ক্যাটাগরি শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ বা ডিগ্রি নয়, এটি জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’

    জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিশেষ শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মোরেলগঞ্জ রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যে দেশ যত বেশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করবে, সেই দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং সচেতন নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে। সুশিক্ষিত মানুষই প্রকৃত জাতির সম্পদ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল। দিনের ভোট রাতে নিয়ে ব্যালট বক্স ভর্তি করতে বাধ্য করা হয়েছিল শিক্ষকদের। সেই দিন আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীল চিন্তা এবং মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। অফিস ও সমাজে নয়, চরিত্র নির্মাণেই শিক্ষার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন – কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমেই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব।’সমাবেশে রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • ভূমিকম্প : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী আহত

    ভূমিকম্প : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী আহত

    ডেস্কে নিউজ

    দেশে আজ সকালে ভূমিকম্পের সময় সারাদেশের মতো আতঙ্ক দেখা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিভিন্ন হল থেকে লাফ দিয়ে ও হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    আহতদের মধ্যে চারজনের পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।

    বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সূর্যসেন হল, সুফিয়া কামাল হল ও শামসুন্নাহার হলে দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে একদল শিক্ষার্থী বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তলা বিশিষ্ট স্বাধীনতা টাওয়ার ভবনের সামনে গিয়ে নিরাপদ হলের দাবিতে স্লোগান দেন। ভিসি, প্রক্টর ও কোষাধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাগুলো।
    বি/এ

  • রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু কাল

    ডেস্ক নিউজ:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন আগামীকাল (২০ নভেম্বর) বেলা ১২টা থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৭ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. ছাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হবে।

    ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গেছে, এ বছর ১৬ জানুয়ারি ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিট, ১৭ জানুয়ারি ‘এ’ (মানবিক) ইউনিট ও ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

    আরও জানা যায়, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটে আছে কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও চারুকলা অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটে আছে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে আছে বিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ভূ-বিজ্ঞান, ফিশারিজ এবং ভেটেরিনারি এ অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ।

    ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী তিন ইউনিটেই আবেদন করতে পারবে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী যে ইউনিটেই আবেদন করুক না কেন সে যে শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সেই শাখার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এইচএসসি বা সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বিএফএ (প্রাক), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় এইচএসসি ভোকেশনাল এবং A লেভেল সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে।

    আবেদনের যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য মানবিক ও বাণিজ্য শাখা থেকে উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ মোট জিপিএ ৭.০০ এবং বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ ৫.০০ স্কেলে নির্ধারিত হবে। জিসিই O লেভেল পরীক্ষায় ৫টি বিষয়ে এবং A লেভেল পরীক্ষায় অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। উভয় লেভেলে মোট ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে কমপক্ষে Bও ৩টি বিষয়ে কমপক্ষে C গ্রেড পেতে হবে। ইংরেজি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে চূড়ান্ত আবেদন-কালে অবশ্যই ইংরেজি প্রশ্নপত্রের জন্য অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে। এছাড়া ইউনিট/বিভাগ/ইনস্টিটিউট কর্তৃক আরোপিত শর্তও প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ-সাপেক্ষে আবেদনকারী সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আবেদন ফি নিয়ে বলা হয়েছে, ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা, ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের আবেদন ফি ১,১০০ টাকা ও ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটের আবেদন ফি ১,৩২০ টাকা। সকল ফি ১০% সার্ভিস চার্জসহ।

    MCQ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের এক ঘন্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় প্রতি ইউনিটে ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতি চারটি ভুলের জন্য এক নম্বর কাটা যাবে। ভর্তি পরীক্ষায় পাশ নম্বর ৪০। অনলাইনে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী কোটায় (মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কন্যা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড় ও বিকেএসপি) ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে।

    ভর্তিসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও প্রযোজ্য শর্ত পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট http://admission.ru.ac.bd থেকে জানা যাবে।
    সূত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ৬ লাখ আবেদন

     

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সোয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপে ছয় বিভাগের আবেদন চলছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এতে আবেদন করেছেন ছয় লাখ চাকরিপ্রার্থী।স্কুল সাপ্লাই

     

    এদিকে, অনলাইনে সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এরপর আর আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র।

     

     

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা ১০ হাজার ২১৯টি পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শূন্য এসব পদের বিপরীতে গত ৮ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব পদে সফলভাবে আবেদন ও ফি জমা দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার প্রার্থী।

     

    আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এরপর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের ফি পরিশোধের সময় থাকবে। আবেদনের আরও একদিন সময় থাকায় এবং অনেকে ফি জমা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকায় আবেদনকারীর এ সংখ্যা আরও এক লাখ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

     

    জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এসএম মাহবুব আলম বলেন, ৫ লাখ ৭৬ হাজারের মতো প্রার্থী আবেদন করে ফি জমা দিয়েছেন। অনেকে এমন আছেন, যারা আবেদন করেছেন কিন্তু এখনো ফি জমা দেননি। সেক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে আরও প্রায় এক লাখ আবেদন বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মোট আবেদন পৌনে ৭ লাখ অথবা সাড়ে ৭ লাখ হতে পারে।

     

    গত ৫ নভেম্বর প্রথম ধাপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপের বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর। এরপর ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ দুই বিভাগে শূন্যপদ রয়েছে ৪ হাজার ১৬৬টি।

  • বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দিতে চায় এনসিটিবি

    বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই দিতে চায় এনসিটিবি

    ডেস্ক নিউজ:

    সব ধরনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এ লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বৃহস্পতিবার সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুজ্জামানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে এনসিটিবি নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ ও বাঁধাই করে শিক্ষার্থীদের নিকট বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এনসিটিবি কাজ করছে। পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান নিশ্চিতে এনসিটিবি’র নিজস্ব পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে এবং প্রেস মালিকগণের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

    এতে বলা হয়, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি এনসিটিবির অডিটোরিয়ামে শিক্ষা উপদেষ্টা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় সম্মানিত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরা কতিপয় সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুলো সমাধান এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হলে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ আরও গতিশীল হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো নিরসনের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তার সাথে শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি সভার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ নেন।

    সভায় বিগত মতবিনিময় সভায় আলোচিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের গৃহীত উদ্যোগ ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এরই মধ্যে সরবরাহকৃত পাঠ্যপুস্তকের বিল দ্রুত পরিশোধের বিষয়ে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারীদেরকে আশ্বস্ত করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং এ উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও মাঠ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক গ্রহণের ব্যবস্থা করা, মাঠ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক প্রেরণের পূর্বে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বই গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে অবহিত ক

    প্রয়োজনীয় স্থানসংকুলানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারীরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ে দেশের সকল শিক্ষার্থীর হাতে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশ প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।
    সুত্র: কালবেলা
    বি/এ

  • যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    ডেস্ক নিউজ:

    শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে না পারায় ৫০ কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। কলেজের অধ্যক্ষরা অনলাইনে একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করার আবেদন করলে এটি স্থগিত করা হয়। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএস তৌহিদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের আওতাধীন ৫৮৬ কলেজের একাদশ শ্রেণিতে আসন ২ লাখ ২১ হাজার ৯৪। এই আসনে ভর্তি হয় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪৪ শিক্ষার্থী। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বোর্ডের ভর্তির শর্ত ছিলো প্রত্যেকটি কলেজে সর্বনিম্ন ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে হবে। কিন্তু ৫০টি কলেজে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যে কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে।

    বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ওই ৫০টি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করতে বোর্ডে অনলাইন আবেদন করেন। নবায়ন করার আগে ভর্তির তথ্য যাচাইকালে জানানো হয়, কলেজগুলো আমাদের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি। এ কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। পরর্তীতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম বাতিল হবে কীনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    এ ব্যাপারে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান জানান, বোর্ডে শর্ত অনুযায়ী যেসব কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৫০টি কলেজ বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি করায় একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শেষ হলে একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব কলেজে শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, ওইসব কলেজের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষকদের সম্মানের স্বার্থে কলেজের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    আর খান

  • ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর

    ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর

    ডেস্ক নিউজ:

    ৬ষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও প্রতিষ্ঠানের ভুল চাহিদা ও কারিগরি জটিলতার কারণে যোগদান করতে পারেননি কিছু সংখ্যক প্রার্থী। এই প্রার্থীদের একটি অংশ দ্রুত অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে এনটিআরসিএ। বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আগেই এদের প্রতিস্থাপন করা হবে।

    সূত্র জানায়, ভুল চাহিদায় ৪০০টির বেশি আবেদন জমা পড়লেও প্রতিস্থাপনের জন্য ৩২০টি আবেদন চূড়ান্ত বাছাই করা হয়েছে। এই প্রার্থীদের বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির আগেই প্রতিস্থাপন করা হবে।

    এর আগে বিষয়ে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ভুল চাহিদায় যারা সুপারিশ পেয়েছেন তাদের আবেদন জমা পড়েছে। তাদেরকে কীভাবে প্রতিস্থাপন করা যায় সে বিষয়ে এনটিআরসিএ কাজ করে যাচ্ছে।

    অপরদিকে প্রার্থীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন, তারা ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও প্রতিষ্ঠানের ভুল চাহিদা, প্যাটার্নজনিত সমস্যা, নন-এমপিও পদে বা বিষয়ভিত্তিক অসামঞ্জস্যের কারণে যোগদান করতে পারেননি। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভুগছেন।

    এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া এক স্মারকলিপিতে তারা বলেছিলেন হয়, ৬ষ্ঠ নিয়োগ সপারিশ বিজ্ঞপ্তি-সুপারিশকৃত বিষয়ে কোনো শূন্যপদ নেই বা ২০২৬-২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে পদশূন্য হবে, আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামো বা আমাদের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে পারিনি। আমাদের মধ্যে কেউ এমন প্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে যেখানে প্যাটার্ন জনিত সমস্যার কারণে যোগদান করতে পারিনি, কেউ আবার নন এমপিও পদে, আবার কেউ জেনারেল থেকে টেকনিক্যাল এ সপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।প্রার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলো ছিলো: ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত সবাইকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিস্থাপনের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের নভেম্বরের মধ্যেই প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি। নতুন যে প্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হবে সেসব প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদগুলো যথপোযুক্ত যাচাই বাছাই করে নির্ভুল পদে সুপারিশ করার অনুরোধ করছি। আমাদের নিজ উপজেলায়-জেলায় প্রতিস্থাপন করার অনুরোধ করছি।
    বি/এ

  • আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    ডেস্ক নিউজ:

    বিপ্লবী ও বিদ্রোহী মীর নাসির আলী বেশি পরিচিত শহীদ তিতুমীর হিসেবে। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি, তিনি বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তার বাঁশের কেল্লা থেকে। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মীর নিসার আলী তিতুমীরের নাম উজ্জল হয়ে আছে। আজ এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি সর্বপ্রথম ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন।গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। কোরান ও হাদিস বিষয়ে অল্প বয়সেই তিনি পাণ্ডিত্য লাভ করেন।পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় অবস্থানকালে তিতুমীর মুক্তি সংগ্রামের পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন।

    তিতুমীর জীবন শুরু করেছিলেন একজন সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারক হিসাবে। তখন মুসলমান সমাজে যেসব বিদআত (এমন রীতি যা ইসলামসম্মত নয়) এবং শিরক্ (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা) ঢুকে গিয়েছিলো, সেগুলোকে দূর করার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন।

    কিন্তু এই ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট পরে একটা অর্থনৈতিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী প্রেক্ষাপটে পরিণত হয়েছিলো।

    তিতুমীর হিন্দু ও মুসলমান কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত করেন। ২৪ পরগণা ও নদীয়ার অনেক কৃষক তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    কৃষকদের নিয়ে তিতুমীরের আন্দোলন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমীরের আন্দোলন, সংগ্রাম, কর্মকাণ্ড এবং জীবনাদর্শ সব কিছুকেই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে ঔপনিবেশিক পটভূমিতে।

    এই বাংলায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশী যুদ্ধে জয়ী হবার সুবাদে প্রথম রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই ক্রমাগত সারা উপমহাদেশে তাদের রাজ্যসীমা সম্প্রসারিত হয়। আবার এই বাংলা থেকেই ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। একাধিক এবং অসংখ্য প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে বাংলায় ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে।

    ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলোর পটভূমিতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে তিতুমীরের সংগ্রাম।

    প্রজাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিকার তিতুমীর করতে চেয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে ও সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বারাসাতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে এটাই ছিলো তার প্রথম বিদ্রোহ।

    তিনি ২৪ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহ ‘বারাসাতের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে ৮৩ হাজার কৃষক সেনা তিতুমীরের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন।

    তার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিলো উপনিবেশ বিরোধিতায়। এবং এই উপনিবেশ বিরোধিতা করতে গিয়ে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজের শক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে, তিনি কখনও ভাবেননি যে তিনি অত্যন্ত অসচ্ছল, ক্ষুদ্র একটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার বিপরীতে আছে বিরাট, বিশাল, শক্তিধর ইংরেজ রাজশক্তি। বারাসাত বিদ্রোহের পর তিতুমীর বুঝতে পারেন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সেখানে অস্ত্র জমা করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।

    তার আন্দোলনের একটি বড় প্রতীকী তাৎপর্য ছিলো অন্যায়, এবং শাসকবর্গের অসঙ্গত শোষণের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা।

    তিতুমীরের আন্দোলনের দ্বিমাত্রিক একটা তাৎপর্য রয়েছে। তিনি শুধু উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন একথা বললে তার অবদানকে কিছুটা সীমিত করা হয়, খণ্ডিত করা হয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন ও সংগঠন- সেসব ব্যাপারে তার যে অবদান ছিলো, ঐটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী ও বন্দুকধারী সৈন্যদের একটি বিশাল বাহিনী পাঠায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি তিতুমীরের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে। নারিকেলবাড়িয়ায় ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ভীষণ যুদ্ধ হয়।

    ব্রিটিশ সৈন্যরা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর তার অনুসারীদের অভয় দিয়ে বলেন মৃত্যুকে ভয় পলে চলবে না। এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ দেশ উদ্ধার করবে। এই লড়াইয়ের পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।

    ইংরেজদের কামানের গোলাবর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর ও তার চল্লিশজন সঙ্গী যুদ্ধরত অবস্থায় সেই বাঁশের কেল্লাতেই প্রাণ হারান।

    তিতুমীরের এই আন্দোলন, দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ সব স্বাধীনতাকামীদের মনে প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
    বি/এ

  • আজ শেষ হচ্ছে ঢাবির ভর্তির সময়; নতুন নির্দেশনা

    আজ শেষ হচ্ছে ঢাবির ভর্তির সময়; নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময় আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) শেষ হচ্ছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ ফলাফলে জিপিএ পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তিনদিন সময় বাড়ানোর পর আজ মধ্যরাত পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। আবেদনের পর ফি রশিদ বুঝে নেওয়ার জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভর্তি কমিটি।

    ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষার্থীকে আবেদনকৃত ইউনিট-এর আবেদন ফি প্রাপ্তি রশিদ বুঝে পেয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। আবেদনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর, আর কোনোভাবেই পেমেন্ট করার সুযোগ থাকবে না।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে সময় বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন গত ২৯ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

    ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৬ নভেম্বর উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এ অবস্থায়, ফলাফল পরিবর্তনের ফলে নতুনভাবে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ হতে বঞ্চিত না হয়, সেই প্রেক্ষিতে ভর্তিসংক্রান্ত অন্যান্য সকল তারিখ অপরিবর্তিত রেখে অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা তিন দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আগামী ১৯ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়েছে ভর্তিচ্ছুরা আবেদন করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম’-এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’ ‘চারুকলাভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৩ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ২০ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৬ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২৯ নভেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

    বি/এ

  • অন্ধকার কবরে নিরাপদে থাকবেন যারা

    অন্ধকার কবরে নিরাপদে থাকবেন যারা

    ডেস্ক নিউজ:

    মৃত্যু এমন এক সঠিক সত্য, যেখান থেকে কেউ পালাতে পারে না। মানুষ দুনিয়ায় যত ব্যস্তই থাকুক, শেষ অবধি তাকে নামতে হবে সেই নীরব ঘরে—কবরের অন্ধকারে। কবরই আখিরাতের প্রথম মনজিল; এখানেই শুরু সুখের যাত্রা বা দুঃখের পরীক্ষা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—সবাইকে সেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। কিছু সৌভাগ্যবান আল্লাহর বিশেষ রহমতে কবরের ফিতনা ও প্রশ্ন থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকবেন।

    কে তারা? কেন তারা বিশেষ মর্যাদা পাবেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) কয়েক শ্রেণির লোকের কথা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের পরিচয় জানলে মনে আলো জ্বলে ওঠে, দুনিয়ার কষ্টও সহজ মনে হয়। যেসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তিকে কবরের প্রশ্ন করা হবে না, তারা হলেন-

    ১. যারা ইসলামি ভূখণ্ড বা সীমান্ত পাহারা দিতে গিয়ে মারা যান

    হযরত সালমান ফারেসি (রা.) বলেন, আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-

    رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِى كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِىَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ

    ‘একটি দিন ও রাতের প্রতিরক্ষা কাজ একমাস (নফল) সিয়াম ও নামাজ অপেক্ষা উত্তম। মরার পরও তার সেই আমল জারি থাকে যা সে জীবিত অবস্থায় করত। তার রুজি জারি হয় এবং (কবরের) যাবতীয় ফিতনা থেকে সে নিরাপত্তা লাভ করে।’ (মুসলিম ৫০৪৭, তিরমিজি ১৬৬৫, নাসাঈ ৩১৬৮)

    এরা মৃত্যুর পর প্রথম মনজিলেই নিরাপদ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২. যারা আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হন

    হজরত মিকদাম ইবনে মাদি কারিব (রাঃ) বর্ণনা করেন—

    لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللَّهِ سِتُّ خِصَالٍ يُغْفَرُ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيَأْمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الأَكْبَرِ وَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَيُزَوَّجُ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الْحُورِ الْعِينِ وَيُشَفَّعُ فِي سَبْعِينَ مِنْ أَقَارِبِهِ 

    শহিদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে—

    > তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করা হয়

    > তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়

    > কবরের আজাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়

    > সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে

    > তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম।

    > তার সঙ্গে ৭২ জন জান্নাতি হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে

    > তার ৭০ জন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে। (তিরমিজি ১৬৬৩)।

    শহিদের প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ক্ষমা করা হয় এবং কবরের প্রশ্নও তাকে স্পর্শ করে না।

    খান