৌগোলিকভাবে হাইমচরবাসী মেঘনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাড়ে বিভক্ত। পূর্বপাড়ের লোকজন মূলত কৃষিকাজ এবং পশ্চিমের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে মহানলী, চালতা কোঠা, নল ডোগ, সাচি জাতের পান চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই বংশপরম্পরায় যুক্ত এই আবাদে।

    উপজেলা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময়জুড়ে প্রতিদিনই চলে পান সংগ্রহ ও বিক্রি। আগে পানের বাজার ছিল জেলা শহরের বাইরে, এখন হাইমচর উপজেলা সদরের কাছেই গড়ে উঠেছে পানের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন চলে পাইকারি বেচাকেনা।

    উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের চাষি ফারুকুল ইসলাম গাজী দেড় একর জমিতে পান চাষ করেন। প্রতিদিন তাঁর বরজে কাজ করেন তিন-চারজন শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে যখন দাম ভালো থাকে, তখন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে আসে। কিন্তু কোনো দুর্যোগে কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি।’

    বরজের একাধিক শ্রমিক জানান, অল্প বয়সেই তাঁরা পান চাষের কাজ শিখেছেন এবং এ কাজ দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

    একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমাদের বাবারা এই বরজ রেখে গেছেন। এখন আমরাই আবাদ করছি। পানে রোগ দেখা দিলে উৎপাদন কমে যায়, শিকড় পচে নষ্ট হয়, আবার নতুন করে শিকড় লাগাতে হয়। কোনো প্রশিক্ষণ পাই না, আগেরদের দেখে কাজ শিখে নিচ্ছি।’

    হাইমচরের পান ব্যাপারী মো. রাসেল দুই দশক ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘হাইমচরের বরজ থেকে পান কিনে স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করি। বাবুরহাট, মহামায়া, চান্দ্রা বাজারসহ আশপাশের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত।’

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্রামের চেরাগ আলী ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার আমি বিভিন্ন বাজারে পান বিক্রি করি। হাইমচর থেকে প্রতিবার অর্ধলাখ টাকার পান কিনি। এই ব্যবসার ওপরই আমার সংসার চলে।’

    হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার জানান, ‘চলতি বছর হাইমচরে ২৩৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় বরজের সংখ্যা ১ হাজার ৭২। প্রতিবছর প্রায় ৫০–৫২ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। দুর্যোগ বা রোগ দেখা দিলে কৃষকদের পাশে থাকি, পরামর্শ দিই। প্রণোদনার প্রয়োজন হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পান চাষে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।’

  • ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রধানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষকদের নানান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান শেষে দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুর-লক্ষীপুর সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল।

    সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ফরিদ্গঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুুর রহমান, বিএডিসি চাঁদপুর (ক্ষুদ্রসেচ) ইউনিট’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষির সাথে সম্পক্ত দপ্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

     

  • নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    জেলা প্রতিনিধ, চুয়াডাঙ্গা :

     

    কৃষিেত পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুইষ্ঠত হয়েছে।  ২৬ নভেম্বর বুধবার দুপুরে  দামুড়হুদার কোষাঘাটার গো গ্রীন সেন্টার ট্রেনিং রুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি সম্প্রসারণকল্পে এগ্রো ইকোলজিকাল লার্নিং সেন্টার প্রতীষ্ঠা শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ প্রকল্প’-এর আওতায় এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল-সাবা।

     অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি পণ্য উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।  এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
     অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক  এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও কৃষকদেরকে অবহিত করা হয়। অতিরিক্ত টিএসপি সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে পিএইচ এর মাত্রা কমে যাচ্ছে বলে কৃষকদেরকে সতর্ক করেন  এই কর্মকর্তা। এসময় কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
    কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ। প্রধান সমন্বয়কারী এগ্রো ইকোলজিকাল প্রকল্পশাখাওয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা এগ্রো-এর উদ্যোক্তা ইরফান বিশ্বাস এবং মর্ডান এগ্রো এর সেলিম রেজা।
    কর্মশালায় উপস্থিত কৃষকদের পরিবেশসম্মত কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
    বি/এ
  • সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    সোনালি আমনে ভরে গেছে সন্দ্বীপের ডুবোচর

    ডেস্ক নিউজ:

    ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আর ৩ কিলোমিটার চওড়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের নতুন চরটির নাম ডুবোচর। স্থানীয় মানুষেরা একে ডোবাচর বা ডুবাগা বলে। ডুবাগা শব্দের অর্থ—যে চর প্রবল জোয়ারে ডুবে যায়। চরটিতে এর আগে মাছ চাষের জন্যই কৃষকেরা ধানের আবাদ করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ধানের ফলন কৃষকের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। মাছের পাশাপাশি ধান থেকেও ভালো আয়ের আশা করছেন তাঁরা।

    ডুবোচর ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি রঙের পাকা ধানের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত ধান কাটতে। কেউ মাঠ থেকে ধান তুলে এনে স্তূপ সাজাচ্ছেন। কেউ কেউ ট্রাক্টরে ধান বোঝাইয়ে ব্যস্ত। কৃষকদের মতে, চরের প্রায় ৫০০ কানি (১৬০ শতকে ১ কানি) আবাদি জমিতে এ বছর ধান উঠবে অন্তত ৩০ হাজার মণ বা ১ হাজার ২০০ টন। কৃষকেরা যেটিকে বাম্পার ফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, ডোবাচরে এ বছরই প্রথম এত বেশি পরিমাণে চাষ হলো। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে বাজিমাত হয়েছে বলেই এবার চাষ বেড়েছে বহুগুণে। আগামী মৌসুমগুলোতে চাষ উত্তরোত্তর বাড়বে বলেই তাঁদের ধারণা। আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি বিভাগের কোনো মাঠ

    কর্মকর্তার দেখা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে কৃষকের। সন্দ্বীপের কৃষি কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ডুবোচরে তাঁর যাওয়া হয়নি, তবে সেখানকার আমনের ফলন সম্পর্কে তিনি জানেন।

    বাড়ছে ধানের চাষ

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। চরের মধ্যভাগে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন মো. নুরুল ইসলাম (৫৫)। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই চরের চাষ এক হাজার কানি ছাড়িয়ে যাবে।

    কৃষকেরা জানিয়েছেন, গত মৌসুমে তাঁরা ধানের ফলন যাচাই করেছেন। জোয়ারের নোনাজলে ডুবে যায় বলে তাঁরা আমনের শতবর্ষী জাত ‘রাজাশাইল’ আবাদ করেছিলেন। খুব ভালো ফলন হওয়ায় এবার চাষ হয়েছে অন্তত ৫০০ কানি জমিতে, যা গতবারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

    জমিতে বিছিয়ে রাখা ধানের ছড়া স্তূপ করছিলেন মো. নুর উদ্দিন (৫০)। নুর উদ্দিন এ বছর ১২ কানি জমিতে চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি ২০ কানি জমিতে আমন লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন। নুর উদ্দিন, নুরুল ইসলামদের মতো প্রায় সব চাষির আশা, তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বেশি আমনের চাষ করবেন।

    ধানে আর মাছে সাফল্য

    ডুবোচরে গিয়ে দেখা গেল, মাঠজুড়ে সোনালি ধান নিয়ে কৃষকের তৎপরতা। তবে কেবল ধান নিয়েই এখানে কৃষকের কারবার থেমে নেই। ধানের জমিতে মাছও চাষ করছেন। অনেক কৃষক মাছ চাষ করবেন বলে ধান লাগিয়েছিলেন। দুটিতেই এসেছে সাফল্য।

    তালিম হোসেন পূর্বপুরুষের জমিতে ফিরে চাষ শুরু করেছেন। ১২ কানি জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। একই জমিতে মাছও ছেড়েছিলেন। এবার তিনি মাছ বিক্রি করেছেন প্রায় ২২ লাখ টাকার মতো। ভবিষ্যতে চাষ আরও বাড়াবেন। মাছের বিক্রিও বাড়বে বলে আশা তাঁর।

    ডুবোচরে ফলন বেশি

    জোয়ারের সঙ্গে ডুবোচরে পলি জমা হয় প্রতিবছর। আর এ কারণেই এখানকার জমি উর্বর। পাশের সবুজচর ও স্বর্ণদ্বীপের জমিতে এখন আর নতুন পলি জমে না। যত দিন পলি জমার সুযোগ পাবে, তত দিন উর্বরতা থাকবে অক্ষুণ্ন। ধানের ফলন যেমনি বেশি হবে, তেমনি মাছের আনাগোনাও থাকবে বেশি। এমন তথ্যই দিয়েছেন কৃষকেরা। তালিম হোসেন স্নাতক শেষ করে এখানে চাষে নেমে উপার্জন করছেন লাখ লাখ টাকা। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, পলি জমতে পারে বলেই বাম্পার ফলন হচ্ছে আমনের। ক্রমে চর উঁচু হয়ে জোয়ারে ডুবে যাওয়া বন্ধ হবে। তখন মাছ আহরণ আর ধানের ফলনে ভাটা পড়বে।

    বি / এ

  • কলাপাড়ায় শীতকালীন সবজির বীজ পেলো ২৫০ পরিবার

    কলাপাড়ায় শীতকালীন সবজির বীজ পেলো ২৫০ পরিবার

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শীতকালীন শাকসবজি চাষে উৎসাহ দিতে ২৫০ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক দাতা সংস্থা কার্ক ইন এক্টি (কিয়া)–এর সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর রুরাল সার্ভিস সোসাইটি (সিআরএসএস)–এর নিরাপদ জীবন জীবিকা প্রকল্প থেকে এসব পরিবারের মাঝে লাল শাক, পালং শাক, ঢেঁড়স, টমেটো, ধনিয়া, করোলা ও মুলার বীজ বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং নিরাপদ জীবন জীবিকা প্রকল্পের অর্গানাইজার এ্যালবাট সবুলান বিশ্বাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিয়া বাংলাদেশ-এর পোর্ট ফলিও কো-অর্ডিনেটর মিসেস ম্যাটিল্ডা টিনা বৈদ্য।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলগঞ্জ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক মাইনুদ্দিন আল আতিক এবং ইউপি উদ্যোক্তা মো. সগীর মাতুব্বর।

    এছাড়াও প্রকল্পের ব্যবস্থাপক বাসুদেব গুহ, কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) খোকন চন্দ্র দে, কো-অর্ডিনেটর (প্রোগ্রাম) রিগবী সেতু গোমেজ ও কৃষি অফিসার উত্তম কুমার কর উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনায় বক্তারা শাকসবজির বীজ বপন, পরিচর্যা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সঠিক নিয়মসহ স্বাবলম্বী হতে সবজি চাষের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বীজ হাতে পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নিরাপদ জীবন জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    আর আই খান