ক্যাটাগরি সিলেট বিভাগ

  • জকিগঞ্জে সাড়ে তিন বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    জকিগঞ্জে সাড়ে তিন বছর পর শপথ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সিলেটের জকিগঞ্জে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শপথ নিলেন এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। হাসান আহমদ নামের ওই চেয়ারম্যান জকিগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর জকিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

    আদালতের রায়ে তাকে নির্বাচিত ঘোষণার পর ০৩ আগস্ট বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম ও জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতারা ও জকিগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।

    জানা গেছে, ২০২২ সালের ০৫ জানুয়ারি উপজেলার জকিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে ৩ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আফতাব আহমদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাসান আহমদ চশমা প্রতীকে পান ২ হাজার ৯৭৮ ভোট।

    বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ১৫৯টি ভোটের ব্যবধান দেখানো হলে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃগণনার জন্য সিলেট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন হাসান আহমদ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর গণনা শেষে ৭৮ ভোট বেশি পাওয়ায় তার পক্ষে রায় ঘোষণা করেন সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক।

    আদালতের রায় পেয়ে গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সংশোধনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হাসান আহমদকে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ পড়ান সিলেট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।

    এ বিষয়ে হাসান আহমদ বলেন, ‘আদালতের রায়ে নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করায় আমি অত্যন্ত খুশি। জকিগঞ্জ ইউনিয়নের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমাকে নির্বাচিত করলেও বিগত আওয়ামী সরকারের অনুগত নির্বাচন কমিশন নৌকার প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে। পরে আমি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে দীর্ঘ তিন বছর আট মাস পর আজ শপথ গ্রহণ করলাম। আগামী দিনের সুন্দর পথচলায় আমার প্রিয় ইউনিয়নবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

  • দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    দক্ষিণ সুরমা‌য় বিএনপি নেতা কোহিনুর বহিষ্কার

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    গত ১১ জুন বিএনপির সহদফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট জেলাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমেদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, কোহিনুর আহমেদের বিরুদ্ধে সীমান্তপথে চিনি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও গ্যাং পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

  • সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

    সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সিলেটের ওসমানীনগরে দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আতিক মিয়া (৪২) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হবার পর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই আতিক মিয়া মারা যান।

    নিহত আতিক উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের মাহমদ আলীর ছেলে ও ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আকলিছ মিয়া ও আব্দুল ওহাব পাছুর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে আসছে। গত বুধবার দুপুরে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ফিরে যাওয়ার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার জন্য সমবেত হন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

    ওই রাতে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে আপস-মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়।  সালিশ বৈঠক থেকে ফেরার পথে সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আব্দুল ওয়াহাবের পক্ষের লোকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি মাথায় এবং বুকে জখম করলে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই আতিক মিয়া হাসপাতালে মারা যান।

    নিহত আতিক মিয়ার পিতা মাহমদ আলী বলেন, দুইপক্ষের লোকের সমস্যা সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়ায় আব্দুল ওয়াহাব ওরফে পাছু ও তার ছেলে এবং আত্তর আলী, মঞ্জু মিয়া, মিজান মিয়া, মুকিদগংরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।

    এ ব্যাপারে ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।

  • একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা কি ভোট পাবে? তাদের কি জনগন ভোট দিবে?

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ যাত্রা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা। এ কাজে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে একটি বিশেষ দলের ব্যাপারে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আমাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কেও কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

    সূত্রঃ কালবেলা

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া আহত পোষা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসাচেষ্টার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পোষা হাতিটির নাম সুন্দরমালা। বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম হাতিটির মালিক।

    ঢাকার প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠান পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এটি মারা যায়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধার করার পর আহত হাতিটি ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল জানিয়ে রাকিবুল হক বলেন, প্রাণীটির দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। পেট ফোলা ছিল এবং পেছনের ডান পা নাড়াতে পারছিল না। পিঠে মেরুদণ্ডের মাঝবরাবর ক্ষত দেখা গেছে। এসব কারণে রক্তচাপ বেড়ে হাতিটির হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইমন ও রাকিব নামের দুজন মাহুত ছিলেন। ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে যায়।

    এরপর গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পেলোডার যন্ত্রের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে ডোবা থেকে টেনে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য এটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

  • মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আসছেন। এদিন তিনি শেরপুরের আইনপুর মাঠে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জনসভা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান এই অঞ্চলে আসছেন। এই সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মযজ্ঞ চলছে। বিএনপি আশা করছে, এ জনসভায় সারা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।

    জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য বুধবার রাতে আকাশপথে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।

    তারেক রহমান পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর এদিন বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

    সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-সিলেট সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এ সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় আইনপুর খেলার মাঠে দিনের দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে জনসভায় তাঁর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পরে

    তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, জেলার সাতটি উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও শেরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেবেন।

    জেলা বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সমাবেশের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রায় দিনই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা মাঠ ঘুরে দেখছেন

    জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এ জনসভা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজারের এই শেরপুর এলাকা সফর করেছেন।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম আজ সোমবার  বলেন, ‘শেরপুরের আইনপুর মাঠে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই জনসভায় আমরা লক্ষাধিক লোকসমাবেশ আশা করছি। এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মাঠে কাজ চলছে। আমরা রেগুলার মাঠে যাচ্ছি, মিটিং করছি। জেলা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।’

  • পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    কৃষক পাখি মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ করছেন। এবার তিনি এক বিঘা পতিত জমি বর্গা নিয়ে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান করেন, যা থেকে ব্যাপক ফলন এসেছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ফলের আবাদ করেন।

    কুলগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ডাঁটাশাকের আবাদ করেছেন পাখি মিয়া। তাঁর এই সফলতায় আশপাশের অনেকেই এখন পতিত জমিতে কুলবাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।

    পাখি মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে। তিনি বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কুলবাগান করেন।

    গত রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ১ বিঘা জমিতে ২৩০টি আপেল ও বলসুন্দরী কুলগাছ, যেগুলোর সব গাছে কমবেশি ফলন এসেছে এবং ফলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কুলগাছের প্রতিটি সারির মাঝখানে ফাঁকা স্থানে ডাঁটাশাক লাগানো হয়েছে।

    পাখি মিয়া বলেন, ছয় মাস আগে যশোর থেকে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের কলমচারা কিনে এনে জমিতে লাগান এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন, এরপর ফলন আসে। সপ্তাহখানেক আগে পাইকারি বিক্রি শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কেজি বরই বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি দাম ৮০ টাকা। তাঁর আশা, অন্তত চার লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে, ফল আবাদে তাঁর খরচ পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফলে তিনি লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন।

    পাখি মিয়া বলেন, ‘আমার কিছু জমি আছে, কোনোটাই খালি ফালাই রাখছি না। লাউ, টমেটো, বেগুন ও শিমের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ আর বেগুন বিক্রি করছি, খরচ হয়ছে ২০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পর টমেটো আর শিম বিক্রি শুরু করব। মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি করে আল্লাহর রহমতে ভালোই সংসার চলছে।’

    কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন পাল বলেন, জুড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগে কেউ আপেল ও বলসুন্দরী কুলের চাষ করেননি। পাখি মিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং এ কাজে তাঁকে অনেক শ্রমও দিতে হয়েছে। হাসনাবাদ ও পাশের বাহাদুরপুর এলাকায় অনেক পতিত টিলাভূমি আছে। পাখি মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই পতিত টিলাভূমিতে বরইগাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাখি মিয়ার কুলবাগান পরিদর্শন করেন।