আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এনিয়ে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গনের সুর বাজতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. রেজা কিবরিয়া’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের কার্যালয়ে আমার সাথে সমঝোতায় বসবেন। কিন্তু সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরও তিনি বা তার কোন প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে না আসায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সন্ধ্যা ৬ টায় দলীয় কার্যালয় গোল্ডেন প্লাজায় আসেন এবং উনার কথা বার্তায় উপস্থিত দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে কোন সমঝোতা হয়নি।
এদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া দলীয় নেতাকর্মীসহ সন্ধ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার সাথে স্বাক্ষাত করতে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের’কে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন। এর আগে বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, নবনির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি বয়েত উল্লা, সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি শেখ সুজাত মিয়ার মিটিংয়ে উপস্থিত হন। তবে ওই মিটিংয়ে তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। বরং ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দেয়ায় তারা বের হয়ে আসেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠে নতুন সমিকরণ দেখা দিয়েছে। লড়াই হচ্ছে দ্বিমূখী। এদিকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করায় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী তাদের প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী’কে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আউশকান্দি এলাকায় অবরোধ ও প্রার্থীকে মহাসড়কে আটকে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ থেকে প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলীকে মুক্ত করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল ৫টার ১ মিনিট পূর্বে হবিগঞ্জ রিটানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে প্রস্তাবকারী ও সর্মথনকারীসহ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আশরাফ আলী জানান, প্রার্থীতা বহাল রাখার দাবীতে কিছু নেতাকর্মী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতের প্রার্থীকে আটকে রাখে, পরে আমরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে তাকে অবরোধ মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা রির্টানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে পৌছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, আমি দলের প্রতি অনুগত্য স্বীকার করে বড় ধরনে ত্যাগ শিকার করেছি। কারন সব ধরনের জনমত জরিপে আমি এগিয়ে ছিলাম তবুও দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। উল্লেখ্য যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে জোট প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে।
ক্যাটাগরি সিলেট বিভাগ
-

হবিগঞ্জ-১ মনোনয়ন প্রত্যাহার জামায়াতের: ড. রেজা ও শেখ সুজাতের মাঝে সমঝোতা
-

জামায়াত আমিরের গাড়িবহরে হামলা
সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাসিমনগর বাজারের কাছে দুর্বৃত্তরা তার গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে এতে কেউ আহত হননি।
মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ শেষে ফিরছিলাম। হঠাৎ গাড়ির দিকে ইট ছোড়া হয়। আমরা তখন গাড়িতে ছিলাম না। হামলাকারীদের পরিচয় জানি না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান জানান, “ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনের নেতারা বলেন, “পরিকল্পিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে।”
-

চরহামুয়া গ্রামে গৃহকর্তাকে মারধোর করে ঘরে আগুণ, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া গ্রামে গৃহকর্তা আব্দুস শহীদ (৭০)কে মুখোশধারী দুবৃত্তরা পিটিয়ে আহত করেছে। এছাড়াও তার ঘরে আগুন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। গুরতর আহত অবস্তায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই গ্রামের মোঃ আব্দুস শহীদ প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া শেষ করে পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে একদল মুখোশধারী দুবৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় গৃহকর্তা জাগ্রত হলে তাকে বেধরক মারপিট করে অন্যন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। যাওয়ার সময় মুখোশধারী দুবৃত্তরা হুমকি ধামকি দিয়ে বলে তর ছেলে মোঃ শাহমীর মিয়া দেশে আসলে হত্যা করে লাশ ঘুম করে ফেলে দিব। শুধু তাই নয়, ঘর থেকে বের হয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘরে থাকা লোকজনের শোর চিৎকার শুণে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরতর আহত অবস্তায় আব্দুস শহীদকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। -

নিলাম চলাকালে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বন কর্মকর্তাকে মারধর করে চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা আজ বুধবার চুনারুঘাট থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।
অভিযোগের বিষয়ে শাম্মি আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। বন কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ভাইকে এ ঘটনায়
মামলার এজাহারে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন বন রেঞ্জের জব্দ করা ২৯টি লট গাছ ও কাঠ বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়। চুনারুঘাটের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিলাম শুরু হয়। এ সময় শ্রমিক দলের নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও বিএনপি নেতা মো. সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা নিলামের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদকে নিলাম বন্ধ করে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম চালাতে বলেন। এ নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল ও জাহাঙ্গীর বন কর্মকর্তা সৈয়দ আশিককে মারধর শুরু করেন। তাঁরা বন কর্মকর্তাকে বলেন, ‘তুই কে এ নিলাম ডাকার? লাথি মেরে তোর সব দাঁত ভে
দিব।’ এ সময় আশপাশে থাকা অন্য বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে সৈয়দ আশিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারের প্যান্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে যাওয়ার আগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মামলা করলে খুন করে ফেলার হুমকিও দেন।
-

সুনামগঞ্জে দূর্ঘটনায় নিহত ২
ডেস্ক নিউজ
শনিবার বেলা ১১টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী মৃত আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা ময়না মিয়ার ছেলে শব্দর আলী গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটে প্রেরণ করেন এবং সিলেটে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান। নিহত দুজন সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বাসিন্দা।
য়কলস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
-

৪৯তম বিসিএসে সুনামগঞ্জের তরুণ-তরুণীর বাজিমাত
ডেস্ক নিউজ:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে উপজেলার দুই মেধাবী তরুণ-তরুণী বাজিমাত করেছেন। একজন হয়েছেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডার, আরেকজন গণিত ক্যাডারে সারাদেশে অর্জন করেছেন প্রথম স্থান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার এবার দেশের সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। অনার্সের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি নজির স্থাপন করেছেন।
খাদিজা মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের মরহুম আব্দুল আজিজ ও হাজেরা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা। স্থানীয় মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে খাদিজা আক্তার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার এই সাফল্যের পেছনে ছিল মায়ের দোয়া। আজকের এই আনন্দঘন সময়ে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে বাবাকে। আমার মা, ভাই, শিক্ষক ও বন্ধুদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমি আমাদের পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য সবার দোয়া চাই।
অন্যদিকে, গণিত ক্যাডারে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মধ্যনগরেরই আরেক কৃতি শিক্ষার্থী মো. অলি উল্লাহ। তিনি উপজেলার বংশীকুন্ডা গ্রামের মো. আব্দুল হেকিম ও হাজেরা খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে।
দুই তরুণের এই সাফল্যে পুরো মধ্যনগরজুড়ে বইছে আনন্দের ঢেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা ও শুভেচ্ছায় ভাসছে মধ্যনগর।
-

হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির
ডেস্ক নিউজ:
সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় একটি বড় ফুলের তোড়া নিয়ে যাবেন। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারলে যেন তার বাড়িতেও ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই তিনি অভিনন্দন জানাবেন। বর্তমান বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পুরোনো পথেই হাঁটা হবে, এতে কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি হেরে গেলেও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার আমি জিতলেও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।
নির্বাচনে গালিগালাজ ও বকাবকির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিশির মনির বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তির জন্যও একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরি।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সুনামগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচটি আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঈগল, হাতপাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় আচরণবিধি প্রতিপালন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ তুললেও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
বি/এ
-

সুনামগঞ্জে ১৫ লাখ টাকার গাঁজাসহ আটক ৩
ডেস্ক নিউজ:
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বিশেষ অভিযানে ৪৬ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কেজি গাঁজাসহ উজানগাঁও গ্রামের আব্দুল মন্নাছের ছেলে জহিরুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই রাত সাড়ে ৩টায় পৃথক আরেকটি অভিযানে দৌলতপুর গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী উজ্জলা বেগম (৩৭) এবং রূপ মিয়া ওরফে রুইক্কাকে (৫০) ১ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, শাল্লায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিরা সক্রিয় থাকলেও এতো বড় চালান একসঙ্গে ধরা পড়া বিরল ঘটনা। পুলিশি তৎপরতায় এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শাল্লা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গাঁজার একটি বড় চালান শাল্লায় আসছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। দুটি পৃথক অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজাসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
-

জামালগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে।
শুক্রবার দুপুরে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ও আব্দুল মতিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ইতোপূর্বে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিলে গ্রামবাসী সালিসে মীমাংসা করেন। কিন্তু দুপুরে আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ধারালে সুলফির আঘাতে সেজাউল ইসলাম কালা মিয়া গুরুতর আহত হয়। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) জয়নাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের পরিবেশ শান্ত আছে।
-

সুনামগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৪ ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার
ডেস্ক নিউজ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে বিস্ফোরক জাতীয় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সীমান্ত পিলার ১১৯৫/১-এস-এর নিকট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০ গজ ভেতরে মাইজহাটি নামক স্থানে পলিথিনে মোড়ানো ও গাছের ডালপালা দিয়ে আচ্ছাদিত অবস্থায় ২৪টি ইলেকট্রিক ডেটনেটর উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত এসব ডেটনেটর ব্যবহার করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করা সম্ভব, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।