ক্যাটাগরি রংপুর বিভাগ

  • ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ডেস্ক নিউজঃ

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি পীরগাছা জোনাল অফিসের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার  বিকালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জোন প্রধান নাছরীন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর এরিয়া প্রধান বদিউজ্জামান।

    এজিএম জাকিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সহকারী জোনাল ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম, রহিমা খাতুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    এসময় বক্তারা রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার মাস। তারা প্রতিষ্ঠানের সেবার মান উন্নয়ন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

    পরে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে পীরগাছা জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

    এ কে

  • তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    তারাগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

    ডেস্ক নিউজঃ

    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

    রবিবার  বিকালে উপজেলার খিয়ারজুম্মা বাজারের বাঙ্গালীপুর নামক স্থানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘন করায় উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়া গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ হামিদুল ইসলাম (৩৫) কে এ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও অতিরিক্ত কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এম কে

  • এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    এনসিপির ইফতারে যুবশক্তির নেতাদের পেটাল ছাত্রশক্তির নেতারা, আহত ৫

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে রংপুরে জাতীয় যুবশক্তির রংপুর মহানগর ও জেলা নেতাদের ওপর মহানগর ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবশক্তির নেতাদের দাবি, তাদের পাঁচ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

    বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

    ইফতার মাহফিলে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয়আসাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রংপুরের এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম প্রবেশ ফটকে অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

    এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছার যুবশক্তির পাঁচকর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড ছিল না। ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি তাদের ঢোকাতে যান। তখন ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন।

    রংপুরের এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম প্রবেশ ফটকে অভ্যর্থনার দায়িত্বে ছিলেন রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

    এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন অভিযোগ করেন, কাউনিয়া-পীরগাছার যুবশক্তির পাঁচকর্মী এসেছিলেন। তাদের হাতে দাওয়াত কার্ড ছিল না। ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি তাদের ঢোকাতে যান। তখন ছাত্রশক্তির নেতারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন।

     

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রোগ্রাম ছিল। এটা নিয়ে আমাদের হাউসে মিটিং হচ্ছে। এটা নিয়ে স্টেটমেন্ট (বক্তব্য) দেওয়ার কিছু নেই। তেমন কিছু হয়নি ওখানে। মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে।

     

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমরা বসেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে রাশেদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক রাশেদুল ইসলাম (২৫) পাটগ্রাম উপজেলা বাউড়া এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়রা জানায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ডাংগাটারী বিওপি ক্যাম্পের অধীন ৮০১/১১ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রাশেদুল ইসলাম। এ সময় ভারতীয় ৩০ বিএসএফের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

    রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) বর্ডার গার্ড অধিনায়ক সেলিম আল দীন বলেন, আটক বাংলাদেশিকে ফেরত আনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এম কে

  • ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুলু, আয় বেশি কৃষি খাতে

    ডেস্ক নিউজঃ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    হলফনামা অনুযায়ী, এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তার পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন।  তার স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ​দুলুর দুই সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। দুই ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।

    ​আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। ​কৃষি খাতে বাৎসরিক আয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। ​বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ​ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। ​অন্যান্য উৎস থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। ​শেয়ার ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

    নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তার হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ​সোনালী ব্যাংকে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (দুটি পৃথক হিসাব)। ব্যাংক এশিয়ায় ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, এবি ব্যাংকে ৪৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, প্রাইম ব্যাংকে ৩৫ হাজার ৬০৬ টাকা , ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা, সিটি ব্যাংকে ২ হাজার ১৫৬ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি ২৬ টাকা রয়েছে।

    বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে দুলুর রয়েছে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোল্ড স্টোরেজ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং  ব্যাংকের শেয়ার, যার ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা।  ​যানবাহন হিসেবে তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস দুটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ​ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। ​এর মধ্যে কৃষি জমি ৩৬.৫১২ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা)। ​অকৃষি জমি ৪.৫৮৫৭ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯১ টাকা)। ​ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভবন, লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ এবং চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে। ​সব মিলিয়ে তার স্থাবর

    স্ত্রী লায়লা হাবিবের নামে পরিবহন ব্যবসা, টিনশেড বাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৭ টাকা।

    আসাদুল হাবিব দুলু ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাঁধ নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন চালু, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের মতো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

    এম কে

  • ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ‘আপু’ সম্বোধন করায় আয়োজকের সঙ্গে ইউএনওর বাগবিতণ্ডার অভিযোগ

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘রয়েল ফুটবল একাডেমি’র ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি চড়ুইভাতি (পিকনিক) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হতে রাত প্রায় ১২টা বেজে গেলে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করে অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চান।

    ফোনালাপে মেহেরবান মিঠু জানান, রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল, সে কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনি শেষ হয়ে যাবে, আপু।’ এ সময় ‘আপু’ সম্বোধন শুনে ইউএনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে।

    ফোনালাপের একটি অংশে ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনার আপু নই—ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন। অনুমতি নেওয়ার সময় তো এত রাত হওয়ার কথা ছিল না। আপনি কি এই অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে এসেছিলেন?’ মিঠু জানান, এ সময় তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে ইউএনওর কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

    অনেকেই মন্তব্য করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই এবং ‘আপু’ একটি সম্মানসূচক সম্বোধন। আবার কেউ কেউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় আমি বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে ‘আপু’ বলেছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হবেন, তা ভাবিনি। বিষয়টি আমাদের সবাইকে কষ্ট দিয়েছে।’

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘আপু বলার কারণে আমি রাগ করিনি। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই সেটি বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’

    এম কে

  • লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে রোববার বিকেলে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।

    এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

    সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    ডেস্ক নিউজ

    শুঁটকির গ্রাম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভর তেঁতুলিয়া গ্রাম। এখানকার উৎপাদিত দেশীয় ছোট মাছের শুঁটকি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় কদর রয়েছে দেশজুড়ে। শুধু দেশেই নয়, ভারতে রয়েছে এখানকার শুঁটকির কদর। তবে এখন ভরা মৌসুম হলেও মাছের অভাবে ভাটা পড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। অল্পস্বল্প যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

    আত্রাই উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকির বাজার মূলত দেশের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও ঢাকা। রপ্তানি হয় ভারতেও। এ উপজেলায় একসময় ৪০ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত থাকলেও বর্তমানে আছেন ১৫-১৮ জন।

    সম্প্রতি দেখা গেছে, আত্রাই রেলস্টেশনের দুই পাশে রয়েছে শুঁটকি মাছ শুকানোর চাতাল। নারী-পুরুষেরা মাছ কাটা, ধোয়া, লবণ লাগিয়ে চাতালে শুকাতে দিচ্ছেন। সকালে রোদে দেওয়া ভেজা মাছগুলোও কেউ কেউ এপিঠ-ওপিঠ উল্টে রাখছেন। মাছের অভাবে অনেক চাতাল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আত্রাই উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। পাশাপাশি ছোট যমুনা নদী ও আরও রয়েছে শতাধিক খাল-বিল। এসব নদী ও খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করলে বাজারে উঠতে শুরু করে দেশীয় প্রজাতির ট্যাংরা, পুঁটি, খলসে, টাকি, শোল, চাঁদাসহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু চায়না দুয়ারি, সুতি, কারেন্ট ও ভাদাই জালের অবাধ ব্যবহারে পানি কমলেও এ বছর দেখা নেই মাছের। মাছের অভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বন্ধ ছিল অধিকাংশ চাতাল। এতে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। এ ছাড়া শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

    শুঁটকি ব্যবসায়ী ভর তেঁতুলিয়া গ্রামের রামপদ শীল বলেন, ‘এ বছর মাছের খুব অভাব। বাজারে যেটুকু মাছ পাওয়া যাচ্ছে তাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি ১০০-২২০ টাকা কেজিতে মাছ কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫ মণ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত ঘুরে ৭-১০ মণের বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছি না।’

    ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এই সময় শুঁটকিপল্লি মুখর থাকত। কিন্তু এখন বর্ষার শুরুতেই সুতি, দুয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ পাওয়া গেলে এত দিন দুই-আড়াই মাস ব্যবসা করা যেত। মাছের অভাবে অনেক চাতাল বন্ধ আছে। এ অবস্থায় চাতালের কাজে জড়িত নারী-পুরুষ শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়ছেন।’ নারী শ্রমিক আনজুমান বেগম বলেন, ‘মাছের অভাবে কাজ কমে গেছে। এই শুঁটকি মাছের চাতালে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। কাজ না পেয়ে অনেকে বসে থাকে।’

    এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের নিরাপদ ও মানসম্মতভাবে শুঁটকি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অসাধু উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • দুই মাদক কারবারিকে গাঁজাসহ পুলিশে দিলো স্কুল শিক্ষার্থীরা

    দুই মাদক কারবারিকে গাঁজাসহ পুলিশে দিলো স্কুল শিক্ষার্থীরা

    ডেস্ক নিউজঃ

    বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক করেছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার দুপুরে একটি লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় সন্দেহে হলে ওই দুই মাদক কারবারিকে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ধরে গাঁজাসহ রেলওয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে একটি লোকাল ট্রেন থেকে নামার সময় যাত্রীবেশে ওই দুই মাদক কারবারির মধ্যে একজন দৌঁড়ে যাওয়া সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতা সন্দেহে হলে তাদের দুইজনকে আটক করে এবং তাদের নিকট থাকা স্কুলে ব্যাগে মধ্যে কসটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় একটি বান্ডেলে ৪ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। পরে ছাত্র জনতা সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।আটককৃতরা হলেন, লালমনিরহাট জেলার দুরাকুটি গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩৫) ও একই জেলার শ্বাশান কলোনীর গ্রামের মৃত-আনিছ আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৩)।নবম শ্রেণির ছাত্র আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্টেশনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পায় দুইজনের মধ্যে একজন লোক ট্রেন থেকে নেমে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছে তখন আমাদের সন্দেহে হলে বন্ধুরা মিলে তাকে ধরে ফেলি এবং তাদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব ছাত্র-জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রেন যোগে বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দিয়ে বিকেলে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

    এম কে

  • চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    ডেস্ক নিউজঃ

    রাশিদুল ইসলাম : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবাহিনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ), বিএসএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আরপিএফ, জিআরপি, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের একাধিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল- চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত নজরদারি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থাগত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

    দিল্লির বিস্ফোরণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের তাৎপর্য : ভারতের সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লাল কেল্লার নিকটে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোর অঞ্চল নতুন করে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে চলে এসেছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলো- বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ, এবং ভুটান-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির সংশ্লিষ্টতা এই বৈঠককে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।

    যদিও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এই বৈঠককে ‘রুটিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়- এটি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠক প্রতীকীভাবে রুটিনের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

    রেল, সড়ক ও বিমান নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা : বৈঠক শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যাত্রী তথ্য যাচাই ও আচরণগত স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে; এনজেপি, শিলিগুড়ি জংশন, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার স্টেশনে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে; রাজধানী এক্সপ্রেস ও বন্দে ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জাতীয় মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল শুরু করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি : ভারত সরকার একইসাথে তিনটি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারত-নেপাল সীমান্ত, ভারত-ভুটান সীমান্ত ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিশেষভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) মেশিন স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য রিয়েল টাইমে সংগ্রহে সহায়তা করবে।

    রাফাল বিমান ও আধুনিক যুদ্ধসজ্জার বার্তা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চিকেনস নেক-সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রতীকী বার্তা-বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি।

    চিকেনস নেক কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ : চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। এই সঙ্কীর্ণ করিডোরের চারপাশে রয়েছে- পশ্চিমে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও চীন সীমান্ত। ফলে, এই একটি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় সংহতি ও সামরিক নিরাপত্তার জন্য জীবনরক্ষাকারী ধমনীস্বরূপ।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতীয় উদ্বেগ : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পেছনে একটি বড় অপ্রকাশ্য প্রেক্ষাপট রয়েছে- বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক ঘোষণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ এবং সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা। এসব বিষয় ভারতের দৃষ্টিতে চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

    নিছক রুটিন, নাকি কৌশলগত প্রস্তুতি : সরকারি ভাষ্যে এটি ‘রুটিন বৈঠক’ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নিরাপত্তা ভারসাম্যের প্রস্তুতি, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে ভারতের কৌশলগত বার্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা হতে পারে।

    ভূরাজনীতিবিদদের মতে- চিকেনস নেক এখন কেবল একটি ভূগোল নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ শক্তি-সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    ভারত চিকেন নেককে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলে নিয়ে গণ্ডারের ঘাড়ে পরিণত করতে চায় : ড. শাহীদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এটা স্পষ্ট যে চিকেনস নেক এখন আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটে বাংলাদেশে যে বিমানঘাঁটি উন্নয়ন করছে, মিলিটারি কনস্ট্রাকশন হচ্ছে, হ্যাঙ্গার তৈরি হচ্ছে, চীন কিংবা পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পর সেখানে মোতায়েনের কথা শোনা যাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে বলা যায় লালমনিরহাট এখন বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। চীন সেখানে ইনভলভড হবে কিন্তু এটা ভারত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, যেটাকে ওরা চিকেন নেক বলে যা ২২ কিলোমিটার চওড়া সেটাকে তারা গণ্ডারের ঘাড় বা রাইনো নেকে পরিণত করতে চায়। ভারত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের রংপুরের ভূখণ্ডের বেশ কিছুটা ভেতরে ঢুকে যেতে চাচ্ছে। চিকেন নেকের ২২ কিলোমিটার অংশকে তারা কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটারে বর্ধিত করতে চায়। সেখানে যে ভারত কৌশলগতভাবে তিনটি গ্যারিসন স্থাপন করেছে, সেনা মোতায়েন করেছে এসব পরিকল্পনা মাথায় রেখেই। তারা সমর বিন্যাস এমনভাবে করছে, সেনা মোতায়েন এমনভাবে করছে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেন চিকেন নেক দখলে নিয়ে নিতে পারে। চীনভীতি ও বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতেই ভারত এসব করছে।

    এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ভারতের আভাস থেকে সুস্পষ্ট যে চিকেন নেক দখল বা সেখানকার পরিধি বাড়াতে তারা বাংলাদেশের ভূমি প্রয়োজনে দখলে নেবে। এ কারণেই তিনটি গ্যারিসনে সেনা মোতায়েন করছে তারা। ভারত যদি চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনসহ অন্যান্য আইন ভাঙতে চায় তাহলে তারা সেটাই করবে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি করছে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু ভারত যদি তা করতে চায় তাহলে বাংলাদেশে আঘাত করেই চিকেন নেকের সম্প্রসারণ ঘটাবে। ভারত বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর উন্নয়নকাজ বন্ধ করার জন্যই।

    চীনভীতি থেকে এই তৎপরতা

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, ভারত চিকেন নেকের আশেপাশে যে তিনটি সেনাঘাঁটি করেছে বা সম্প্রতি বিষয়টি একাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছে, মূলত দেশটি এসব করছে চীনভীতি থেকে। চীন যেকোনো সময় চিকেন নেকের আশেপাশে এলাকা দখল করে নিতে পারে এমন ভীতি কাজ করছে ভারতের মধ্যে। এ কারণেই চিকেন নেক ঘিরে তাদের সামরিক ও বেসামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের অংশ হিসেবেও ভারত এ ধরনের আচরণ করছে। যেমন- লালমনিরহাটের উল্টা পাশে ভারত রাফায়েল বিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

    তিনি বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তিব্বত সীমান্তে ভারতের সাথে চীনের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত পুশইন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ভারত উসকানি দেয়ায় তারা ফের তৎপর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই ভারত এসব করছে। বিশেষ করে কেএনএফকে ভারত টোপ দিয়ে ও দীর্ঘদিন থেকে সন্তু লারমার সমর্থিত গোষ্ঠীকে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ব্যবহার করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে ভারতের এ ধরনের অপতৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো সরকারই আসুক ভারত সে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি প্রেশার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। ( সুত্র : নয়াদিগন্ত)

    আর আই খান