গণভোট বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

বিডি ডেস্ক নিউজ,

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী সাতটি বিভাগীয় শহরে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। আমাদের মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও দাবির মধ্যে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্য-শিক্ষায় দুর্নীতি ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা- যা গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয়করণ এত বেশি করছে যে, নিয়োগবাণিজ্য, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে একচেটিয়া নিজেদের দলের লোকদের নিয়োগ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি এবং রাজপথে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবো।’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরো জনমত তৈরি করতে হবে। আন্দোলনকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরো জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে সাতটি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

পরে তিনি নতুন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হলো :

১৬ মে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ

১৩ জুন চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ

২০ জুন খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ

২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ

১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ

১৮ জুলাই বরিশালে বিভাগীয় সমাবেশ

২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ

সবশেষ অক্টোবরে মহাসমাবেশ করা হবে।

নতুন কর্মসূচির বিষয়ে হামিদুর আযাদ বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন মহানগরীতে সেমিনার কর্মসূচি চলমান আছে যা পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা প্রতিমাসেই কর্মসূচি রেখেছি। ঈদের আগে একটি কর্মসূচি পালিত হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন ও আশপাশের জেলাগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক লোক সমাগম করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা যাবেন। নির্বাচনী কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি সফর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যেকটি মহানগরী ও বিভিন্ন জেলায় পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধির সাথে মতবিনিময় করা হবে। ঢাকায় বাজেট প্রতিক্রিয়ার কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবে ১১ দলীয় ঐক্য।’

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারো দখলদারিত্ব ও নৈরাজ্য হচ্ছে, অশুভ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসগুলো থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা ৫ আগস্টে এসব মুক্ত করেছিল। এখন ছাত্রলীগের শূন্যতা পূরণ করতে ছাত্রদলকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য সরকারি উপায়-উপকরণ, বিভিন্ন অ্যাজেন্সি ও পক্ষকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অশুভ পাঁয়তারা রুখে দিতে হলে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে- এজন্য ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হবে। পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে প্রত্যেক দল গোলটেবিল বৈঠক, সমাবেশ, বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন প্রমুখ।

এ, আর

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।