ক্যাটাগরি স্বাস্থ্য

  • পলাশ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখলেন ২১ ডাক্তারেরর ৮জন উপস্থিত

    পলাশ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখলেন ২১ ডাক্তারেরর ৮জন উপস্থিত

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ডাক্তারদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হঠাৎ এ পরিদর্শন করেন তিনি।

    শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটায় পলাশ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে কর্তব্যরত ২১ ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ৮ জনের উপস্থিতি দেখতে পান। এর মধ্যে ২ ডাক্তার আবার দেরি করে আসেন। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, রোগীদের ওয়ার্ড, ডাক্তারদের চেম্বারগুলো পরিদর্শনসহ সার্বিক সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ মার্চ সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। সেখানে উল্লেখ ছিল, ‘হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মতো উপস্থিত নন, এর পরতীতে ডাক্তাররা স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন, ডাক্তাররা উপরে ছিলেন, আর সংবাদকর্মীরা নিচে ছিলেন।’ সংবাদটি প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করতেই আজকের এই আকস্মিক পরিদর্শন।

    তিনি বলেন, এখানে এসে আমি নিজেই হতাশ। যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে একটি রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর আমি ভাবছিলাম সব ডাক্তার যার যার কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকবেন, কিন্তু পরিদর্শনে এসে সেটা পাইনি। এ হাসপাতালে মোট ২৭টি পোস্ট রয়েছে, কর্মরত পোস্টে ডাক্তার আছেন ২১ জন, তার মধ্যে আমরা উপস্থিত পেয়েছি মাত্র ৮ জন ডাক্তার। কিন্তু এ ৮ জনের মধ্যেও ২ জন নির্ধারিত সময়ের পর আসেন। এছাড়া ৫ জন ডাক্তার ছুটিতে রয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা মানবিক কাজ করেন। আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই, তা ডাক্তারদের মাধ্যমেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারাই সময়মতো উপস্থিত হননি। যারা উপস্থিত হননি তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নগদ টাকা দিয়ে রেবিক্স টিকা কিনছি। প্রতি উপজেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশে রেবিক্স টিকার আর সমস্যা হবে না।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন— পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবুল আলম প্রমুখ।

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।

  • ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্য
    নিউজ ডেস্ক
    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনেরছেলে। স¤পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।
    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    এ/আর

  • কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা

    কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগে মোট আক্রান্তের ৭৪ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মোট মৃত্যুর ৯০ শতাংশের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক বলেও উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠেছে।

    প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় ৭ হাজার ৭১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭২০ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। আক্রান্তের হার ৭৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ১০ জন রোহিঙ্গা ও একজন স্থানীয় বাংলাদেশি। ফলে মৃত্যু হারে রোহিঙ্গার হার ৯০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

    কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদুল হক জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফিল্ড হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহর, রোহিঙ্গা শিবির ও আশপাশের এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ঠেকাতে ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক পণ্য, নালা-নর্দমা, খাল-বিল পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ঘনবসতি, বর্জ্য, জমে থাকা আবর্জনা এবং বিভিন্ন নালায় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বাড়াতে সাহায্য করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ তাপমাত্রা মশা এবং অন্যান্য রোগ বহনকারী জীবের প্রজনন ও বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যা মশার উপদ্রব বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার উভয়ই বেশি। সূত্রঃকালবেলা

    এআর/এনই

  • ঔষধি গুণের ফাঁদ!  বরুড়ায় প্রকাশ্যে শিয়ালের মাংস বিক্রি!

    ঔষধি গুণের ফাঁদ! বরুড়ায় প্রকাশ্যে শিয়ালের মাংস বিক্রি!

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    কুমিল্লার বরুড়ায় প্রকাশ্যে শিয়াল জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে শামীম হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তি উপজেলার আড্ডা বাজারে শিয়ালের মাংস বিক্রি করেন। এ সময় বিক্রেতারা শিয়ালের মাংসের নানা উপকারিতার কথা উল্লেখ করে প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন।

    মাংস বিক্রেতা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজঘাট ব্রিজ সংলগ্ন আড্ডা বাজারে শিয়ালটি জবাই করে নিজেরাই। জবাই করার পর এই বাজারে নিয়ে এলে ২ কেজির মতো বিক্রি করতে পারেন। বাকি মাংস পাশের বাগমারা বাজারে নিয়ে যান।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাংস ক্রয় করা ব্যক্তিরা জানান, মাংস বিক্রেতারা বলেছিলেন বাত-ব্যথা কিংবা কঠিন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিকল্প নেই। এ সব ক্ষেত্রে শিয়ালের মাংসই অব্যর্থ ওষুধ। তাদের এসব কথা বিশ্বাস করে মাংস ক্রয় করেন তারা।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে প্রায়ই শিয়ালের মাংস বিক্রি করা হয়। বিক্রেতা নির্দিষ্ট থাকে না। একেক সময় একেকজন এসে বিক্রি করছে।

    আড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন বাদল বলেন, ইউপি অফিস বাজারের সঙ্গেই। কিন্তু কখনোই আমার চোখে পড়েনি শিয়ালের মাংস বিক্রি করছে। আমার কাছে কেউ কোনো দিন অভিযোগ করেনি।

    এআর/এনই

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    নিউজ ডেস্ক

     রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের যুক্ত রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান হাসপাতালে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার পাশেই রয়েছেন

    বিদেশে নেয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে একান্তই তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    খালেদা জিয়াকে দেখতে জুবাইদা রহমান আজ বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডা: জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সাথে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন।’

    এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা দেশী-বিদেশী চিকিৎসকরাও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই যখনই মেডিক্যাল বোর্ড মনে করবে— তিনি ‘সেইফলি ফ্লাই’ করতে পারবেন, তখনই তাকে বিদেশে নেয়া হবে।’

    ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এ/ আর ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

    ডেস্ক নিউজঃ

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩৬ জন।

    এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮২ জনে এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে ৯৪ হাজার ৪০২ জনে দাঁড়িয়েছে।রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৪ জন, খুলনা বিভাগে ৫৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে দুজন ও সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, একজনের চট্টগ্রাম বিভাগে ও একজনের খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে।এই সময়ে ৮০৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৫ জন।২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

    এম কে

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি : রিজভী

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত, বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি : রিজভী

    ডেস্ক নিউজঃ

    বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি এখনো জটিল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।আজ রোববার রাজধানীর নয়া পল্টনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের বিষয়ে রিজভী বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হলে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। এজন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করবেন।দলের নেতাদের সাথে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের যোগাযোগ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সার্বিক শারীরিক খোঁজ-খবর মেডিক্যাল বোর্ডই দিচ্ছে।

    এম কে

  • নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    জেলা প্রতিনিধ, চুয়াডাঙ্গা :

     

    কৃষিেত পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মার্কেট লিংকেজ কর্মশালা অনুইষ্ঠত হয়েছে।  ২৬ নভেম্বর বুধবার দুপুরে  দামুড়হুদার কোষাঘাটার গো গ্রীন সেন্টার ট্রেনিং রুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি সম্প্রসারণকল্পে এগ্রো ইকোলজিকাল লার্নিং সেন্টার প্রতীষ্ঠা শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ প্রকল্প’-এর আওতায় এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।

    কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আল-সাবা।

     অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি পণ্য উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।  এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
     অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক  এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও কৃষকদেরকে অবহিত করা হয়। অতিরিক্ত টিএসপি সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে পিএইচ এর মাত্রা কমে যাচ্ছে বলে কৃষকদেরকে সতর্ক করেন  এই কর্মকর্তা। এসময় কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
    কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ। প্রধান সমন্বয়কারী এগ্রো ইকোলজিকাল প্রকল্পশাখাওয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা এগ্রো-এর উদ্যোক্তা ইরফান বিশ্বাস এবং মর্ডান এগ্রো এর সেলিম রেজা।
    কর্মশালায় উপস্থিত কৃষকদের পরিবেশসম্মত কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন উপায় নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
    বি/এ
  • ৪১% রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক

    ৪১% রোগীর শরীরে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রোগীদের ৪১ শতাংশের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

    সোমবার আইইডিসিআর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট-২০২৫’ প্রকাশ করে।

    এ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও জীবাণুর শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স—যেখানে জীবাণু কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দেয় না।

    প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ৯৬ হাজার ৪৭৭ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পাঁচটি আইসিইউতে ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    প্রতিবেদন অনুসারে, সব নমুনার ৭ শতাংশে প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণু পাওয়া গেছে। আইসিইউতে এই হার ৪১ শতাংশ। মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণু সব নমুনার ৪৬ শতাংশ হলেও আইসিইউতে তা ৮৯ শতাংশ।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শ্রেণি বিভাগ অনুযায়ী, ওয়াচ গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেড়ে ৭৭ শতাংশ থেকে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৯ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) ও মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)।

    প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভাইরোলজি) অধ্যাপক জাকির হোসেন হাবিব।

    এ সময় তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। জনগণের সচেতনতা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না। অনেক রোগী দোকানের কর্মী বা অবৈধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নেন, যা রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ। মানুষ প্রায়শই ফার্মেসি বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে অ্যান্টিবায়োটিক নেন, চিকিৎসা পরামর্শ ছাড়াই এবং এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আমি সবাইকে জোর দিয়ে বলছি, নিবন্ধিত নয় এমন কারও পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।’

    জাকির হোসেন হাবিব বলেন, যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াই জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এই এএমআর এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট।

    সবাইকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্ক হতে আহ্বান জানিয়ে হাবিব বলেন, সেভ অ্যান্টিবায়োটিক, সেভ ইয়োরসেলফ।

    জরিপ অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত মোট অ্যান্টিবায়োটিকের ৫৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয় ঢাকায়। চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় রাজধানীতে এই হার তুলনামূলক বেশি। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (ইউটিআই) আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের উচ্চ প্রবণতা দেখা গেছে।

    সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক হলো সেফট্রিয়াক্সোন, সেফিক্সিম, মেরোপেনেম, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, আজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন, মেট্রোনিডাজল, ক্লক্সাসিলিন, পিপেরাসিলিন-ট্যাজোব্যাকটাম ও ভ্যানকোমাইসিন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করবে।

    সুত্র: আমার  দেশ

    বি/এ