ক্যাটাগরি সিলেট বিভাগ

  • ভাতিজার হাতে চাচি খুন

    ভাতিজার হাতে চাচি খুন

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ। অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় আপন ভাতিজার হাতে গতকাল রাতে নির্মমভাবে খুন হন চাচি রুকশানা বেগম (৩৫)।

    রুকশানা বেগম দোহালিয়া ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফিরিজ আলীর স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ওয়ারিছ আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন (২৬) দীর্ঘদিন ধরেই চাচি রুকশানা বেগমের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও জসিমের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে রুকশানা বেগম বারান্দায় বের হলে, জসিম উদ্দিন তার দেখে অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। চাচি এর প্রতিবাদ করলে, উত্তেজিত হয়ে জসিম ঘর থেকে বটি এনে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘাতক জসিম পালিয়ে যায়।

    এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় রুকশানাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পলাতক ঘাতক ভাতিজাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

  • সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

    সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত টমটম গাড়ির স্ট্যান্ড ও ভাড়া নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    শনিবার  দুপুরে দিকে উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের স্বজনশ্রী ও বাউধরন গ্রামের লোকজনের মধ্যে খাড়ারপার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজার গাড়ি স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ রানীগঞ্জ থেকে বাউধরন রোডের টমটম ভাড়া ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে। এতে বাউধরন ও স্বজনশ্রী গ্রামের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের সদস্য বাউধরন গ্রামের সালেহ উদ্দিন আহমদ পুনরায় ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারণ করেন। এতে উভয় গ্রামের টমটম চালকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

    এর জেরে শুক্রবার বিকেলে বাউধরন গ্রামের মুজিব মার্কেট এলাকার গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে স্বজনশ্রী গ্রামের টমটমগুলো বের করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার সকালে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সংঘর্ষে আহতদের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা জানান, আহত ৩০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বেড়িবাঁধ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    বেড়িবাঁধ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান (চলতি) নদীর পাড়ে পেয়ারপুল ডালা নামক বেড়িবাঁধ রক্ষায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা।

    সোমবার  দুপুরে ‘আমাদের নদী, আমাদের জীবন : সুস্থ ধারার সুরক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত নদীর পুনর্জাগরণ’ এই স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে এসো কাজ করি মহিলা উন্নয়ন সমিতি। আর এতে সহযোগিতায় করেছে এলআরডি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই ধোপাজান নদীর পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৫টি গ্রামজুড়ে আতঙ্কে দিন কাটছে মানুষের, আর ধোপাজানের তীরে প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে হাহাকারের শব্দ।

    এসো কাজ করি সমিতির সভাপতি জাহানারা বেগমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুহসীন আহমদ ইয়াসিন, শিক্ষক হাবিবুর রহমান, আবদুল হালিম, আবুল মনসুর, বদরুল আলম, সোহাগ হোসেন, আব্দুল খালেক, কামাল উদ্দিন, রহমত আলী, সাজেদা বেগম, পারুল বেগম, এবং শিক্ষার্থী নাঈম ও আশরাফুল।

    এসো কাজ করি মহিলা উন্নয়ন সমিতি’র সভাপতি জাহানারা বেগম বলেন, পানির স্তর কম থাকলেও ভাঙন থামছে না। বর্ষায় পানি বাড়লে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

  • সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপের সংঘর্ষে চালক নিহত

    সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপের সংঘর্ষে চালক নিহত

    ডেস্ক নিউজ:

    সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনা পরিবহনের একটি বাস ও পিকআপ ভ্যনের সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ঘোড়ারগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে যায় এবং পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে আসা এনা পরিবহনের একটি বাস সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক মারা যান।

    দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাত থেকে আটজন বিভিন্নভাবে আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে এনা বাসের চালকও রয়েছেন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।

    জয়কলস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন।

  • প্রার্থিতা প্রত্যাহারে কর্মীদের বাধা

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারে কর্মীদের বাধা

    ডেস্ক নিউজ:

    কর্মীদের বাধায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমেদ খান। জামায়াতের কার্যালয়ে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ৬ ঘণ্টা পর তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অবরুদ্ধ প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খান।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২টায়  সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরে জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ের ভেতরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ খানকে ভেতরে রেখে কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও ভেতরে তালা দেন তার সর্মথক ও কর্মীরা। রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

    এ সময় জামায়াতের কর্মীরা জানান, এই আসনের জামায়েতের কর্মীরা কেবল নয়, সাধারণ ভোটারও তোফায়েল খানকেই প্রার্থী চায়। জোটের পক্ষ থেকে যাকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাকে চেনেন না কেউ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল্লাহ্ বললেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদকে নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য রওয়ানা দেওয়ার সময় সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা ঘিরে রাখে, তারা দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখে তোফায়েল আহমদসহ নেতৃবৃন্দকে। এ কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়নি।

    ১০ দলীয় জোট এই আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদারকে (বই প্রতীক) প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরস্বতীপুর গ্রামে।

    সুনামগঞ্জ-১ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা প্রার্থী মুজাম্মিল হক তালুকদার  জানান, তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা, সিলেট মহানগরের আমির, সুনামগঞ্জেরও আহ্বায়ক। তাকে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে। জামায়েতের জেলা আমির মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন না কেন- এটা তার সিদ্ধান্ত।

    তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে আছি তাই এই বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ খান ও তার কেন্দ্রীয় নেতারা বুঝবেন। আমার এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই।

     

  • নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধর করে চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা আজ বুধবার চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছেন।মামলায়

    আসামি করা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।

    অভিযোগের বিষয়ে শাম্মি আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। বন কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইকে এ ঘটনায় জড়িয়েছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। চুনারুঘাটে আমি বা আমার পরিবারের কেউ কোনো অন্যায় কাজে জড়িত নই।’

  • গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    গুলি ছুড়ে প্রহরীদের ভয় দেখিয়ে বনের গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

    হবিগঞ্জে বনে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও বনপ্রহরীদের ভয় দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বনাঞ্চল রেমা–কালেঙ্গায় এ ঘটনাটি ঘটে।

    বন বিভাগের হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জনবল কম। যে কারণে ৫০ থেকে ৬০ জনের বনদস্যু দল বনের ভেতরে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

    ১ হাজার ৮০০ একর আয়তনের এই সংরক্ষিত বনের ভেতরে সেগুনগাছসহ নানা প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে। সম্প্রতি এ বনের গাছ কেটে নেওয়াসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বনের হিমানিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। তারা বনে ঢুকে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির আওয়াজ শুনে বনপ্রহরীরা এগিয়ে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় প্রহরীরা পাল্টা গুলি চালান। একপর্যায়ে বনদুস্যদের তাড়া খেয়ে বনপ্রহরীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা বনের ভেতর থেকে একে একে ২০ থেকে ২২টি সেগুনগাছ কেটে ট্রাক্টরে নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ শুক্রবার সকালে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    রেমা–কালেঙ্গা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) আবদুল খালেক বলেন, প্রহরীদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়লে তাঁরা পিছু হটেন। কারণ, এ সময় মাত্র তিন প্রহরী দায়িত্বরত ছিলেন। এর বিপরীতে দুর্বৃত্তরা ছিল বেশ সংঘবদ্ধ। বন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বনদস্যুরা বেশি গাছ নিতে পারেনি। সেগুন ও আকাশমণি জাতের ২০ থেকে ২২টি গাছ নিয়ে গেছে। আমরা কিছু উদ্ধার করতে পেরেছি। দুর্বৃত্তরা আধুনিক করাত ব্যবহার করে। এই করাত দিয়ে তিন থেকে চার মিনিটে একটি কাছ কাটা যায়।’

    হবিগঞ্জ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এত বড় বন কমসংখ্যক জনবল দিয়ে সংরক্ষণ করা কঠিন। এ ছাড়া বনের কর্মকর্তা ও বনপ্রহরী সবাই এ বনে নতুন যোগদান করেছেন। যে কারণে তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, কী পরিমাণ গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা, তা নির্ণয় ও তদন্তকাজ চলছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

  • রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    রেজা কিবরিয়ার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা সুজাত

    হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার তাঁরা দুজন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

    রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। এই আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। গতকাল দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ৩৬ বছর ধরে তিনি এলাকার মানুষের পাশে কাজ করে আসছেন। এলাকার মানুষ তাঁকে পাশে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সে কারণেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

    তবে শেখ সুজাত মিয়ার প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে রেজা কিবরিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জলালশাপ গ্রামে। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।

  • ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

    হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোড়টি অবরোধ করায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।

    সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাঁরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে একটু পর পর তাঁরা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছেন।

    মাহদীকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের নেতা–কর্মীদের শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে সবাইকে শাহবাগে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’এই পোস্টের পরপরই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ অবরোধ করেন তাঁরা।

    মাহদী হাসানকে আটক করার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ ক‌রে থানার ভেত‌রে অবস্থান কর‌ছেন। সেখানে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন করা হ‌য়ে‌ছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ থানা–পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

  • হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

    হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

    হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার উমেদনগর এলাকার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক (সাকিব) (২৪), উমেদনগর (পুরানহাটি) এলাকার শিহাব আহমেদ (২০) ও সদর উপজেলার নছরপুর গ্রামের মো. মোশারফ (১৯)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গতকাল রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকার ‘আল মদিনা ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। পরে তাঁদেরকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আটকে রাখেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তারা দোকানের সামনে হট্টগোল দেখে সেখানে যায়। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক অভিযোগ করলে সেনাবাহিনী তিনজনকে আটকের পর সদর থানায় হস্তান্তর করে।

    এ বিষয়ে কথা বলতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির এক নেতা বলেন, এনামুল হক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দল থেকে কয়েক মাস আগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি একই অভিযোগে কয়েক মাস আগে কারাভোগও করেছেন।

    সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন  বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়া তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।